প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুন মাসে সারা দেশে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩২৩ ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে যে, এই মাসে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন মারা গেছেন এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ঘটেছে ৫টি দুর্ঘটনা, যাতে নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত ০৫ জন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫১৩ জন।
এ সব দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩৬ জন।
দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনটি তাদের রিপোর্ট তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়কালের মধ্যে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন মারা গেছেন এবং ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশ, নিহতের মধ্যে ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতদের ৯.৯৭ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে এসেছে। জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা দেখা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে।
এ বিভাগে ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে; সেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রকাশিত এক বার্তায় জানান, সড়কে দুর্ঘটনার শিকারদের মধ্যে ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ১ জন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং ০৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার ৭৯৫টি যানবাহন শনাক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২৬.৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫.২৮ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭.৩৫ শতাংশ বাস, ১৪.৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৫.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪.১৫ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬.১৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস এই সব দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।
সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ২৭.৬৩ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ৪৩.২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলস্বরূপ, ২০.৬৭ শতাংশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে ঘটেছে, ০.১৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১.১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৪.৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন