প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া এলাকার দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার পর প্রকাশ্যে তার পথরোধ করে মারধর ও শ্লীলতায়হানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলম মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত আলম মিয়া উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের মৃত মুতি মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে গত প্রায় ছয় মাস ধরে একাধিকবার উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন আলম মিয়া। বিষয়টিতে একাধিকবার অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে বিচার চেয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি; বরং অভিযুক্তের পরিবার উল্টো ভুক্তভোগী কিশোরীকেই দোষারোপ করে আসছিল।
সর্বশেষ ২ আগস্ট রোববার ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত আলম মিয়া প্রকাশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পথরোধ করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেওয়ায় সে শিক্ষার্থীর চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে কিশোরীর চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। অভিযোগে আরও উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো, হামলার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত নিজের গোপন অঙ্গ প্রদর্শন করে কিশোরীকে অশালীন ইঙ্গিত ও চরম ভয়ভীতি দেখায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, মাত্র ছয় মাস বয়সে বাবা হারানো এই কিশোরী এখন খুব কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ছেলেটি প্রায়ই আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। সর্বশেষ বাবা-হারা এই শিক্ষার্থীকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, এরপর আমি আর নীরব থাকতে পারিনি। তাই নিজেই মেয়েটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছি এবং থানায় এসে অভিযোগ করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, "আমার ভাতিজিকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। বারবার বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন আমরা প্রশাসনের কাছে তার নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই।"
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, "ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজন এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর সাথে সাথে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন