ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিন সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী


তিন সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের কাশিনাথপুরের দিদার মার্কেট এলাকায় অবস্থিত এই সড়কগুলো প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিধ্বস্ত। শহরের ব্যস্ততম তিনটি সড়ক হলো: কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক, এবং ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়ক।

এই সড়কগুলি কুমিল্লা শহরের প্রবেশমুখও। যদিও দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এগুলো। ফলে, যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কগুলো বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টির সময় খানাখন্দে ভরা এই সড়কে পানি জমে যায়। তখন সড়কগুলোকে মনে হয় একেকটি ছোটখাটো ডোবা। যেখানে পিচের কোনো অস্তিত্বই নেই এবং ইট-পাথরের খোয়া উঠে গেছে।

এছাড়া, বড় গর্তের কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। বিশেষভাবে রোগীরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য খানাখন্দ সড়কের বিভিন্ন অংশে রয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই এই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। কোথাও সড়কের অংশ আর কোথাও গর্ত, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

হালিমানগর ও দৌলতপুর মোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কগুলোতে পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছে। গত পাঁচ বছর ধরে এই অবস্থা চলমান। সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ফলে, প্রতিদিন হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অ্যাম্বুল্যান্সের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা সেনানিবাস, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন।

কোটবাড়ি এলাকার সিএনজিচালক গোলাম মোস্তফা ও মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, গাড়িতে যাত্রী উঠলে গালাগালি করতে থাকে। কারণ, প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রপাতি কোনো না কোনোভাবে নষ্ট হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাঝে কিছু ভাঙা ইট-কংক্রিট দেওয়া হয়েছিল, अब সেগুলোও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘চোখের সামনে দেখছি হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি। কিন্তু করার কিছু নেই।’ সড়কগুলো এমন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা সংস্কার করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাস শিক্ষার্থীদের নিয়ে টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি সড়কে চলাচল করে। কিন্তু সড়কের অবস্থা এত খারাপ যে, বাসগুলো চলাচল করতেও ভয় পায়। তিনি বলেন, ‘মানুষের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না।’

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেছেন, ‘টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ এ বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য টেন্ডারের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ এলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু

জুন মাসে সারা দেশে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩২৩ ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে যে, এই মাসে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন মারা গেছেন এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ঘটেছে ৫টি দুর্ঘটনা, যাতে নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত ০৫ জন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫১৩ জন।

এ সব দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩৬ জন।

দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনটি তাদের রিপোর্ট তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়কালের মধ্যে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন মারা গেছেন এবং ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশ, নিহতের মধ্যে ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতদের ৯.৯৭ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে এসেছে। জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা দেখা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে।

এ বিভাগে ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে; সেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রকাশিত এক বার্তায় জানান, সড়কে দুর্ঘটনার শিকারদের মধ্যে ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ১ জন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং ০৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার ৭৯৫টি যানবাহন শনাক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২৬.৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫.২৮ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭.৩৫ শতাংশ বাস, ১৪.৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৫.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪.১৫ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬.১৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস এই সব দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ২৭.৬৩ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ৪৩.২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলস্বরূপ, ২০.৬৭ শতাংশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে ঘটেছে, ০.১৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১.১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৪.৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক জয়েই দুই লক্ষ্য পূরণের সুযোগ স্পেনের সামনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


এক জয়েই দুই লক্ষ্য পূরণের সুযোগ স্পেনের সামনে

 

শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে সতীর্থদের সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল। 

বর্তমানে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অনুপস্থিত ইতালি। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে আর কখনোই ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলার সুযোগ পায়নি এই ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

যদিও ফিফার টুর্নামেন্টিতে তারা অনুপস্থিত, তবে তারা এখনো প্রাসঙ্গিক।

এই প্রাসঙ্গিকতার মূল কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্তমানে সর্বাধিক ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ইতালির দখলে। এবার স্পেনের সামনে রয়েছে এই কীর্তি ছোঁয়ার সুযোগ। এর জন্য তাদের প্রয়োজন একটি জয়।

আজ রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জিতে ফেলতে পারলে তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ পাবে স্পেন। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে কাঁখিক্ষিত ফাইনালের টিকিটও তাদের হাতে আসবে। বর্তমানে ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে রেকর্ডটা নিজেদের দখলে রেখেছে ইতালি।

২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতালি কোনো ম্যাচ হারেনি।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে বর্তমানে ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে স্পেন। ইতালির পাশে বসতে হলে আজ ফ্রান্সকে হারানো অপরিহার্য ২০১০ বিশ্বকাপজয়ীদের জন্য। এবং যদি তারা সেটা করতে সক্ষম হয়, তাহলে ১৬ বছর পর তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার সুযোগ পাবে।

এছাড়া ইতালির রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ আগে আর্জেন্টিনার ছিল। তবে তারা ইতালির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেললেও ৪ বারের বিশ্বকাপজয়ীদের কাতারে বসতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা শেষ হয় লিওনেল মেসিদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের কথা এবং অন্যান্য বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। রাজধানী ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলার মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে, শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে একত্রিত হন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে, যখন তারা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শাহবাগের দিকে এগোতে চান, তখন পুলিশ তাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির ফলে এবং জলাবদ্ধতা কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার কেন্দ্র পৌঁছাতে পারেননি। তবে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তারা একদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানান।

রাজধানীর পাশাপাশি এই একই দাবিতে রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ ডাবের পানি খাইয়ে অজ্ঞান করা সহ বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণা এবং মানুষের সম্পদ হাতিয়ে নেয়া চক্রের ০৪ সদস্য গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


নওগাঁ ডাবের পানি খাইয়ে অজ্ঞান করা সহ বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণা এবং মানুষের সম্পদ হাতিয়ে নেয়া চক্রের ০৪ সদস্য গ্রেফতার

নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল টেলিফোনের মাধ্যমে অবহিত হন যে, গত ১০/০৭/২৬ তারিখে বেলা ১০.৩০ ঘটিকায় একজন ব্যক্তি অটো রিক্সা চালকের রিক্সা রিজার্ভ ভাড়া করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে। রিক্সা নিয়ে চালক হাসপাতালে গেলেন। সেখানে আরো দুইজন ব্যক্তির নবাগত শিশু জন্মগ্রহণ করায় তাদের মিষ্টি খেতে দেয়। তবে, এই সবকিছু ছিল একটি মিথ্যা পরিকল্পনা। তাদের মাধ্যমে অটো চালকের বিশ্বাস অর্জন করা হয়। পরে, চালককে একটি ডাব খেতে দেয়। ওই ডাবটির মধ্যে আগেই বিষাক্ত চেতনানাশক ঔষধ মিশানো ছিল। চেতনানাশক মিশ্রিত ডাবের পানি পান করার পর অল্প সময়ের মধ্যে অটো চালক অজ্ঞান হয়ে যায়। এবং সেই সুযোগে তারা অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার তাৎক্ষণিক পর পুলিশ সুপার দ্রুত সদর থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকেও অভিযানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। সিসি ফুটেজ, বিভিন্ন অপরাধীদের ডেটা বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশের নির্দেশে নওগাঁ সদর থানার টিম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ টিম বগুড়া ও गাইবান্ধা জেলায় একটানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালান। ১২-০৭-২৬ তারিখে চারজন আসামী গ্রেফতার করা হয়, যারা ১৩ তারিখে এসে জেলায় হাজির হয়। গাইবান্ধা থেকে হাতিয়ে নেওয়া অটোরিক্সাটিও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম হলো- ১. ইব্রাহীম @ ইমন (৩৪), পিতা মন্ত মিয়া, সাং লোহাই মুরি, থানা বুড়িচং, জেলা কুমিল্লা। ২. হুমায়ন কবির (৫০), পিতা মৃত ইসাইল হোসেন, গ্রাম খেজুর তলা, থানা ও জেলা বরগুনা। ৩. খাজা মিয়া (৫৬), পিতা মৃত মজিবর রহমান, গ্রাম ফুল দিঘি পূর্ব পাড়া, থানা শাহজাহানপুর, জেলা বগুড়া। ৪. আব্দুল গফুর (৪১), পিতা মৃত ছই মুদ্দিন, সাং জিরাই, থানা গোবিন্দগঞ্জ, জেলা গাইবান্ধা।

অভিযানের সময় ইব্রাহীম @ ইমনের কাছে ১৪৩০ টাকা ও চারটি মোবাইল, ১০ পিস রিবোর্টিল ঘুমের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আসামী হুমায়ুনের কাছ থেকে রিক্সা বিক্রির ১০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল এবং ১টি পালসার মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়। আসামী গফুরের কাছ থেকে ভিকটিমের চুরি করা অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়। আসামী খাজার কাছ থেকে দুইটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আসামী ইব্রাহীম এবং হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন থানায় আরও বেশ কিছু মামলা আছে। তারা কয়েক বছর ধরে মানুষকে ডাবের পানি খাইয়ে, ডাবের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে, মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল এবং মানুষের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খাজা মিয়া এবং আব্দুল গফুর শালা-দুলা ভাই। তারা প্রতারকদের সম্পদ কিনে বিক্রি করে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%