ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার


আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

বরিশালে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের মৃত্যুর পর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার জেরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত মারুফ সেরনিয়াবাত মো. মজিবুর রহমান সেরনিয়াবাতের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শীলা আক্তার গত ২৫ জুলাই নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

এ ঘটনার পর শীলা আক্তারের বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদি হয়ে ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মৃতের স্বামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মৃত শীলা আক্তারের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৫ জুলাই বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের কারণে শীলা আক্তারকে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত মারধর করেন। পরে ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ স্থানীয়রা দেখে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনটি কন্যা সন্তানের জননী শীলা আক্তার ছিলেন গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

শীলা আক্তার ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। মৃত শীলা আক্তারের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত তার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে এবং বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায়ই অকারণে মারুফ তার স্ত্রী শীলা আক্তারকে মারধর করতেন।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসার পর বুধবার দুপুরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামেক হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


রামেক হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং রোগী ভোগান্তির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে এ স্মারকলিপি দেওয়ার কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, বৃহত্তর রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রামেক হাসপাতাল। তবে বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর, তদারকির ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। হাসপাতালটি দালাল, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, এবং বিভিন্ন অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যের কবলে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ছাত্রদলের অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের কাছে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। রোগীকে হাসপাতালের বাইরে নিতে স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, নিম্নমানের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে এবং বাইরে থেকে কম ভাড়ার অ্যাম্বুলেন্স আনতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরের সামনেই এসব ঘটছে, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করে ছাত্রদল।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিভিন্ন ওয়ার্ডে অপরিচ্ছন্নতা, দুর্গন্ধ এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসকদের রাউন্ডে না আসার অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।

জি, জরুরি বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট এবং কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে।

ছাত্রদল নেতাদের দাবি, এসব সমস্যা নিয়ে তারা একাধিকবার মৌখিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে অনিয়ম এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে।

সমস্যা সমাধানের জন্য নয় দফা দাবি জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ সেল চালু করা, বহির্বিভাগে সেবার পরিধি বাড়ানো, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা, অ্যাপভিত্তিক এবং নির্ধারিত ভাড়ায় স্বচ্ছ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা, সিসিটিভির সংখ্যা বৃদ্ধি করা, এবং অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সচল করা।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিব রায়হান রবিন বলেন, বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর রামেকের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে। আমরা চাই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে রোগীবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমাদুল হক লিমন বলেন, পরিচালকের গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে হাসপাতালের পরিচালক অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে ছাত্রদল নেতারা বলেন, তারা শুধুমাত্র আশ্বাসই চান না, সমস্যাগুলোর দৃশ্যমান সমাধানও চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উদ্বোধনের দুই মাসেই বেহাল ৭৫ লাখ টাকার সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


উদ্বোধনের দুই মাসেই বেহাল ৭৫ লাখ টাকার সড়ক

উদ্বোধনের দুই মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং সড়কের পিচ ও পাথর। কোথাও গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও সড়কের প্রান্ত দেবে গেছে। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কের এমন পরিণতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেলে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে কে জবাবদিহি করবে? ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের।

সূত্র জানায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী যানবাহনের তেমন চলাচল নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন, নতুন রাস্তা দুই মাসও টিকলো না। এখনই পিচ উঠে যাচ্ছে। কাজ যদি ভালো হত, তাহলে এমন হওয়ার কথা নয়। সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকি নিয়ে স্থানীয়রা নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে কাজ তদারকি করা হলে উদ্বোধনের এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। এ কারণে তারা উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে পানি জমে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করা হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাংশের মালিক মো. মহিউদ্দিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি যদি দায়ী হয়, তাহলে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই কেন নতুন সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাবে? প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের ক্ষেত্রে নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায়সারা মেরামত নয়, সড়কের নির্মাণমান পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। যদি অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার ৫

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পরিচালিত পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। এই অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের হাতে এসেছে ৩২ পিস ইয়াবা, ১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৫০ টাকা। এদিকে, এক সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে।

বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) গাজিউর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে পবা থানা পুলিশ নওহাটা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুয়ারি গ্রামের আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু (ছদ্মনাম) মোঃ খালেক সাইফকে (১৭) ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বাগসারা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ কইমুদ্দিনের ছেলে মোঃ রতনকে (২৮) পুলিশ দেখে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেকের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, রতন দীর্ঘদিন ধরে তার সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

একই রাতে, দেড়টার দিকে বোয়ালিয়া থানার শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মথুরডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহমখদুম থানার পবা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ রহিদুল ইসলাম শাহরিয়ারকে (২৫) ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করেন। এদিকে রাত ৯টার দিকে কাটাখালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাজরাপুকুর আদর্শ কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের মোঃ আব্দুল সাত্তারের ছেলে মোঃ আরমান হোসেনকে (৩০) ৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করেন।

অন্যদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বোয়ালিয়া থানার কয়েরদাড়া বিলপাড়া গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ রতনের (৩০) বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে রতন ও উপশহর গ্রামের মৃত আলমগীরের ছেলে মোঃ আব্দুল ওয়াহেদকে (৩৮) ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ১৮ হাজার ৫০ টাকা-সহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক রতনকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুমকির পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


দুমকির পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার, কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়া, কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা প্রতিটি ইউনিয়নে নিজের নিয়ন্ত্রণে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় এবং প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা হয়।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে দুটি প্রকল্পের কমিশন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন পিআইও মোহাম্মদ আলী। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানে কথা হয় একাধিক প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান যে, প্রতিটি প্রকল্প থেকে প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কেউ কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিল আটকে রাখা হয়। তাদের দাবি রয়েছে যে, যেসব প্রকল্পের কাজ ভালো হয়েছে সেখান থেকে ২০ শতাংশ এবং যেসব প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের হয়েছে, সেগুলো থেকেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ হলো যে, অনেক ক্ষেত্রে পিআইও নিজেই নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রকল্পের কাজ করান। কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে, আবার কোথাও কোনো কাজই না করেই বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অধিকাংশ প্রকল্প তিনি নিজে পরিদর্শন করেন না; অফিস সহায়ককে দিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন দেখিয়ে বিল অনুমোদন করা হয়।

দুমকি উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা, খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ এসব বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত না থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো, লেবুখালী ইউনিয়নের প্রকল্প নং-৭: মকবুল শরীফ বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরীফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মোসা. জেসমিন বেগম বলেন, তিনি বরাদ্দ ও কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রকল্প নং-২২: গাড়ি ধৌত করার র‍্যাম্প সংলগ্ন স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সলিংয়ের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের প্রমাণ মেলেনি। প্রকল্প সভাপতি চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী মৃধার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্প নং-৯: উপজেলা পরিষদের মাঠ ও ইউএনওর বাসভবনের ফুল বাগানে মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, বিষয়টি পিআইও জানেন।

প্রকল্প নং-৬: পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাট প্রকল্প: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে ওই নামে কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এছাড়া শ্রীরামপুর, পাংগাশিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের একাধিক রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় অতি সামান্য কাজ করে পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাজ দেখিয়ে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে।

অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং স্বপরিবারে বিদেশ গমনের জন্য অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীকে তার মুঠোফোন কল দিলে তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করতে বলেন বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে তার মুঠোফোনে ও হট্সআপে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালীর সহকারী কমিশনার তাপস বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ ছিলো তারপর সেখানে আমরা অভিযানে যাই। সেই অভিযানের রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি কিন্তুু বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের কমিশন নাই যার কারনে সেই রিপোর্ট পাস হয়ে আসেনি। তবে পাশ হয়ে আসলে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন যে, পিআইও বিরুদ্ধে দুর্নীতির চিঠি এসেছে এবিষয়ে কাজ চলছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোঃ বদরুউজ্জামান জানিয়েছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট কতৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিআইও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভাগীয় তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান হলেও তিনি এখনও একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%