প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল টেলিফোনের মাধ্যমে অবহিত হন যে, গত ১০/০৭/২৬ তারিখে বেলা ১০.৩০ ঘটিকায় একজন ব্যক্তি অটো রিক্সা চালকের রিক্সা রিজার্ভ ভাড়া করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে। রিক্সা নিয়ে চালক হাসপাতালে গেলেন। সেখানে আরো দুইজন ব্যক্তির নবাগত শিশু জন্মগ্রহণ করায় তাদের মিষ্টি খেতে দেয়। তবে, এই সবকিছু ছিল একটি মিথ্যা পরিকল্পনা। তাদের মাধ্যমে অটো চালকের বিশ্বাস অর্জন করা হয়। পরে, চালককে একটি ডাব খেতে দেয়। ওই ডাবটির মধ্যে আগেই বিষাক্ত চেতনানাশক ঔষধ মিশানো ছিল। চেতনানাশক মিশ্রিত ডাবের পানি পান করার পর অল্প সময়ের মধ্যে অটো চালক অজ্ঞান হয়ে যায়। এবং সেই সুযোগে তারা অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার তাৎক্ষণিক পর পুলিশ সুপার দ্রুত সদর থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকেও অভিযানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। সিসি ফুটেজ, বিভিন্ন অপরাধীদের ডেটা বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশের নির্দেশে নওগাঁ সদর থানার টিম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ টিম বগুড়া ও गাইবান্ধা জেলায় একটানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালান। ১২-০৭-২৬ তারিখে চারজন আসামী গ্রেফতার করা হয়, যারা ১৩ তারিখে এসে জেলায় হাজির হয়। গাইবান্ধা থেকে হাতিয়ে নেওয়া অটোরিক্সাটিও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম হলো- ১. ইব্রাহীম @ ইমন (৩৪), পিতা মন্ত মিয়া, সাং লোহাই মুরি, থানা বুড়িচং, জেলা কুমিল্লা। ২. হুমায়ন কবির (৫০), পিতা মৃত ইসাইল হোসেন, গ্রাম খেজুর তলা, থানা ও জেলা বরগুনা। ৩. খাজা মিয়া (৫৬), পিতা মৃত মজিবর রহমান, গ্রাম ফুল দিঘি পূর্ব পাড়া, থানা শাহজাহানপুর, জেলা বগুড়া। ৪. আব্দুল গফুর (৪১), পিতা মৃত ছই মুদ্দিন, সাং জিরাই, থানা গোবিন্দগঞ্জ, জেলা গাইবান্ধা।
অভিযানের সময় ইব্রাহীম @ ইমনের কাছে ১৪৩০ টাকা ও চারটি মোবাইল, ১০ পিস রিবোর্টিল ঘুমের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আসামী হুমায়ুনের কাছ থেকে রিক্সা বিক্রির ১০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল এবং ১টি পালসার মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়। আসামী গফুরের কাছ থেকে ভিকটিমের চুরি করা অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়। আসামী খাজার কাছ থেকে দুইটি মোবাইল জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আসামী ইব্রাহীম এবং হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন থানায় আরও বেশ কিছু মামলা আছে। তারা কয়েক বছর ধরে মানুষকে ডাবের পানি খাইয়ে, ডাবের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে, মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল এবং মানুষের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খাজা মিয়া এবং আব্দুল গফুর শালা-দুলা ভাই। তারা প্রতারকদের সম্পদ কিনে বিক্রি করে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন