১০:০৮ পি.এম
চট্টগ্রাম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতায় ইউনিয়নে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ম্রো সম্মেলন-২০২৬’।
স্থানীয় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির নতুন বার্তা’ ছড়িয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাগণ। এসময়ে ম্রো জনগণের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা বৃদ্ধির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, যোগাযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করে উঠে এসেছে।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন, কমান্ডার ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
আরও পড়ুন: শশীভূষণে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ড কাপ ফুটবল টুনামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিভিন্ন পাড়া থেকে ম্রো জনগণের প্রতিনিধিরা সরাসরি মতবিনিময় করেন। এসব প্রতিনিধিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, কৃষি, নিরাপদ পানি, মাতৃভাষা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের মত বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে তুলে ধরেন। রিজিয়ন কমান্ডার তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে এবং বাস্তবসম্মত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সম্মেলনে আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি, অধিনায়ক ৫৮ ইবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারী, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, নারী ও যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ম্রো জনগণের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রিজিয়ন কমান্ডার তার বক্তব্যে বলেন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনী বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও এর অপরিহার্য অংশ। পাশাপাশি তিনি ম্রো জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করেন, সন্তানদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে কুরুকপাতার মাটিতে যে শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, সেই শান্তির ধারাবাহিকতাকে শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়নের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন। রিজিয়ন কমান্ডার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনাজোন জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: চসিক মেয়র শারদ সম্মাননায় সেরা ৫ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা
প্রধান অতিথি বক্তব্যের সূচনা করেই পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ম্রো জনগণের ইতিবাচক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে কুরুকপাতায় ম্রো ন্যাশনাল পার্টির ৭৯ জন সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন। ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তির দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ম্রো সমাজের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, জনগণের সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব হয়েছে। তিনি শান্তির এই ইতিবাচক ধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী করার ডাক দেন।
রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন তিনটি একই সুতোয় গাঁথা। আলীকদমে ম্রো, মারমা, ত্রিপুরা এবং বাঙালির মত বিভিন্ন জনগণের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল দুর্গম জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: শিবালয়ে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, ৩৫ লাখ টাকার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ম্রো জনগণের প্রতিনিধিরা এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এরূপ মতবিনিময় ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন