ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উদ্বোধনের দুই মাসেই বেহাল ৭৫ লাখ টাকার সড়ক


উদ্বোধনের দুই মাসেই বেহাল ৭৫ লাখ টাকার সড়ক

উদ্বোধনের দুই মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং সড়কের পিচ ও পাথর। কোথাও গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও সড়কের প্রান্ত দেবে গেছে। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কের এমন পরিণতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেলে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে কে জবাবদিহি করবে? ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের।

সূত্র জানায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করেছে।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে মদপানে অসুস্থ হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী যানবাহনের তেমন চলাচল নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন, নতুন রাস্তা দুই মাসও টিকলো না। এখনই পিচ উঠে যাচ্ছে। কাজ যদি ভালো হত, তাহলে এমন হওয়ার কথা নয়। সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকি নিয়ে স্থানীয়রা নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে কাজ তদারকি করা হলে উদ্বোধনের এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। এ কারণে তারা উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে পানি জমে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করা হবে।

আরও পড়ুন: জোরারগগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ছদ্মবেশী মহিলা স্বর্ণালংকার চোর চক্রের ০৭ জন সদস্য গ্রেফতার

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাংশের মালিক মো. মহিউদ্দিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি যদি দায়ী হয়, তাহলে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই কেন নতুন সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাবে? প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের ক্ষেত্রে নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায়সারা মেরামত নয়, সড়কের নির্মাণমান পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। যদি অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার ৫

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পরিচালিত পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। এই অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের হাতে এসেছে ৩২ পিস ইয়াবা, ১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৫০ টাকা। এদিকে, এক সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে।

বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) গাজিউর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে পবা থানা পুলিশ নওহাটা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুয়ারি গ্রামের আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু (ছদ্মনাম) মোঃ খালেক সাইফকে (১৭) ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বাগসারা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ কইমুদ্দিনের ছেলে মোঃ রতনকে (২৮) পুলিশ দেখে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেকের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, রতন দীর্ঘদিন ধরে তার সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

একই রাতে, দেড়টার দিকে বোয়ালিয়া থানার শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মথুরডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহমখদুম থানার পবা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ রহিদুল ইসলাম শাহরিয়ারকে (২৫) ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করেন। এদিকে রাত ৯টার দিকে কাটাখালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাজরাপুকুর আদর্শ কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের মোঃ আব্দুল সাত্তারের ছেলে মোঃ আরমান হোসেনকে (৩০) ৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করেন।

অন্যদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বোয়ালিয়া থানার কয়েরদাড়া বিলপাড়া গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ রতনের (৩০) বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে রতন ও উপশহর গ্রামের মৃত আলমগীরের ছেলে মোঃ আব্দুল ওয়াহেদকে (৩৮) ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ১৮ হাজার ৫০ টাকা-সহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক রতনকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুমকির পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


দুমকির পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার, কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়া, কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা প্রতিটি ইউনিয়নে নিজের নিয়ন্ত্রণে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় এবং প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা হয়।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে দুটি প্রকল্পের কমিশন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন পিআইও মোহাম্মদ আলী। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানে কথা হয় একাধিক প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান যে, প্রতিটি প্রকল্প থেকে প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কেউ কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিল আটকে রাখা হয়। তাদের দাবি রয়েছে যে, যেসব প্রকল্পের কাজ ভালো হয়েছে সেখান থেকে ২০ শতাংশ এবং যেসব প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের হয়েছে, সেগুলো থেকেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ হলো যে, অনেক ক্ষেত্রে পিআইও নিজেই নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রকল্পের কাজ করান। কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে, আবার কোথাও কোনো কাজই না করেই বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অধিকাংশ প্রকল্প তিনি নিজে পরিদর্শন করেন না; অফিস সহায়ককে দিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন দেখিয়ে বিল অনুমোদন করা হয়।

দুমকি উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা, খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ এসব বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত না থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো, লেবুখালী ইউনিয়নের প্রকল্প নং-৭: মকবুল শরীফ বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরীফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মোসা. জেসমিন বেগম বলেন, তিনি বরাদ্দ ও কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রকল্প নং-২২: গাড়ি ধৌত করার র‍্যাম্প সংলগ্ন স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সলিংয়ের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের প্রমাণ মেলেনি। প্রকল্প সভাপতি চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী মৃধার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্প নং-৯: উপজেলা পরিষদের মাঠ ও ইউএনওর বাসভবনের ফুল বাগানে মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, বিষয়টি পিআইও জানেন।

প্রকল্প নং-৬: পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাট প্রকল্প: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে ওই নামে কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এছাড়া শ্রীরামপুর, পাংগাশিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের একাধিক রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় অতি সামান্য কাজ করে পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাজ দেখিয়ে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে।

অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং স্বপরিবারে বিদেশ গমনের জন্য অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীকে তার মুঠোফোন কল দিলে তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করতে বলেন বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে তার মুঠোফোনে ও হট্সআপে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালীর সহকারী কমিশনার তাপস বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ ছিলো তারপর সেখানে আমরা অভিযানে যাই। সেই অভিযানের রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি কিন্তুু বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের কমিশন নাই যার কারনে সেই রিপোর্ট পাস হয়ে আসেনি। তবে পাশ হয়ে আসলে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন যে, পিআইও বিরুদ্ধে দুর্নীতির চিঠি এসেছে এবিষয়ে কাজ চলছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোঃ বদরুউজ্জামান জানিয়েছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট কতৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিআইও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভাগীয় তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান হলেও তিনি এখনও একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন রোমোর আত্মপ্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


রাজশাহীতে অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন রোমোর আত্মপ্রকাশ

রাজশাহীতে কর্মরত অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের নিয়ে নতুন সংগঠন ‘রিপোর্টার্স অব অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অর্গানাইজেশন (রোমো)’ আত্মপ্রকাশ করেছে।

সংস্থাটি পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে রাজশাহীতে কর্মরত অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মোঃ হুজাইফা।

নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে মোঃ হুজাইফাকে আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ টাইমসের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. তুহিন আলীকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাঈম হোসেন ও মিরর নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সালমান হোসেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক গণজাগরণের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শামীম রহমান, ডেইলি সিটিজেন ভয়েসের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জোবায়ের আলী এবং আরসি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তুরিন আলম।

সভায় রাজশাহীতে কর্মরত অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পেশাগত মানোন্নয়ন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

সভায় রোমোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহীতে কর্মরত অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার জন্যই রোমোর যাত্রা শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইউএনও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইউএনও

বরিশালের বাবুগঞ্জে টানা বৃষ্টির ফলে আড়িয়াল খাঁ নদে আকস্মিকভাবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে একদিনে অন্তত ১০টি পরিবারের বসতঘর, গাছপালা, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীর তলে চলে গেছে। হঠাৎ ভাঙনে নদীতীরবর্তী মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ভাঙনের তথ্য পেয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রবল বর্ষণকে উপেক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে দাঁড়ান বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন।

মঙ্গলবার বিকালে লোহালিয়া গ্রামের নদীর তীরে প্রায় ১০০ ফুট এলাকা ফাটল ধরেছিল। সন্ধ্যার দিকে মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৫০ ফুট সড়কসহ ১০টি বসতঘর, গাছপালা এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যায়। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি। বসতভিটা এবং সম্পদ হারিয়ে ভাঙনকবলিত পরিবারের সদস্যরা বিলাপ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার থেকে এ অঞ্চলে টানা বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ভাঙনের তীব্রতা আকস্মিকভাবে বেড়ে যায়। মুহূর্তেই নদীর তলে চলে যাচ্ছে বসতঘর, গাছপালা, ফসলি জমি এবং সড়কের অংশও।

উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, রোববার সন্ধ্যায় চোখের পলকে লোহালিয়া গ্রামের ১০টি বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সড়কের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার এবং সামসু হাওলাদারসহ অনেকের ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, “আড়িয়াল খাঁ নদে আকস্মিক ভাঙনের খবর পাওয়ার পর আমি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আরও দুর্ভোগের শিকার না হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এই সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল, মোহাম্মদ শাহিন হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, যদি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। তারা স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%