ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১২ নিহত, নিন্দা জানালো জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ


রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১২ নিহত, নিন্দা জানালো জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ নিন্দা জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শনিবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সৌদি আরবের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি ছিল হুথিদের তৃতীয় হামলা। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

ইয়েমেনে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুথিরা। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থলযুদ্ধে সহায়তা করতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগিরই কথা বলবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব। সাম্প্রতিক হামলার খবর আমরা মাত্রই পেয়েছি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেব।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হুথিদের হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি এসব ‘নিন্দনীয় হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পুতিন ও জেলেনস্কির শিগগিরই বৈঠক হবে: ট্রাম্প

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে রুবিও লেখেন, ‘আমরা সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের পাশে আছি। নিহত ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

জাতিসংঘের উদ্বেগ

ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলাকে ‘সংঘাতের গুরুতর বিস্তার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে। পাশাপাশি সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।

আরও পড়ুন: প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ জন নিহত

মিসর, কাতার ও ফিলিস্তিনের নিন্দা

হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’। একই সঙ্গে এতে নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ ঘটেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, এ হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, বেসামরিক স্থাপনা ও বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি।

কাতার সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব যেসব বৈধ পদক্ষেপ নেবে, সেগুলোর প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দোহা।

আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।

হুথিদের হামলা সহ্য করা যায় না: জাপান

সৌদি আরবে জাপানের দূতাবাস হুথিদের বারবার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দূতাবাস বলেছে, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা কোনো পরিস্থিতিতেই সহ্য করা যায় না।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের এই প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের আরও বিস্তার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালকিনিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হাতবোমা বিস্ফোরণ, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ এম


কালকিনিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হাতবোমা বিস্ফোরণ, আহত ৩

মাদারীপুরের কালকিনি পৌর শহরের মাছবাজারসংলগ্ন বড় ব্রিজ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন বড় ব্রিজের দুই পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রনি চৌকিদার ও জহিরের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালকিনি থানা-পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রনি চৌকিদার, আহাত সরদার ও নেসার উদ্দিন নামে এক পথচারী আহত হয়েছেন। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগেশ্বরীতে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ, টিনের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ এম


নাগেশ্বরীতে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ, টিনের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ

 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডায়নারপাড় এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুলাল মিয়ার বাড়িতে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নূরনবী মিয়ার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই টিনের বেড়ায় বিদ্যুতের সংযোগ জড়িয়ে রাখার অভিযোগও উঠেছে। এতে ছোট শিশু, বৃদ্ধসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুলাল মিয়ার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বেড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের তারও জড়িয়ে রাখা হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী দুলাল মিয়া বলেন, “সম্পত্তি নিয়ে আমাদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে পূর্বপুরুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেবে? আমি এখন নিজের বাড়িতেই যেতে পারছি না। আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলাও করা হয়েছে। দেশে কি আইন নেই, বিচার নেই? বিদ্যুতের সংযোগ থাকায় এলাকাবাসীও রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে সাহস পাচ্ছেন না। আমি নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে নূরনবী মিয়া বলেন, “দুলাল মিয়া এতদিন যে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেন, সেটি আমার নিজস্ব জমি। তাঁর সঙ্গে আমার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তাই আমার জায়গা আমি বন্ধ করেছি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা খুলব না। আমি এর শেষ দেখতে চাই।” তিনি আরও দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় আদালতে পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা মামলা থাকতেই পারে। কিন্তু এভাবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টিনের বেড়ায় বিদ্যুতের সংযোগ রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে পথচারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি তদন্ত, চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় শিশুসহ ৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় শিশুসহ ৯ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে একটি বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর হামলাকারী ভেতরে প্রবেশ করেন।

পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলাকারী নিজের ছোড়া গুলিতেই মারা গেছেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে গুলির শব্দ শুনে পুলিশকে একটি বাড়িতে ডাকা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বন্দুকধারীকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়।

পরে তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাড়ির বাইরের রাস্তায় দুই নারীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর পুলিশ ও বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে আরও সাতজনের মরদেহ পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

ইরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এ হত্যাকাণ্ডকে তার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক।" পুলিশপ্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, "তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।"

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রিক লোরাহ বলেন, "এই ঘটনায় যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই।"

শনিবারেও হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছিল। তবে হামলার কারণ বা হামলার আগে বাড়িটিতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরি শহর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ইরির এ হত্যাকাণ্ড চলতি বছরে দেশটিতে অন্তত ১৯তম গণহত্যার ঘটনা। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ নিহত হলে সেটিকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ ধরনের অনেক ঘটনায় হামলাকারী নিজের পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করেন। এসব ঘটনাকে পারিবারিক হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করা হয়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—তারা মারা গেছেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ফেডারেল আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি ও সুয়ারেজের জোড়া গোলে ইন্টার মায়ামির বড় জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


মেসি ও সুয়ারেজের জোড়া গোলে ইন্টার মায়ামির বড় জয়

কিছুদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে ক্লাবে ফিরে এসে এই আর্জেন্টাইন তারকা চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ও সুয়ারেজের জোড়া গোলের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামিকে একটি বড় জয় এনে দিয়েছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডি.সি. ইউনাইটেডকে ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে ইন্টার মায়ামি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করতে থাকে ইন্টার মায়ামি। তৃতীয় মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

দুটি গোলেই সহায়তা করেন জার্মান বেরতেরামে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ান আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ৪৭ মিনিটে গোল করার পর ৬০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় ইন্টার মায়ামির।

ম্যাচে মেসি ও সুয়ারেজ দুজনেই দুটি করে গোল করেন। অন্যদিকে, ইন্টার মায়ামির রক্ষণ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ডি.সি. ইউনাইটেড কোনো গোল করতে পারেনি।

এই জয়ের মাধ্যমে এমএলএসে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার হতাশা কাটিয়ে উঠল ইন্টার মায়ামি। এর আগে দলটি পাঁচ ম্যাচে জয় পায়নি, যেখানে একটি ম্যাচে হার এবং চারটি ম্যাচে ড্র করেছিল।

মেসি ও সুয়ারেজের এই পারফরম্যান্স মৌসুমের শেষ পর্যায়ে ইন্টার মায়ামির আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%