ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চার ফ্লাইটে সিআইআইডির ব্যাপক অভিযান : ৪২ লাখ টাকার পণ্য উদ্ধার


চার ফ্লাইটে সিআইআইডির ব্যাপক অভিযান : ৪২ লাখ টাকার পণ্য উদ্ধার

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একদিনে একাধিক ফ্লাইটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) একটি বড় ধরনের সাফল্য পেতে সক্ষম হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ শনিবার এয়ারপোর্ট সি-শিফটের পৃথক অভিযানে মোট ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, ২ হাজার ৫৮৯ পিস শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য ওষুধ, ৫১ কার্টুন সিগারেট, ৩১ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম, ৭০৮ পিস নিষিদ্ধ সিরাম এবং ৬ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে। আটককৃত পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শ্রীলংকা এয়ারলাইনস-এর ইউএল১৮৯ (কলম্বো-ঢাকা) ফ্লাইটে এক যাত্রী অবৈধভাবে স্বর্ণ নিয়ে ঢাকায় আসবেন। এ তথ্য পাওয়ার পর সি-শিফটের কর্মকর্তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক নজরদারি শুরু করেন।

ফ্লাইটটি আনুমানিক দুপুর ১২টায় অবতরণের পর ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ সংগ্রহ শেষ করে মো. পারভেজ নামের এক যাত্রী গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।

একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত ট্রলির বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে কৌশলে লুকানো ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে তার লাগেজে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় ২ হাজার ৫৮৯ পিস শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য ওষুধ।

যাত্রী এসব ওষুধ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতিপত্র ও প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। ফলে স্বর্ণ ও ওষুধসহ সংশ্লিষ্ট পণ্য ডিএম-এর মাধ্যমে আটক করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক আরেকটি অভিযানে এয়ার ইন্ডিয়া-এর এআই২৩৭ ফ্লাইটে আগত জনি মিয়া নামে এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৬ লিটার গ্রান্টস ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ আটক করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

একই দিনে এমিরেটস এর ইকে ০৫৮৬ ফ্লাইটে আগত মো. মিজানুর রহমান নামে এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৯ কার্টুন সিগারেট এবং ৭০৮ পিস পাকিস্তানি হোয়াটিং সিরাম আটক করেন সি-শিফটের কর্মকর্তারা। আটককৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১০০ টাকা।

অন্য এক অভিযানে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এর বিএস৩১৬ ফ্লাইটে আগত সুমা বেগম নামে এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৩০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম আটক করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।

১৫ আগস্টের সার্বিক অভিযানে সি-শিফট ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, ২ হাজার ৫৮৯ পিস ওষুধ, ৫১ কার্টুন সিগারেট, ৩১ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম, ৭০৮ পিস নিষিদ্ধ সিরাম এবং ৬ লিটার বিদেশি মদ আটক করেছে। সব মিলিয়ে আটককৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং এবং নিবিড় নজরদারির সমন্বয়ে একই দিনে একাধিক ফ্লাইটে পরিচালিত এসব অভিযান বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে সিআইআইডির সক্রিয় তৎপরতার প্রতিফলন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লন্ডনের বিলাসী শহরে আরবদের আয়েশি জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ এম


লন্ডনের বিলাসী শহরে আরবদের আয়েশি জীবন

লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে যখন ঘড়ির কাঁটায় সকাল দশটা, তখন গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলা শুরু করেছেন, এটিই আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল হতে পারে। অক্সফোর্ড স্ট্রিটের বিখ্যাত সেলফ্রিজেস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বাইরে যখন রোদ চুঁইয়ে পড়ছে রাজপথে, তখন একটি গৃহহীন মানুষ দুটি মুদ্রার জন্য হাত পাতছেন। পাশেই পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত দৈনিক খবরের কাগজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দাবানলের ভয়াবহতা সম্পর্কিত নতুন খবর প্রকাশ হচ্ছে।

কিন্তু সেলফ্রিজের ভেতরে প্রবেশ করলে শহরের এই রুক্ষ রূপ উধাও হয়ে যায়। সেখানে আধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং কুলকুল করে চলছে। একটি কাউন্টারে সুবাসিত আরবি কফির বিক্রি চলছে, একদিকে সৌদি আরবের প্রচারও চলছে। এই বিখ্যাত ডিপার্টমেন্ট স্টোরের প্রায় ৪০ শতাংশ মালিকানা এখন সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের হাতে রয়েছে।

ঠিক গত সপ্তাহেই এই সেলফ্রিজেস থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। কাছাকাছি নর্থ অডলে স্ট্রিটে হাঁটার সময় সুদানের চলমান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর দেশের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রতিবাদকারী ওই সুদানি যুবক চিৎকার করে বলেছিলেন, 'আমিরাত আমাদের দেশে মানুষ হত্যা করছে, আমার দেশের মানুষদের হত্যা করা বন্ধ করুন।' রাস্তার ওপার থেকে আসা এই প্রতিবাদের জবাবে দুবাই শাসকের বিশাল বহরের এক সদস্য এগিয়ে যান এবং ওই যুবককে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালাগাল করেন।

তবে মোহাম্মদ বিন রশিদ এখনও লন্ডনেই অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ১৯৬০-এর দশকের সুইং লন্ডনের জন্য পরিচিত চেলসি এলাকায় তাকে দেখা গেছে। এভাবে ধনী উপসাগরীয় নাগরিকদের জন্য লন্ডনের আসল ঠিকানা হয়ে উঠেছে মেফেয়ার। এই এলাকায় নর্থ অডলে স্ট্রিট অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম বিত্তশালী অঞ্চল। দামি রেস্তোরাঁ, বিলাসবহুল গাড়ির শোরুম আর রাজকীয় সব হোটেলে পরিপূর্ণ এই মেফেয়ার। এখানে মিডলইস্ট আইয়ের কর্মী সেলফ্রিজের ভেতরে দুবাই থেকে আসা ১৫ বছরের কিশোর খালেদ এবং তার ৫৩ বছর বয়সী চাচা মোহাম্মদের সঙ্গে কথা বলেন। আত্মবিশ্বাসী তরুণ খালেদ জানায়, লন্ডনে তাদের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে এবং তারা এখানকার অর্থনীতিকে সহায়তা করতে ভালোবাসে।

সুদান সংকট নিয়ে দুবাই শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদ মন্তব্য করেন যে সুদানিরা অজ্ঞ, তারা সুদানকে মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে এবং এ ধরনের আচরণ সম্মানজনক নয়। তার চাচা মোহাম্মদ যোগ করেন যে প্রত্যেকের বাকস্বাধীনতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নেতার সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। তেল আবিষ্কারের আগের দুবাইয়ের কঠোর ও সরল জীবনের কথা স্মরণ করে মোহাম্মদ জানান, বর্তমানে আমিরাতে যেকোনো জিনিস চাইলে কয়েক মিনিটের মধ্যে পাওয়া যায়, এমনকি কাউকে উঠে দাঁড়াতেও হয় না। প্রতি আগস্ট মাসে তিন সপ্তাহের জন্য মেফেয়ারে এসে অবস্থান করা তাদের নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং শহরজুড়ে আমিরাতের অর্থের ছড়াছড়ি তাদেরকে একটি চেনা আবহ উপহার দেয়।

খালেদ ভবিষ্যতে লন্ডনেই পড়াশোনা করতে চায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, দুবাইয়ের সাধারণ তাপমাত্রা লন্ডনের বর্তমান রেকর্ড গরমের চেয়েও প্রায় দশ ডিগ্রি অধিক থাকে, যেখানে জীবন মূলত এসি-নির্ভর। তা সত্ত্বেও এই কিশোর লন্ডন বলতে শুধুমাত্র সেন্টারের অভিজাত এলাকাকেই বোঝে। রোডম্যান, অভিবাসী বা ছুরি নিয়ে হামলা হতে পারে; এমন কোনো বিপজ্জনক এলাকায় তারা প্রবেশ করতে চায় না। তার ফোনে মেফেয়ারের আশেপাশে সীমাবদ্ধ কিছু পছন্দের হ্যাংআউটের তালিকা রয়েছে, যার মধ্যে সিপ্রিয়ানি, আইভি এশিয়া, সেক্সি ফিশ, সুপারনোভা এবং নোবুর মতো নামকরা রেস্তোরাঁ অন্তর্ভুক্ত।

মেফেয়ারের বাইরের লন্ডনের বাকি অংশ নিয়ে এই উপসাগরীয় নাগরিকদের মধ্যে একটি ধরনের ভীতি কাজ করে। সৌদি আরব থেকে আগত এক নারীর সাক্ষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিচিত এক কিশোর সৌদি আরব থেকে লন্ডনে একটি সামার স্কুলে পড়তে এসে প্রতিদিন হার্টস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের দিকে ছুটে যায়, যেটির বর্তমান মালিক কাতার। সেই কিশোর স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল যে তার একজন দেহরক্ষী দরকার, কারণ এখানকার মানুষেরা এতই গরিব যে তার হারমেস ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে ছুরিকাঘাত করতে পারে। বাহরাইন থেকে আসা ১৭ ও ১৫ বছর বয়সী দুই বোন সেলফ্রিজে দাঁড়িয়ে জানান যে তারা এখানে এসে নিজেদের পরিচিত অনেকের দেখা পেয়েছে। তাদের মতে, বাহরাইনের তুলনায় এখানকার পাতাল রেল অত্যন্ত জনবহুল ও বিশৃঙ্খল, এবং এখানকার স্থাপত্যশৈলীও একেবারেই আলাদা।

অক্সফোর্ড স্ট্রিটের অপর প্রান্তে অবস্থিত মার্লবোরো পাবের বাইরে তখন দুপুরের রোদ আরও তেজি হয়ে যায়। চারপাশের রাস্তায় কুয়েতি ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার সাররা ও এহলাফ একটি বিশেষ মুহূর্তের ছবি তুলছেন, পাশ দিয়ে মুক্তার মালায় সেজে হাঁটছেন এক প্রবীণ নারী, আর গর্জন করে বেরিয়ে আসছে একটি বুগাটি গাড়ি। কুয়েত থেকে মেফেয়ারে বেড়াতে আসা সাররা জানান যে তারা মূলত আবহাওয়া, মানুষ এবং কেনাকাটার আকর্ষণে এখানে আসেন।

মেফেয়ারের গ্রেজ অ্যান্টিকে মার্কেটেও একই চিত্র দেখা যায়। এক গহনা ব্যবসায়ী জানান, আগস্ট মাস এলেই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিত্তশালী পর্যটকরা এখানে উপচে পড়েন। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্যরাও এই মার্কেটের নিয়মিত ক্রেতা। থাইল্যান্ডের কোনো রাজকুমারী কিংবা সাধারণ গালফ নাগরিকরা এখানে এসে কার্টিয়ার, টিফানি বা বুলগারির মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের অলংকার সুদূর সীমার মধ্যে কেনাকাটা করেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে রুশ ধনকুবেরদের পদচারণায় মেফেয়ারকে 'লন্ডনগ্রাদ' বলা হতো। তবে বর্তমান ব্যবসায়ী সমাজের মতে, রুশরা সেই ডুবন্ত জাহাজ থেকে ইঁদুরের মতো পালিয়ে গেছে এবং যারা রয়ে গেছে, তাদের হাতে অর্থ নেই। গ্রোভসনার স্কয়ারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সাবেক বিশাল ভবনটি এখন বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত হয়েছে। এর মধ্যে কাতারি মালিকানাধীন কিনওয়ান ক্যাফে উপসাগরীয় পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের স্থান। আবায়া পরা নারী এবং পোলো শার্ট পরা পুরুষেরা কফির কাপের কাছে চুমুক দিয়ে ইনস্টাগ্রামে ছবি আপলোড করতে ব্যস্ত।

সব মিলিয়ে লন্ডনের এই মেফেয়ার অঞ্চল যেন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অভিজাত সমাজের একটি টুকরো, যা তারা নিজেদের মতো করে গড়ে তুলেছে, যেখানে পাউন্ডের হিসেব ছাড়া আর কোনো বাস্তবতার দেখা মেলে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাদিয়ানিদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণায় আইন করার দাবি হেফাজত আমিরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


কাদিয়ানিদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণায় আইন করার দাবি হেফাজত আমিরের

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থার (ওআইসি) যেভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করেছে, সেভাবেই জাতীয় সংসদে আইন পাস করে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এটিই এ দেশের উলামা-মাশায়েখ ও কোটি কোটি তাওহিদি জনতার প্রধান দাবি।

তিনি শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও তাদের প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে’ আন্তর্জাতিক তাহাফফুজে খতমে নবওয়াত বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই কথা বলেন। সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব।

হেফাজত আমির বলেন, গত ৯ আগস্ট বাবুনগর মাদরাসায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মহাসচিব কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি সরাসরি তার কাছে তুলে ধরেছিলেন। সেই মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আজ পুনরায় আমরা সরকারের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো জোরালোভাবে পেশ করছি।

তিনি বলেন, অমুসলিম হিসেবে কাদিয়ানিরা মুসলমানদের ব্যবহৃত ‘মসজিদ’, ‘আজান’, ‘সালাত’ বা ‘খলিফা’র মতো ধর্মীয় পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। সেই সাথে সরলমনা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে রচিত কাদিয়ানিদের যাবতীয় বই-পুস্তক, লিটারেচার, ওয়েবসাইট এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত এবং নিষিদ্ধ করতে হবে। বক্তব্য শেষে হেফাজত আমির মোনাজাত পরিচালনা করেন।

খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের বিশেষ অতিথির লিখিত বক্তৃতা পড়ে শোনান তাহাফফুজে খতমে নবওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মুহিউদ্দিন রাব্বানী। পরে তিনি সংগঠনের ঘোষণা পত্রও পাঠ করেন। এতে ৯ দফা দাবি এবং ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

তিনি বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি—আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও সর্বশেষ নবী। এর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। এটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা এবং প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য ভিত্তি।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের সম্মেলনের চেতনা কেবল উলামায়ে কেরামের নয়; বরং তা প্রতিটি তাওহীদী মুসলমানের ঈমানি চেতনা। আকিদা-ই-খতমে নবুওয়তের সঙ্গে আমি পূর্ণ একমত পোষণ করছি।

তিনি বলেন, আজকের সম্মেলন থেকে উলামায়ে মাশায়েখের পক্ষ হতে সরকারের কাছে যে সব যৌক্তিক এবং ঈমানি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

ধর্ম মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন এবং উলামায়ে কেরামের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলামায়ে কেরামের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। সরকার আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঈমানি দাবিগুলো বিশেষ বিবেচনায় নিবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। অসুস্থ হওয়ার কারণে তিনি এই সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি বলে দু:খ প্রকাশ করেন।

হেফাজত আমির বলেন, খতমে নবুওয়ত ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা। হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’- সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। পবিত্র কোরআন এবং সহিহ হাদিসের অসংখ্য স্পষ্ট দলিলে প্রমাণিত হয়েছে যে, তার পর নবুওয়াতের পবিত্র দরজা কিয়ামত পর্যন্ত চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি বা অন্য কাউকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করা স্পষ্ট কুফরি। যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী খাতমে নবুওয়াতের এই মৌলিক আকিদা অস্বীকার করবে, তারা কোনো অবস্থাতেই ইসলামের গন্ডির মধ্যে থাকতে পারে না। তারা সরাসরি কাফের, এবং যারা তাদের কাফের মনে করে না, তাদের ঈমানও সুরক্ষিত নয়।

তিনি বলেন, কাদিয়ানিরা অমুসলিম হিসেবে মুসলমানদের ব্যবহৃত ‘মসজিদ’, ‘আজান’, ‘সালাত’ বা ‘খলিফা’র মতো ধর্মীয় পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। একইভাবে সরলমনা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে রচিত কাদিয়ানিদের যাবতীয় বই-পুস্তক, লিটারেচার, ওয়েবসাইট এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত এবং নিষিদ্ধ করতে হবে।

এই সময় ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতে আপনাদের সমস্যা কোথায়? আপনারা মুসলমানদের অনুভূতি বুঝতে ব্যর্থ হলে বারবার সমস্যায় পড়বেন। অলিম্বে এই দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানান তিনি।

আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে সালাউদ্দিন আহমদ যে ওয়াদা করেছিলেন, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন বলে এখনো আমরা আশা করি। যদি না নেন, আমাদের সোজা আঙ্গুল বাকা হতে সময় লাগবে না।

সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌযান শ্রমিক কর্মচারী দল ঢাকা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা হলেন বেলায়েত হোসেন মাস্টার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাজমুল হাসান নিরব,ফরিদপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


নৌযান শ্রমিক কর্মচারী দল ঢাকা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা হলেন বেলায়েত হোসেন মাস্টার
 
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নৌযান শ্রমিক কর্মচারী দলের ঢাকা বিভাগীয় কমিটিতে মো. বেলায়েত হোসেন মাস্টার প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন। 
 
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নৌযান শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সুমন ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 
 
বেলায়েত হোসেন মাস্টার ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সাতবাড়িয়া পানাইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান।
 
দীর্ঘদিন ধরে নৌযান শ্রমিকদের অধিকার আদায় ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার নতুন এ দায়িত্ব প্রাপ্তিতে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
 
এক প্রতিক্রিয়ায় বেলায়েত হোসেন মাস্টার শ্রমিক সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করা এবং শ্রমিকদের সার্বিক স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
 
একই সাথে তাকে ঢাকা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহবায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নৌযান শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সুমন ভুঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আজান আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ নয়’ মার্কিন কর্মকর্তার মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


‘আজান আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ নয়’ মার্কিন কর্মকর্তার মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে প্রকাশ্যে আজান প্রচারের বিরোধিতা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির লেফটেন্যান্ট গভর্নর মিকাহ বেকউইথ। তার দাবি, গির্জার ঘণ্টাধ্বনি আমেরিকার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশ হলেও ইসলামের আজান আমেরিকান সংস্কৃতি বা ইতিহাসের অংশ নয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের অলাভজনক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ানা সিটিজেন এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিজের ‘আস্ক মিকা এনিথিং’ ভিডিও সিরিজে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে বেকউইথ বলেন, গির্জার ঘণ্টা বাজানো যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে ইসলামের আজান কেন নীরব রাখতে হবে—এমন প্রশ্নের পর তিনি আজানের প্রকাশ্য সম্প্রচারের বিরোধিতা করেন।

বেকউইথ কোনো নির্দিষ্ট মসজিদ বা স্থানীয় বিরোধের কথা উল্লেখ করেননি এবং কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব করেননি। সাধারণত প্রকাশ্যে ধর্মীয় শব্দ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন প্রযোজ্য হতে পারে। তবে আদালতের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে, এসব আইন ধর্মীয় বক্তব্যের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক হতে পারে না।

ইন্ডিয়ানা মুসলিম অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক মালিহা জাফর বলেন, তার জানা মতে ইন্ডিয়ানার কোনো মসজিদই লাউডস্পিকারে বাইরে আজান সম্প্রচার করে না। জাফর আরো জানান যে, মুসলিম সম্প্রদায় বর্তমানে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষত জনসমক্ষে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে মুসলিমরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করছে।

তিনি বলেন, মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং সক্রিয় বন্দুকধারী মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসে ভাঙচুর ও অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, তিনি প্রতিটি মসজিদের সঙ্গে তার যোগাযোগে নেই এবং তাই এ ধরনের ঘটনার ব্যাপকতার সঠিক হিসাব তিনি দিতে পারবেন না।

জুন মাসে স্টেটহাউসে অনুষ্ঠিত ‘ফেইথ ওভার ফিয়ার’ অনুষ্ঠানে জাফর বলেন, ইন্ডিয়ানা জুড়ে মুসলিম পরিবারগুলো ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষপূর্ণ জনমত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাফর বলেন, ‘যখন কুসংস্কার এবং অপতথ্যকে বিনা প্রতিবাদে চলতে দেওয়া হয়, তখন তা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষ নিজেদের অবাঞ্ছিত, বিচ্ছিন্ন এবং ভীত বোধ করে।’

বেকউইথ সোমবার যুক্তি দিয়েছেন যে, ইসলামি আযান আমেরিকান সংস্কৃতির জন্য একটি বহিরাগত বিষয়। তিনি একজন দর্শকের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, যিনি জানতে চেয়েছিলেন যে গির্জার ঘণ্টা বাজানোর অনুমতি থাকলেও কেন ইসলামিক আজানকে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। বেকউইথ পরামর্শ দিয়েছেন যে, যারা ইসলামিক আজান শুনতে চান, তাদের এমন দেশে যাওয়া উচিত যেখানে এই প্রথাটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, মসজিদগুলো প্রকাশ্যে আজান সম্প্রচার করার পরিবর্তে নামাজের সময় হলে সদস্যদের কাছে টেক্সট মেসেজ পাঠাতে পারে।

বেকউইথ বলেছেন, ‘ইসরাইল এবং ইন্ডিয়ানার বাকি অংশের সম্প্রদায়গুলোতে উচ্চস্বরে ইসলামিক আজান বাজানোর কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই’। মে মাস থেকে তীব্রতর হওয়া ইসলামের বিরুদ্ধে তার ব্যাপক সমালোচনা অব্যাহত অংশ হিসেবেই বেকউইথ এই মন্তব্যগুলো করেন।

খ্রিস্টান রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ফ্ল্যাশপয়েন্টে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বেকউইথ ইসলামের সমালোচনা করেন এবং বলেন যে আমেরিকানদের ‘আবার ঘৃণা করার অনুমতি’ থাকা উচিত। একই মন্তব্যে তিনি ইসলামকে একটি ‘শয়তানের উপাসক গোষ্ঠী’ হিসেবেও বর্ণনা করেন। পরে তিনি দাবি করেন যে এই ধর্মটি ‘নাৎসিবাদের চেয়েও খারাপ’। পরে তিনি আজান নিষিদ্ধ করার জন্য প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

তবে বেকউইথের দাবি করা ‘ইসলাম আমেরিকান সংস্কৃতি বা ইতিহাসের অংশ নয়’ এর সঙ্গে দেশটির ইতিহাসের বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আফ্রিকান আমেরিকান হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার এবং লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয়দের বসতি স্থাপনের প্রাথমিক সময় থেকেই উত্তর আমেরিকায় মুসলমানদের উপস্থিতি ছিল। ১৫০০-এর দশক থেকেই উত্তর আমেরিকায় ইসলামের উপস্থিতি রয়েছে এবং ক্রীতদাস হিসেবে আসা আফ্রিকান মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় চর্চা বজায় রেখেছিলেন। এমনকি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধেও মুসলমানরা উপনিবেশগুলোর পক্ষে লড়াই করেছিলেন। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ওয়াশিংটন ও থমাস জেফারসন ধর্মীয় স্বাধীনতার বিতর্কের সময় ইসলামকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন।

থমাস জেফারসন লিখেছিলেন যে ভার্জিনিয়ার ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলমানসহ সবার সুরক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছিল। আমেরিকান সংস্কৃতিতে প্রাথমিক আফ্রিকান মুসলিমদের প্রভাব ব্লুজ সঙ্গীতের সুরের মধ্যেও লক্ষ্য করা যায়। ফলে ইন্ডিয়ানায় প্রকাশ্যে আজান প্রচার নিয়ে বেকউইথের মন্তব্য নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%