বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৩ পি.এম
হামজা চৌধুরী ছিলেন অনুপস্থিত। শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে তপু বর্মণও খেলতে পারেননি। ফলে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিরুদ্ধে মাঠে নামে বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে কোচ টমাস ডুলির দল।
বাংলাদেশের একের পর এক আক্রমণে ভুটান দল তটস্থ হয়ে পড়ে। স্বাগতিকদের আক্রমণ ঠেকানো যেন তাদের জন্য একটি বড় দায় হয়ে দাঁড়ায়। তবে, আধিপত্য বিস্তার করেও বিরতির আগে গোলের মুখ খুলতে পারেনি বাংলাদেশ। গোল না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে তারা প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে।
রাকিব, জামাল, বিশ্বনাথরা গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তারা সফল হতে পারেননি। ৫ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিব বিশ্বনাথের দিকে ক্রস বাড়ান। কিন্তু ভুটানের রক্ষণভাগের বাধায় বিশ্বনাথ বল ধরে রাখতে পারেননি। যদিও বক্সের মধ্যে বল পেয়ে জোরালো শট নিলেও গোল পাননি জামাল।
১৭ মিনিটে গোলের আরেকটি সম্ভাবনা তৈরি হয়। রাকিবের ক্রসে হেড নিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়। ২২ মিনিটে জামালের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে বল গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ২৬ মিনিটে কর্নার থেকে ভুটানের গোলমুখে আতঙ্ক ছড়ান। ৩৯ মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু শট নিলেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। এরপর ডান দিক থেকে রাকিব পাস দিয়েছিলেন। কিন্তু গোলরক্ষকের দক্ষতায় ভুটান এ যাত্রায় বেঁচে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) একক মোটর প্রদর্শনী ‘বারভিডা এক্সপো ২০২৬’। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর সূচনা হয়েছে, যেখানে প্রথম দিন থেকেই গাড়িপ্রেমী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই তিন দিনব্যাপী আয়োজন চলবে।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের আকর্ষণীয় গাড়িগুলো সারি সারি সাজানো রয়েছে। হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) থেকে শুরু করে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন সেডান, এসইউভি ও মাইক্রোবাস—সব মিলিয়ে রয়েছে গাড়ির বৈচিত্র্যময় সমাহার। প্রতিটি স্টলে গাড়ির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রয় প্রতিনিধিরা।
বিক্রয় প্রতিনিধিরা দর্শনার্থীদের গাড়ির পারফরম্যান্স, জ্বালানি সাশ্রয়, নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য মেলা উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ মূল্যছাড় ও গিফট ভাউচারের ব্যবস্থা রেখেছে।
এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্টলও রয়েছে। সেখান থেকে সম্ভাব্য ক্রেতারা গাড়ি কেনার ঋণ ও বীমাসংক্রান্ত সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারছেন। ফলে পছন্দের গাড়ি দেখা থেকে শুরু করে অর্থায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যও এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মেলায় চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ পছন্দের গাড়ির ভেতর-বাইরের নকশা ও সুযোগ-সুবিধা যাচাই করছেন, কেউ আবার একাধিক ব্র্যান্ডের গাড়ির দাম ও বৈশিষ্ট্য তুলনা করছেন।
দর্শনার্থীদের মতে, একই জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি দেখা এবং সেগুলোর দাম ও সুযোগ-সুবিধা যাচাই করার সুযোগ ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান বলেন, "বাংলাদেশের পরিবহন খাতে জাপানি গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসা শুধু আমদানি ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও জড়িত।"
বারভিডার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকার আমদানিকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মডেলের গাড়ি নিয়ে এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে। এতে ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন মডেলের তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের পথচলা নিয়ে বিশেষ ঐতিহাসিক আয়োজন। এতে দেশে জাপানি গাড়ির আগমন, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা মডেল এবং অটোমোবাইল প্রযুক্তির বিবর্তন তুলে ধরা হচ্ছে। পুরোনো দিনের গাড়ির ছবি থেকে শুরু করে আধুনিক হাইব্রিড ও উন্নত প্রযুক্তির গাড়ির ইতিহাসও স্থান পেয়েছে এ আয়োজনে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ এক্সপোর মাধ্যমে দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে এবং দেশের অটোমোবাইল খাতের সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
বারভিডা আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা। প্রবেশে কোনো ফি নেই, তবে দর্শনার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরে ঘটে যাওয়া কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
এছাড়া, এসব অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে আগামী বৈঠকে আলোচনা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশটি উত্থাপিত হয়।
বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাগত শরণার্থী এবং গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত অ-উপজাতীয়দের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণে অনিয়ম দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কমিটি মন্ত্রণালয়কে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
এছাড়া, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের শূন্য পদ এবং এসব পদ পূরণে এখন পর্যন্ত কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সাজেক ইস্যুতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও সংসদীয় কমিটি জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের আওতায় কর্মরত পাড়াকর্মীদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের হ্রাসকৃত সম্মানী ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে চলতি অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ, তার সুষম বণ্টন, খাদ্যশস্য বরাদ্দে অনিয়ম, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
এছাড়া, আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, দীপেন দেওয়ান, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও মাছুম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আট বছর বয়সী শিশু সোহাগ হত্যার মামলায় ইমাম হোসেন, যিনি ইমন নামেও পরিচিত (২৮), আদালতের দ্বারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ প্রদান করেছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ জানান, শিশু সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তার পিতার করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটার সময় পতেঙ্গার খালপাড় এলাকায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু সোহাগ। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের সময় পূর্ব হোসেন আহমদ পাড়ার চেয়ারম্যান গলির একটি পরিত্যক্ত ভাড়া ঘর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ইমন হোসেন সোহাগকে ওই পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি বাধা দিতে গেলে সে চিৎকার করে এবং পালানোর চেষ্টা করে। তখন ইট দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করা হয়, যা ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু ঘটায়। লাশের পাশে একটি রক্তমাখা ইট পাওয়া যায়।
সোহাগের বাবা মো. ফারুক হোসেন ভূঁইয়া পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়স ছিল ২০ বছর। পরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে এবং গ্রেপ্তার করে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন সাগরে চিনা স্যাটেলাইটের নজরদারির আওতায় মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত চিনা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ (CVN-71) বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় যৌথ সামরিক মহড়া শেষে রণতরীটি ইরান উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুসারে চলতি নভেম্বরের শেষের দিকে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ওবায়দুল্লাহ জলসীমা অতিক্রম করে আরব সাগরে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, রুজভেল্ট কি পূর্বে সেখানে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’কে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ফিরে আসবে, নাকি ইতোমধ্যে অবস্থানরত ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ বুশ’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার একযোগে ইরানি সীমান্তে শক্তিপ্রদর্শন শুরু করবে?
স্যাটেলাইট ও বিমান চলাচলের তথ্য
৪ নভেম্বর ‘মিজারভিশন’ নামের চিনা একটি বাণিজ্যিক মহাকাশ সংস্থার স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার নাটুনা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস চোসিন’-এর অবস্থান। তবে ছবিগুলোর বিভ্রান্তি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তার গোপনীয়তার কারণে যুদ্ধজাহাজ বহরের সব তথ্য জনসমক্ষে আসেনি।
এছাড়া, এমএইচ-৬০এস সি হক এবং সিএমভি-২২বি অসপ্রে যুদ্ধবিমানের গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বহরটি মালাক্কা প্রণালীর দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
কেন ৩টি রণতরীর উপস্থিতি এত গুরুত্বপূর্ণ?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী যদি একই সঙ্গে আরব সাগরে অবস্থান নেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যের পরিবর্তন আনবে। এর মূল কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
ইরানের ওপর নজরদারি ও প্রতিরোধ: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষার অজুহাতে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিহত করতে বিপুল পরিমাণ ফাইটার জেট এবং নজরদারি এভিয়েশন মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হবে।
আম্ফিবিয়াস ফোর্সের সমন্বয়: মার্কিন ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ সৈন্য এবং '১৩তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট' বহরে থাকায় যেকোনো সামুদ্রিক সংকটে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।
কূটনৈতিক চুক্তি ও হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক আলোচনার মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন নেতৃত্বের সরাসরি সামরিক ব্যবস্থার যে হুমকি ছিল, এই তিনটি ক্যারিয়ারের উপস্থিতি সেই কৌশলগত চাপকে বাড়িয়ে দেবে।
প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সঙ্গে মার্কিন সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের বড় নৌ-বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনা বিমানবাহী রণতরী 'লিয়াওনিং' ইতিমধ্যেই ফিলিপাইন ও জাপানের পার্শ্ববর্তী জলসীমায় টহল দিচ্ছে এবং তাদের নতুন বিমানবাহী জাহাজ 'ফুজিয়ান' ও 'শানডং' সাগরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আমেরিকার পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একটি অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী দীর্ঘমেয়াদে রাখা মানে প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের মুখোমুখি হওয়ার সক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যাওয়া।
কৌশলগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ
যদিও ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট একটি পারমাণবিক চালিত বিমানবাহী রণতরী, তবে এর সাথে থাকা প্রচলিত শক্তির চালিত রণতরীসমূহ এবং হাজার হাজার সৈন্যের জন্য রসদ সরবরাহের চ্যালেঞ্জ থেকেই যায়। সম্প্রতি এটি চিনের নজর এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ 'এইচএমএএস স্টালওয়ার্ট'-এর মাধ্যমে মধ্য-সমুদ্রে রিফুয়েলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি রণতরী দীর্ঘমেয়াদে মোতায়েন থাকবে, নাকি নতুনটি এসে পুরনো রণতরীকে জাপানের প্রধান ঘাঁটিতে ফেরত পাঠাবে—তা আগামী কয়েক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক সামরিক বিন্যাসের ওপর নির্ভর করছে। তবে সার্বিকভাবে, মার্কিন এই নতুন শক্তিপ্রদর্শন হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ