ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরই ব্যবস্থা, আসামবস্তি শ্মশানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল


ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরই ব্যবস্থা, আসামবস্তি শ্মশানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

রাঙ্গামাটি শহরের অন্যতম বৃহৎ আসামবস্তি হিন্দু-বৌদ্ধ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্মশানের সমস্যা নিয়ে প্রকাশিত একটি স্ট্যাটাস নজরে আসার পর তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জানা যায়, শ্মশানটির সংস্কার ও পানির সংকট নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বিরসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপন করা হয়।
এর ফলে মৃতদেহ সৎকারের সময় দীর্ঘদিনের পানির অভাবজনিত ভোগান্তি অনেকাংশে দূর হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
শ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, গত ১৭-১৮ বছরে শ্মশানটির উন্নয়নে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি প্রবেশ সড়কের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। তারা বলেন, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল যে মানবিকতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন, তা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি তিনি শ্মশানের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্নের আশ্বাসও দিয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির বলেন, “পাহাড়ের মানুষের সমস্যা ও চাহিদার বিষয়ে ব্যারিস্টার মীর হেলাল সবসময় সচেতন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দ্রুত স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করেছি। শ্মশানের আরও উন্নয়নমূলক প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কাজ চলছে।”
শ্মশান কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে শ্মশানের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। পানির স্থায়ী ব্যবস্থা হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছি।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, শ্মশান কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আসামবস্তি হিন্দু-বৌদ্ধ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক ও শিব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবলা মিত্র, মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) সাধারণ সম্পাদক নয়ন মার্মা, শ্মশান পরিচালনা কমিটির উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক বাবুল নাথ, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির, সাবেক সহ-সভাপতি খুরশিদ আলম রাজু, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ ওমর মোরশেদ, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রনি দে প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: আদ্-দ্বীনের দুই কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


সাংবাদিকদের ওপর হামলা: আদ্-দ্বীনের দুই কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কর্মীকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ এবং কোম্পানি বিষয়াবলির পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং এর পর ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মী হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ তাদের বাধা দেয়।

আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন সংবাদকর্মী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন, এতে কর্মীরা অপমানিত বোধ করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের হাসপাতাল ছাড়ার অনুরোধ করেন। এই অবস্থায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেছিল। পরে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত করে দুই কর্মীকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তবে সামাজিক মর্যাদার স্বার্থে ওই কর্মীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের জন্য একটি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা সুবিধাজনক সময়ে হবে।

আজ বিকেলে, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে, প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ জানালেন, বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এসময়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তাঁর এই সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার একটি প্রথম পদক্ষেপ।

এই লক্ষ্যে, উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

এ ছাড়াও, দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এভাবে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রিপ্টোকারেন্সির যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


ক্রিপ্টোকারেন্সির যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক

বিটকয়েনের দাম সম্প্রতি কমে প্রায় ৬০ হাজার ডলারের কাছাকাছি নেমে আসায় এটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এই ডিজিটাল মুদ্রার দাম যখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায় বা বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে, তখনই এটি সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়। ২০২৬ সালেও এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এমনকি এক পর্যায়ে বিটকয়েনের দাম এমন স্তরে নেমে আসে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগের সময়ের পর আর দেখা যায়নি।

যাই হোক, ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই সামনে আসে কিছু জটিল পরিভাষা, যেমন ইটিএফ, ব্লকচেইন, স্টেবলকয়েন কিংবা হালভিং। নতুনদের কাছে এসব শব্দ অনেক সময় বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। তাই ক্রিপ্টোকারেন্সির জগতে বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও সেগুলোর অর্থ তুলে ধরা হলো।

ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা উঠলেই সবার আগে আসে বিটকয়েনের নাম। এটি এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা, যা প্রচলিত মুদ্রার মতো কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় অনেকের কাছে এটি আর্থিক স্বাধীনতার প্রতীক। তবে একই কারণে এর মূল্য অত্যন্ত অস্থির। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে এর দাম দ্রুত বাড়তে বা কমতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অথচ একসময় তিনিই বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিটকয়েন প্রথমবারের মতো ১ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এর দাম বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে পৌঁছায়। একই বছরের অক্টোবরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক বাজার পরিস্থিতির কারণে এর মূল্য প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।

তবে দাম বাড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের পতনের ইতিহাসও রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিটকয়েনের মূল্য ৬৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। সম্প্রতি ৫ জুন এটি ৬২ হাজার ডলারেরও নিচে নেমে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিকে বিটকয়েনের রহস্যময় উদ্ভাবক সাতোশি নাকামোতোর প্রকৃত পরিচয় নিয়েও এখনো জল্পনা-কল্পনা চলছে।

ব্লকচেইন হলো সেই প্রযুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে বিটকয়েনসহ অধিকাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং এনএফটি পরিচালিত হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি একটি ডিজিটাল খতিয়ান বা ভার্চুয়াল স্প্রেডশিট, যেখানে সব লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

এসব তথ্য ব্লক আকারে সাজানো হয় এবং একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ শৃঙ্খল তৈরি করে। সেখান থেকেই এসেছে ‘ব্লকচেইন’ নামটি।

ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতিটি লেনদেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের একটি নেটওয়ার্ক যাচাই করে। তারা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করে।

বিটকয়েন নেটওয়ার্কে লেনদেন যাচাইকারীদের বলা হয় মাইনার। তারা লেনদেন যাচাই করার বিনিময়ে বিটকয়েন পুরস্কার হিসেবে পান। তবে বিটকয়েনের মোট সরবরাহ সীমিত। সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন তৈরি করা সম্ভব এবং এর বড় অংশ এরই মধ্যে বাজারে রয়েছে।

এই কারণে প্রতি চার বছর পরপর, অথবা নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্লক তৈরি হওয়ার পর, মাইনারদের দেয়া পুরস্কার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘হালভিং’। সর্বশেষ হালভিং অনুষ্ঠিত হয় ২০ এপ্রিল ২০২৪। তখন প্রতি ব্লকের পুরস্কার ৬ দশমিক ২৫ বিটকয়েন থেকে কমে ৩ দশমিক ১২৫ বিটকয়েনে নেমে আসে।

এভাবে বিটকয়েনের সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব হয়। তবে পুরস্কার কমে যাওয়ায় অনেকের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে মাইনিং কতটা লাভজনক থাকবে।

ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা ও লেনদেন করতে পারেন। এটি মূলত দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

এখানে ব্যবহারকারীরা ডলার অথবা পাউন্ডের মতো প্রচলিত মুদ্রার বিনিময়ে বিটকয়েন, ইথেরিয়ামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে পারেন। অধিকাংশ লেনদেনের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্রিপ্টো ওয়ালেট। এটি সাধারণত দুই ধরনের হয়—হট ওয়ালেট এবং কোল্ড ওয়ালেট। হট ওয়ালেট ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ফলে এটি দ্রুত লেনদেন এবং সহজ ব্যবহারের সুবিধা দেয়।

অন্যদিকে কোল্ড ওয়ালেট হলো ইউএসবি ডিভাইসের মতো বিশেষ হার্ডওয়্যার, যেখানে অফলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য এটি বেশি জনপ্রিয়।

বিটকয়েনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো ইথেরিয়াম। একই সঙ্গে এটি একটি ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্মও, যার ওপর বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ও এনএফটি তৈরি করা যায়।

বিটকয়েনের মতোই এটি একটি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা। তবে ২০২২ সালে ইথেরিয়াম এমন একটি নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়, যার জন্য তুলনামূলক কম কম্পিউটিং শক্তি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

ইটিএফ হলো এমন একটি বিনিয়োগ তহবিল, যা বিনিয়োগকারীদের সরাসরি কোনো সম্পদ না কিনেও তার মূল্যের ওঠানামায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়। শেয়ারের মতোই এটি স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়। একটি ইটিএফে স্বর্ণ, রুপা, প্রযুক্তি কোম্পানি কিংবা বিভিন্ন ধরনের সম্পদের সমন্বয় থাকতে পারে।

স্পট বিটকয়েন ইটিএফ সরাসরি বিটকয়েনের বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক স্পট বিটকয়েন ইটিএফ অনুমোদন করে। এর ফলে ব্ল্যাকরক ও ফিডেলিটির মতো বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহারের ঝামেলা ছাড়াই বিটকয়েনে বিনিয়োগের সুযোগ পায়।

মিম কয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা মূলত মজা, প্রচারণা এবং জল্পনা-কল্পনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কোনো ট্রেন্ড বা ভাইরাল মিমকে কেন্দ্র করে এসব কয়েন চালু করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ইন্টারনেটে জনপ্রিয় বামন জলহস্তী ‘মু ডেং’-এর নাম উল্লেখ করা যায়।

তবে উচ্চ ঝুঁকি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে মিম কয়েন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর দাম দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে না। এছাড়া ‘রাগ পুল’ নামে পরিচিত প্রতারণার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েনের নির্মাতারা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে দাম বাড়িয়ে পরে হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

স্টেবলকয়েন এমন একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল লক্ষ্য হলো মূল্য স্থিতিশীল রাখা। এই ধরনের কয়েন সাধারণত ডলার বা পাউন্ডের মতো প্রচলিত মুদ্রার সঙ্গে মূল্য সংযুক্ত করে পরিচালিত হয়। ফলে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির তুলনায় এর দামের ওঠানামা তুলনামূলক কম হয়।

স্টেবলকয়েন সাধারণত ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এর লেনদেন ডিজিটাল লেজারে সংরক্ষিত থাকে। অনেকেই একে ভবিষ্যতের আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে অতীতে কিছু স্টেবলকয়েনের বড় ধরনের মূল্যপতনের ঘটনা নিয়ন্ত্রকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং এর প্রকৃত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এক্সআরপি হলো একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা এক্সআরপি লেজার নামের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়। ২০১২ সালে রিপল ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতারা এটিকে বিটকয়েনের তুলনায় দ্রুত ও কম খরচের বিকল্প হিসেবে তৈরি করেন।

এক্সআরপির মোট সরবরাহ ১০০ বিলিয়ন কয়েনে সীমাবদ্ধ, যা শুরুতেই তৈরি করা হয়েছিল। এর বড় অংশ রিপলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হয়।

বিটকয়েনের মতো মাইনিংয়ের পরিবর্তে এক্সআরপিতে লেনদেন যাচাই করা হয় ‘কনসেনসাস’ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ কোনো লেনদেন বৈধ কি না, সে বিষয়ে নেটওয়ার্কের অধিকাংশ ভ্যালিডেটর একমত হওয়ার পরই তা অনুমোদিত হয়।

এই পদ্ধতিতে দ্রুত ও কম খরচে বিপুল সংখ্যক লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। ফলে আন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক্সআরপি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এটিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি এবং মূল্য অস্থিরতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয়দের নিয়ে অপপ্রচার, হঠাৎ কেন এত কঠোর সিঙ্গাপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


ভারতীয়দের নিয়ে অপপ্রচার, হঠাৎ কেন এত কঠোর সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর ভারতীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ কারণে ওই সম্পর্কিত পোস্টগুলো ব্লক বা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল যে দেশটি ভারতীয়দের দ্বারা অধিকৃত হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কনটেন্টগুলোর মূল উৎস সম্ভবত চীনভিত্তিক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে থেকে পরে সেগুলো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এসব পোস্টে ভারতীয়দের সংখ্যা অতিরিক্ত দাবি করে প্রমাণ হিসেবে লিটল ইন্ডিয়ার জনাকীর্ণ রাস্তা এবং প্যাগোডা স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় উৎসবের ছবি ও ভিডিও বেছে বেছে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের উপস্থাপনাকে বিভ্রান্তিকর এবং প্রণোদিত হিসেবে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

সরকার বলছে, এই ধরনের কনটেন্ট সিঙ্গাপুরের বহুসংস্কৃতিবাদের মডেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উগ্র স্বদেশপ্রেম এবং অভিবাসী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। বিশেষ করে বিদেশি উৎস থেকে ছড়ানো এ ধরনের কনটেন্টকে দ্বিগুণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, দেশটির আইনমন্ত্রী এডউইন টং জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এসব পোস্ট কোনো বিদেশি সরকারের সমন্বিত প্রচারণার অংশ—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কনটেন্টগুলো বিভিন্ন বিদেশি নেটিজেনের স্বতঃস্ফূর্ত কার্যকলাপের ফল।

সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%