০৫:১১ পি.এম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মাঠ প্রশাসনের প্রশিক্ষণ সেশনে নিজেই প্রশিক্ষকদের ভূমিকায় কাজ করেন। তিনি অনলাইন প্রতিবেদকের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন, কার্যকর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা করে মোট ছয় ঘণ্টার টানা তিনটি প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপকল্প, প্রশাসনিক সংস্কার এবং শেখার মানোন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
রবিবার সিলেট পিটিআইয়ের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সিলেট কর্তৃক আয়োজিত 'বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা' শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা
প্রশিক্ষণের সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো প্রতিটি বিদ্যালয়কে শতভাগ কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। প্রতিটি বিদ্যালয় কেন অকার্যকর, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অন্য যেকোনো কারণ এই সবকিছুর বাস্তব তথ্য মাঠপর্যায় থেকেই জানতে হবে।
তিনি বলেন, বাস্তব চিত্র গোপন না করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সব বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হবে শিক্ষার্থীদের শেখা। তিনি বলেন, কতটি ভবন নির্মিত হয়েছে বা কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুরা বিদ্যালয়ে এসে সত্যিকার অর্থে কতটুকু শিখছে। সেই লক্ষ্য অর্জনেই মাঠ প্রশাসনকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে এর সাথে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি জানান, আগামী বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক যোগাযোগও একজন শিক্ষা কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, মিড ডে মিল এবং উন্নয়ন কাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত করা হবে না।
ববি হাজ্জাজ বিদ্যালয় পরিদর্শনকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক তদারকি হিসেবে না দেখে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কতটুকু শিখছে তা যাচাই করার মূল লক্ষ্য হতে হবে। এজন্য বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি লার্নিং অডিট পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশিক্ষণের শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর প্রশিক্ষণের সময় উক্ত সেশন থেকে শোনা বাস্তব সমস্যা এবং সমাধানের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ফলভিত্তিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতার একটি নতুন কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট বার্তা পান।
আরও পড়ুন: এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী: ‘সাংবাদিকদের পেটানো দরকার’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সিলেট বিভাগের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং ইউপিইটিসি ইনস্ট্রাক্টররা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন