বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
নৌযান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সাথে সংযুক্তদের সঠিক হিসাব নিরূপণের উদ্দেশ্যে সরকার দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু করেছে।
এই নৌযান শুমারিতে উপকূলীয় জেলা ভোলা এবং তৎসংলগ্ন জেলাগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে এই নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে নির্ধারিত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের আয়োজনের মাধ্যমে ভোলার উপশহর ইলিশা নৌবন্দরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালিতে স্থানীয় জেলে, নৌযান মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অংশ নেন।
পরে এই র্যালিটি বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং মেঘনা নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন নৌযান পরিদর্শন করেছে। র্যালিতে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিন্দ্য মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহ আব্দুর রহিম নূরন্নবী, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগে নৌযান শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের হালনাগাদ তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হবে।
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান বাসসকে বলেন, “মেঘনার বুকে প্রতিদিন নৌকা, ফেরি এবং বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে। অনেক মানুষের জীবিকা নদী ও নৌযানকে ঘিরে, আবার কারও যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। অথচ এসব নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই দেশজুড়ে নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে। এরই প্রচারের অংশ হিসেবে উপকূলীয় ভোলায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।”
আয়োজকরা জানান, আজ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির তথ্য নৌ-দুর্ঘটনা কমানো, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নৌপরিবহন খাতের জনবল ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, নদীকেন্দ্রিক জেলা ভোলার জন্য এই শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং জীবিকার সাথে জড়িত বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তব চিত্রও এই তথ্যভাণ্ডারে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভোলা শহরতলীর ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে কথা হয় নৌযানে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও নৌযান মালিকদের সঙ্গে।
জেলার কর্ণফুলী লঞ্চ মালিক মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশনের মালিক মো. সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, “নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে দেশের মানুষ নৌযান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সঠিক হিসেব জানতে পারবেন।” সরকারের এ পদক্ষেপকে তিনি সাধুবাদ জানান।
বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি ও ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বাসসকে বলেন, “নৌযান শুমারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়ন করতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।”
ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. লুকু চৌধুরী জানান, “নৌযান শুমারির মাধ্যমে সরকার দেশের নৌপথকে আরও যুগোপযোগী করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।”
একই এলাকার ফেরিঘাটের শ্রমিক সালাউদ্দিন, ইউসুফ ও কামাল হোসেন জানান, “নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে প্রতিটি জেলায় লঞ্চ ও ফেরিঘাটে কর্মরত শ্রমিকদের পরিসংখ্যানও জানা যাবে।”
ইলিশা ফেরিঘাটের গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নোমান বাসসকে বলেছেন, “নৌযান শুমারির ফলে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের নৌযানগুলো একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে নৌযান শুমারি দেশের নৌপথকে আরও আধুনিকতার ছোঁয়ায় অবতীর্ণ করবে বলে মনে করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এসব মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "বিদ্যমান সংবিধান মেনে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "অলি আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।"
এ সময় ৭০ অনুচ্ছেদ মেনে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি বলেন, "তারা যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাহলে বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে শপথ নিয়েছেন, সেটি আর টেকে না।"
দলের মহাসচিব কে হবেন সে বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "এটি দলের স্থায়ী কমিটি দেখবে। এটি দলীয় প্রধানের এখতিয়ার।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কেমিক্যাল ও তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ হরমুজ প্রণালি থেকে আটক করা হয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দ্বারা। বর্তমানে জব্দকৃত জাহাজটিকে ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হরমুজের কেশম দ্বীপের কাছে একটি কোম্পানির পরিচালনাধীন জাহাজটিকে আটক করে ইরানি বাহিনী। afterwards, এর স্বাভাবিক গতিপথ ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বন্দর আব্বাসের দিকে।
নৌযান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আটক হওয়া কেমিক্যাল ও তেল বহনকারী ট্যাংকারের নাম 'আমারা'। প্রায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি গত ১৭ আগস্ট হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিক দিয়ে প্রবেশ করেছিল এবং সে সময় জাহাজের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সচল ছিল। ডাটা অনুযায়ী, জাহাজটি প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত রুট ধরেই চলছিল এবং আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
এছাড়া, অন্য একটি আন্তর্জাতিক সূত্র ও নৌ-সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম ইরানওয়্যার জানাচ্ছে, ক্রু ও ব্যবস্থাপনায় থাকা কোম্পানিটি আমিরাতের হলেও এর মালিকানা এক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজটি মূলত লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী।
কিন্তু কী কারণে অথবা কিসের অভিযোগে 'আমারা' নামের বিশাল আকারের ট্যাংকারটি আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইরানের আইআরজিসি কিংবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এ ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া অথবা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা হাটের সরকারি/হাটবাজারের জমি অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত দোকানঘর উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে লাউফুলা হাট এলাকায় এই অভিযানটি গৃহিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ করা হয়, যা হাটবাজারের জমির ওপর নির্মিত ছিল।
এই অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন।
অভিযানের সময় আলোকদিয়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাটবাজারের সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখার জন্য এবং জনগণের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। প্রশাসন জানায়, হাটের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশে আওয়ামী লীগের এক নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান ফকিরকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষকের লাঞ্ছনাকে ঘিরে প্রতিবাদ স্বরূপ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ক্লাস ছেড়ে বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রথম ঘণ্টার পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। খবর পেয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুনছুর রহমান বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।
কর্মকর্তার আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন বলেন, ‘অফিসে ঢুকে আমাদের স্যারকে (প্রধান শিক্ষক) চড় মারা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।
অন্যথায় আমরা পাঠদান বর্জনের কর্মসূচি দেব।’
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টার পর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে পুনট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ফকির উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ ঘটনার পর গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয় ১০-১৫ জনের মধ্যে ইয়াসিন আলী বিদ্যালয়ে যান। তিনি গালাগাল করতে করতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে একপর্যায়ে তাঁকে চড় মারেন। পরে আরো কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই ব্যক্তিরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে প্রধান শিক্ষক কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় একজন ব্যক্তি ঢুকে তাঁর সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন। প্রধান শিক্ষক উঠে দাঁড়ালে ওই ব্যক্তি তাঁকে টেনে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আরো কয়েকজন কক্ষে ঢুকে তাঁকে নিতে চাইলে তাঁরা সফল হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগপন্থী হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ‘জুলাইয়ের একাধিক মামলার আসামি’ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস ফকিরকে অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ঘটনার উদ্দেশ্য স্থানীয় রাজনীতিতে একটি হট্টগোলের ইস্যু তৈরি করাও হতে পারে।
প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান ফকির বলেন, ‘অভিভাবক সমাবেশে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে তাঁর নিকটাত্মীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ফকির এসেছিলেন। আমরা তাঁকে দাওয়াত করিনি। ফেসবুকে সমাবেশের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শিক্ষক কক্ষে কাজ করার সময় ইয়াসিন আলী গালিগালাজ করতে এসে আমাকে লাঞ্ছিত করেন। এরপর তাঁকে টেনে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।’
তিনি আরো জানান, ‘ইয়াসিন আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেনের নিকটাত্মীয়। আমার লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে। পরে তাদের বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরানো হয়েছে।’
তবে প্রধান শিক্ষককে চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, ‘এখন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। অথচ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে বিএনপির কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি প্রধান শিক্ষক। জুলাইয়ের একাধিক মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নেতাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চাইতে যাওয়া হয়েছিল।’
কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুনছুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার পুনট উচ্চবিদ্যালয়ে অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ হয়েছে। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ ছিল। এর ফলে কিছু বহিরাগত সদস্য প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ করেছে এবং তাঁরা লাঞ্ছনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইউএনও বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ইউএনও আমাকে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।’
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুনট উচ্চবিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস ফকির উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনার কারণে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ