০৫:১৮ পি.এম
ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার কৈখালী–বটতলা সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীন। চলতি অর্থবছরে বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নতুন করে কার্পেটিং করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার পর একই সড়ক কেটে ৯টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য দুই কোটিরও বেশি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ
জানা গেছে, এর আগে এলাকার এক ব্যক্তি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। অভিযোগের পর প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাকে অবহিত না করেই একতরফাভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এদিকে, গোপন সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেদোয়ান ইসলাম রনি সিকদার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রজাতন্ত্রের অর্থের অপচয় রোধ করা এবং নতুন কার্পেটিং করা সড়ক কেটে কালভার্ট নির্মাণ বন্ধ করা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কোথায় কালভার্ট নির্মাণ করা হবে, আর কোথায় হবে না, সেটি আমাদের প্রকৌশলগত বিষয়।"
আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন
তখন তাকে জানানো হয়, একই সড়কে ইতোমধ্যে একটি সেতু ও একটি কালভার্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে এবং সেখানে কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না।
পরে প্রকল্প পরিচালক মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আগের তদন্ত কমিটি আমাকে ভালো বা মন্দ—কোনো বিষয়ই জানায়নি। আমি চাই না সরকারি কোষাগারের অর্থ নষ্ট হোক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে তারা সবসময় সোচ্চার। সংগঠনটির দাবি, প্রকল্পটি পুনঃমূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় তারা আইনি প্রতিকার চাইবেন।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের দাবি; পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন