০৯:০৬ পি.এম
উদ্বোধনের দুই মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং সড়কের পিচ ও পাথর। কোথাও গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও সড়কের প্রান্ত দেবে গেছে। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কের এমন পরিণতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেলে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে কে জবাবদিহি করবে? ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের।
সূত্র জানায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করেছে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে মদপানে অসুস্থ হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী যানবাহনের তেমন চলাচল নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন, নতুন রাস্তা দুই মাসও টিকলো না। এখনই পিচ উঠে যাচ্ছে। কাজ যদি ভালো হত, তাহলে এমন হওয়ার কথা নয়। সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকি নিয়ে স্থানীয়রা নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে কাজ তদারকি করা হলে উদ্বোধনের এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। এ কারণে তারা উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে পানি জমে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করা হবে।
আরও পড়ুন: জোরারগগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ছদ্মবেশী মহিলা স্বর্ণালংকার চোর চক্রের ০৭ জন সদস্য গ্রেফতার
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাংশের মালিক মো. মহিউদ্দিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি যদি দায়ী হয়, তাহলে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই কেন নতুন সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাবে? প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের ক্ষেত্রে নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায়সারা মেরামত নয়, সড়কের নির্মাণমান পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। যদি অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন