ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্রিপ্টোকারেন্সির যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক


ক্রিপ্টোকারেন্সির যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক

বিটকয়েনের দাম সম্প্রতি কমে প্রায় ৬০ হাজার ডলারের কাছাকাছি নেমে আসায় এটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এই ডিজিটাল মুদ্রার দাম যখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায় বা বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে, তখনই এটি সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়। ২০২৬ সালেও এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এমনকি এক পর্যায়ে বিটকয়েনের দাম এমন স্তরে নেমে আসে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগের সময়ের পর আর দেখা যায়নি।

যাই হোক, ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই সামনে আসে কিছু জটিল পরিভাষা, যেমন ইটিএফ, ব্লকচেইন, স্টেবলকয়েন কিংবা হালভিং। নতুনদের কাছে এসব শব্দ অনেক সময় বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। তাই ক্রিপ্টোকারেন্সির জগতে বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও সেগুলোর অর্থ তুলে ধরা হলো।

ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা উঠলেই সবার আগে আসে বিটকয়েনের নাম। এটি এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা, যা প্রচলিত মুদ্রার মতো কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় অনেকের কাছে এটি আর্থিক স্বাধীনতার প্রতীক। তবে একই কারণে এর মূল্য অত্যন্ত অস্থির। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে এর দাম দ্রুত বাড়তে বা কমতে পারে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অথচ একসময় তিনিই বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিটকয়েন প্রথমবারের মতো ১ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এর দাম বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে পৌঁছায়। একই বছরের অক্টোবরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক বাজার পরিস্থিতির কারণে এর মূল্য প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।

তবে দাম বাড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের পতনের ইতিহাসও রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিটকয়েনের মূল্য ৬৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। সম্প্রতি ৫ জুন এটি ৬২ হাজার ডলারেরও নিচে নেমে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিকে বিটকয়েনের রহস্যময় উদ্ভাবক সাতোশি নাকামোতোর প্রকৃত পরিচয় নিয়েও এখনো জল্পনা-কল্পনা চলছে।

ব্লকচেইন হলো সেই প্রযুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে বিটকয়েনসহ অধিকাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং এনএফটি পরিচালিত হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি একটি ডিজিটাল খতিয়ান বা ভার্চুয়াল স্প্রেডশিট, যেখানে সব লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

এসব তথ্য ব্লক আকারে সাজানো হয় এবং একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ শৃঙ্খল তৈরি করে। সেখান থেকেই এসেছে ‘ব্লকচেইন’ নামটি।

ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতিটি লেনদেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের একটি নেটওয়ার্ক যাচাই করে। তারা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করে।

বিটকয়েন নেটওয়ার্কে লেনদেন যাচাইকারীদের বলা হয় মাইনার। তারা লেনদেন যাচাই করার বিনিময়ে বিটকয়েন পুরস্কার হিসেবে পান। তবে বিটকয়েনের মোট সরবরাহ সীমিত। সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন তৈরি করা সম্ভব এবং এর বড় অংশ এরই মধ্যে বাজারে রয়েছে।

এই কারণে প্রতি চার বছর পরপর, অথবা নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্লক তৈরি হওয়ার পর, মাইনারদের দেয়া পুরস্কার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘হালভিং’। সর্বশেষ হালভিং অনুষ্ঠিত হয় ২০ এপ্রিল ২০২৪। তখন প্রতি ব্লকের পুরস্কার ৬ দশমিক ২৫ বিটকয়েন থেকে কমে ৩ দশমিক ১২৫ বিটকয়েনে নেমে আসে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

এভাবে বিটকয়েনের সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব হয়। তবে পুরস্কার কমে যাওয়ায় অনেকের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে মাইনিং কতটা লাভজনক থাকবে।

ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা ও লেনদেন করতে পারেন। এটি মূলত দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

এখানে ব্যবহারকারীরা ডলার অথবা পাউন্ডের মতো প্রচলিত মুদ্রার বিনিময়ে বিটকয়েন, ইথেরিয়ামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে পারেন। অধিকাংশ লেনদেনের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্রিপ্টো ওয়ালেট। এটি সাধারণত দুই ধরনের হয়—হট ওয়ালেট এবং কোল্ড ওয়ালেট। হট ওয়ালেট ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ফলে এটি দ্রুত লেনদেন এবং সহজ ব্যবহারের সুবিধা দেয়।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

অন্যদিকে কোল্ড ওয়ালেট হলো ইউএসবি ডিভাইসের মতো বিশেষ হার্ডওয়্যার, যেখানে অফলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য এটি বেশি জনপ্রিয়।

বিটকয়েনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো ইথেরিয়াম। একই সঙ্গে এটি একটি ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্মও, যার ওপর বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ও এনএফটি তৈরি করা যায়।

বিটকয়েনের মতোই এটি একটি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা। তবে ২০২২ সালে ইথেরিয়াম এমন একটি নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়, যার জন্য তুলনামূলক কম কম্পিউটিং শক্তি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

ইটিএফ হলো এমন একটি বিনিয়োগ তহবিল, যা বিনিয়োগকারীদের সরাসরি কোনো সম্পদ না কিনেও তার মূল্যের ওঠানামায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়। শেয়ারের মতোই এটি স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়। একটি ইটিএফে স্বর্ণ, রুপা, প্রযুক্তি কোম্পানি কিংবা বিভিন্ন ধরনের সম্পদের সমন্বয় থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

স্পট বিটকয়েন ইটিএফ সরাসরি বিটকয়েনের বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক স্পট বিটকয়েন ইটিএফ অনুমোদন করে। এর ফলে ব্ল্যাকরক ও ফিডেলিটির মতো বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহারের ঝামেলা ছাড়াই বিটকয়েনে বিনিয়োগের সুযোগ পায়।

মিম কয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা মূলত মজা, প্রচারণা এবং জল্পনা-কল্পনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কোনো ট্রেন্ড বা ভাইরাল মিমকে কেন্দ্র করে এসব কয়েন চালু করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ইন্টারনেটে জনপ্রিয় বামন জলহস্তী ‘মু ডেং’-এর নাম উল্লেখ করা যায়।

তবে উচ্চ ঝুঁকি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে মিম কয়েন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর দাম দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে না। এছাড়া ‘রাগ পুল’ নামে পরিচিত প্রতারণার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েনের নির্মাতারা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে দাম বাড়িয়ে পরে হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

স্টেবলকয়েন এমন একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল লক্ষ্য হলো মূল্য স্থিতিশীল রাখা। এই ধরনের কয়েন সাধারণত ডলার বা পাউন্ডের মতো প্রচলিত মুদ্রার সঙ্গে মূল্য সংযুক্ত করে পরিচালিত হয়। ফলে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির তুলনায় এর দামের ওঠানামা তুলনামূলক কম হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

স্টেবলকয়েন সাধারণত ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এর লেনদেন ডিজিটাল লেজারে সংরক্ষিত থাকে। অনেকেই একে ভবিষ্যতের আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে অতীতে কিছু স্টেবলকয়েনের বড় ধরনের মূল্যপতনের ঘটনা নিয়ন্ত্রকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং এর প্রকৃত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এক্সআরপি হলো একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা এক্সআরপি লেজার নামের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়। ২০১২ সালে রিপল ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতারা এটিকে বিটকয়েনের তুলনায় দ্রুত ও কম খরচের বিকল্প হিসেবে তৈরি করেন।

এক্সআরপির মোট সরবরাহ ১০০ বিলিয়ন কয়েনে সীমাবদ্ধ, যা শুরুতেই তৈরি করা হয়েছিল। এর বড় অংশ রিপলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হয়।

বিটকয়েনের মতো মাইনিংয়ের পরিবর্তে এক্সআরপিতে লেনদেন যাচাই করা হয় ‘কনসেনসাস’ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ কোনো লেনদেন বৈধ কি না, সে বিষয়ে নেটওয়ার্কের অধিকাংশ ভ্যালিডেটর একমত হওয়ার পরই তা অনুমোদিত হয়।

এই পদ্ধতিতে দ্রুত ও কম খরচে বিপুল সংখ্যক লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। ফলে আন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক্সআরপি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এটিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি এবং মূল্য অস্থিরতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয়দের নিয়ে অপপ্রচার, হঠাৎ কেন এত কঠোর সিঙ্গাপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


ভারতীয়দের নিয়ে অপপ্রচার, হঠাৎ কেন এত কঠোর সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর ভারতীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ কারণে ওই সম্পর্কিত পোস্টগুলো ব্লক বা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল যে দেশটি ভারতীয়দের দ্বারা অধিকৃত হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কনটেন্টগুলোর মূল উৎস সম্ভবত চীনভিত্তিক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে থেকে পরে সেগুলো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এসব পোস্টে ভারতীয়দের সংখ্যা অতিরিক্ত দাবি করে প্রমাণ হিসেবে লিটল ইন্ডিয়ার জনাকীর্ণ রাস্তা এবং প্যাগোডা স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় উৎসবের ছবি ও ভিডিও বেছে বেছে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের উপস্থাপনাকে বিভ্রান্তিকর এবং প্রণোদিত হিসেবে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

সরকার বলছে, এই ধরনের কনটেন্ট সিঙ্গাপুরের বহুসংস্কৃতিবাদের মডেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উগ্র স্বদেশপ্রেম এবং অভিবাসী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। বিশেষ করে বিদেশি উৎস থেকে ছড়ানো এ ধরনের কনটেন্টকে দ্বিগুণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, দেশটির আইনমন্ত্রী এডউইন টং জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এসব পোস্ট কোনো বিদেশি সরকারের সমন্বিত প্রচারণার অংশ—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কনটেন্টগুলো বিভিন্ন বিদেশি নেটিজেনের স্বতঃস্ফূর্ত কার্যকলাপের ফল।

সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইরান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইরান!

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন দাবি প্রকাশ করেছেন যে, ইরান এখন নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। ফ্রিডম পডকাস্টে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু নাপোলিটানো সঙ্গে আলোচনা করার সময় জনসন এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো দাবি করেন যে, এ বিষয়ক বিষয়াদি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি ‘রেড অ্যালার্ট’ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। জনসনের এই দাবি সামনে আসার পর গত ২৯ মে ইসহাক দার ও মার্কো রুবিওর বৈঠক নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটির উদ্দেশ্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিগুলিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইসলামাবাদ বলেছে যে, পারমাণবিক কার্যক্রম সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য পাকিস্তান শেয়ার করেছে—এমন খবর ভিত্তিহীন, অনুমাননির্ভর এবং মিথ্যা। ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারও একই ধরনের দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। জনসন বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধের পেছনেও এই পরিস্থিতির ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে তথ্য পায়, সে উদ্দেশ্যে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে অনিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসব আলোচনা করে থাকতে পারে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল ল্যারি জনসন দাবি করেছিলেন, পারমাণবিক কোডে প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জেনারেল ড্যান কেইনের বিরোধ হয়েছিল। সেই দাবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পডকাস্টে অংশ নিয়ে ইরানি শিক্ষাবিদ ও উপদেষ্টা ড. সাইয়েদ মোহাম্মদ মারান্দিকে ফোনালাপের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কিছু নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হতে পূর্ববর্তী ধর্মীয় নির্দেশনা থাকলেও, ভবিষ্যতে নতুন ফতোয়ার মাধ্যমে নীতিগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদিও বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানের সাবেক প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ফতোয়া অনুযায়ী, গণবিধ্বংসী অস্ত্র উৎপাদন ও মজুত রাখা ‘হারাম’। তথ্যসূত্র: উইওন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই পরিবর্তন নিয়ে সাফের শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


দুই পরিবর্তন নিয়ে সাফের শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ নারী দল স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ভারতকে মোকাবিলায় বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার একাদশে দু’টি পরিবর্তন এনেছেন।

শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ম্যাচে জিততে পারলে বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে সুরভী আকন্দ প্রীতি ও উমহেলা মারমা বাদ পড়েছেন। তাদের পরিবর্তে একাদশে ফিরে এসেছেন অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন।

গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে উপস্থিত না থাকা আফঈদা খন্দকারকে আবারও নতুন করে সুযোগ দিয়েছেন কোচ বাটলার।

এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে ভারতের আধিপত্য ছিল। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি শিরোপা জিতে তারা একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। তবে গত কয়েক বছর বাংলাদেশ সেই চিত্র পরিবর্তন করেছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এবার ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা জয়ের চ্যালেঞ্জ ঋতুপর্ণাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশের একাদশ:

মিলি আক্তার (গোলকিপার), আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, সুরভী আরফিন, ঋতুপর্ণা চাকমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাতিজার দায়ের আঘাতে প্রাণ গেল চাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


ভাতিজার দায়ের আঘাতে প্রাণ গেল চাচার

জামালপুরের সদর উপজেলার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার দা’য়ের কোপের ফলে ট্রাকচালক চাচা আব্দুল হক মিয়া (৪৫) খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী জুলেখা বেগম (৪০) স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরের দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হক মিয়া হচ্ছেন এলাকার মনছুর মিয়ার ছেলে। ভাতিজার ধারালো দা'য়ের কোপে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আহত জুলেখা বেগম, নিহত আব্দুল হক মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাচা আব্দুল হক মিয়া ও তার ভাতিজা সালাম মিয়ার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করার সময় চাচা ও ভাতিজার মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ভাতিজা সালাম ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে চাচা আব্দুল হক মিয়াকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই চাচা আব্দুল হক মিয়া প্রাণ হারান। এ সময় স্বামীকে রক্ষার প্রচেষ্টায় আহত হন তার স্ত্রী জুলেখা বেগম। পরবর্তীতে স্থানীয়রা জুলেখাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার পর থেকেই ভাতিজা সালাম মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হক মিয়া নামে একজন খুন হয়েছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। তবে অভিযুক্ত কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%