০১:০৭ পি.এম
মালয়েশিয়ায় কাজ করার জন্য ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষা অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হবে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে। এর আগে কোনো মেডিকেল পরীক্ষা করা যাবে না। খুব শিগগিরই অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: আগামী ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা
এ অবস্থায়, কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখুন। যদি কোনো মেডিকেল সেন্টার সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনো মেডিকেল পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে পারবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমতি ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেয়ার চেষ্টা করছে, যা মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ার জন্য এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিডিআর ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করা এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে। অবৈধ বা অনুমোদনহীন মেডিকেল পরীক্ষা বা এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে কর্মীদের ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে (ইমেইল[email protected])।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ওটিপি না দেওয়ার সতর্কতা
কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখবে। সব সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। জনস্বার্থে সরকারি এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এছাড়া, বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিপুলসংখ্যক কর্মী সেখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়।
আরও পড়ুন: গুগল ম্যাপে বিশ্বসেরা ৪.৮ রেটিং পেল টরন্টোর বাংলাদেশ কনস্যুলেট
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না। সরকার চায়, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনো ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান।
যেভাবে পরিচালিত হবে নিয়োগ ব্যবস্থা
জব অর্ডার সংগ্রহ
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে জব অর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে
কর্মী নির্বাচন
যে এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে।
মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং
যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
আরও পড়ুন: মরিয়া জনতা ব্যাংক, আরব আমিরাতে কার্যক্রম চালু রাখতে চায়
বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স
মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমে তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, জব অর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।
সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপ বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন