প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের মৃত্যুর পর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার জেরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মারুফ সেরনিয়াবাত মো. মজিবুর রহমান সেরনিয়াবাতের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শীলা আক্তার গত ২৫ জুলাই নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এ ঘটনার পর শীলা আক্তারের বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদি হয়ে ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মৃতের স্বামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মৃত শীলা আক্তারের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৫ জুলাই বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের কারণে শীলা আক্তারকে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত মারধর করেন। পরে ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ স্থানীয়রা দেখে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনটি কন্যা সন্তানের জননী শীলা আক্তার ছিলেন গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
শীলা আক্তার ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। মৃত শীলা আক্তারের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত তার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে এবং বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায়ই অকারণে মারুফ তার স্ত্রী শীলা আক্তারকে মারধর করতেন।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসার পর বুধবার দুপুরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন