ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙন তীব্র হচ্ছে


কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙন তীব্র হচ্ছে

কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে, তবুও এটি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিকটে থাকবে। ফলে, নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, দুটি বাজার এবং তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চিলমারী কাচকোল বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। পিচিং করা ব্লক দেবে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এই এলাকায় ১৫টি বসতভিটা এবং ১৬ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ বাজার এবং আনন্দ বাজার। স্থানীয় জনগণ ভাঙন রোধের দাবিতে কয়েকদিন আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গত এক মাসে জাহাজের আলগা চরের অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া, দই খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ঝুঁকির সম্মুখীন।

এদিকে, দুধকুমারের ভাঙনে সদর উপজেলার যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ভগবতিপুর, নাগেশ্বরীর চর নারায়নপুর এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়ায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। ধরলার ভাঙনে সারডোব ও চর বড়লই এলাকায় আবাদী জমি বিলীন হচ্ছে। তবে, বাড়িঘর ও স্থাপনা ছাড়া জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

তিস্তার ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার পলাশপুর গ্রামের বিস্তৃত আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় জনগণ গাছের ডাল ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। এখানে নদীর কিনারে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি বাড়ি।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ৪-৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, মিলল ৫৭২ জনের কঙ্কাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, মিলল ৫৭২ জনের কঙ্কাল

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনার চেম্মানি অঞ্চলে একটি গণকবর থেকে ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও নবজাতকও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শ্মশান সম্প্রসারণের জন্য খননকাজের সময় শ্রমিকরা প্রথম মানবদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পান।

আগস্ট মাসে খননের তৃতীয় ধাপে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এসব কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করেন। সেখানে চুড়ি, স্কুলব্যাগ ও দুধের বোতলের মতো ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। এটি শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের সময় চেম্মানিতে গণকবর থাকার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও অধিকারকর্মীরা ধারণা করছেন, এখানে যুদ্ধের সময় নিহত বেসামরিক মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে।

নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারগুলো দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশা, এই গণকবর থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা প্রিয়জনদের ভাগ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তামিলদের একটি অংশ বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছে। তবে ধীরগতির খননপ্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চেম্মানি আবারও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিলেন তামিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও তামিল টাইগার—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনী জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেম্মানি এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ে। সেখানে সেনা ক্যাম্প ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়। একই সময়ে বহু বেসামরিক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

নিখোঁজদের একজন ছিলেন কান্দাইয়া জয়পালান। ১৯৯৬ সালে চেম্মানির কাছে একটি চেকপয়েন্ট থেকে সেনাবাহিনী তাকে আটক করে নিয়ে যায় বলে তার মেয়ে জেয়ারুবি জয়পালান জানান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। এর আগে একই এলাকায় তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্তি কুমারস্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে চেম্মানি এলাকায় তার মরদেহ ও পরিবারের সদস্যদের মরদেহ পাওয়া যায়।

এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক সেনাসদস্য পরে দাবি করেন, চেম্মানিতে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল। এর পর ১৯৯৯ সালে সেখানে খনন চালিয়ে ১০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে নতুন করে আবিষ্কৃত গণকবরটি আগের স্থানটির কাছেই হওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি করছেন।

শ্রীলঙ্কা মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেহাবশেষগুলোর বেশিরভাগই অগভীর ও ঘনভাবে সমাহিত ছিল। কমিশনের মতে, এসব সমাহিতকরণ অবৈধ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

চেম্মানিতে নতুন গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো প্রতিবাদ ও স্মরণানুষ্ঠান করছে। তারা আশা করছে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিখোঁজ স্বজনদের পরিচয় জানা যেতে পারে। ৬৫ বছর বয়সী সুসিলা ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া তার একমাত্র ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, ছেলেকে ছাড়া তার জীবন শূন্য হয়ে গেছে।

চেম্মানি থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো বর্তমানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এখনো ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়নি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, দেহাবশেষের বয়স ও মৃত্যুর কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে কিছু নমুনা বিদেশেও পাঠানো হতে পারে।

গত কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। তবে এসবের কোনোটিই জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করা যায়নি। এ কারণে নতুন তদন্ত নিয়েও অনেক তামিল পরিবারের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

২০১৮ সালে মান্নারে পাওয়া একটি গণকবর থেকে ৩৫০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার হলেও তদন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। পরিবারগুলো এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি চায়। সরকার বলছে, চেম্মানির তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে। বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা জানান, খননকাজ অব্যাহত থাকবে এবং দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

নিখোঁজদের পরিবারের কাছ থেকেও ডিএনএ নমুনা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী গণহত্যার পর বেসামরিকদের চেম্মানিতে কবর দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে।

শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধকালীন নিখোঁজ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক চাপের পর ২০১৮ সালে নিখোঁজদের সন্ধানে অফিস অব দ্য মিসিং পারসন্স (ওএমপি) গঠন করা হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সংস্থাটি এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও হত্যার বহু মামলা এখনও ঝুলে আছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

জাতিসংঘ শ্রীলঙ্কাকে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা তদন্তের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কার পরপর কয়েকটি সরকার যুদ্ধকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকারের সামনে এখন অতীতের বিলম্ব ও অস্বীকারের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। নিখোঁজ ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধানে থাকা সুসিলা বলেন, ‘আমি জানি না এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আর কতদিন বাঁচব, কিন্তু আমি এর একটা শেষ দেখতে চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে গ্রাম পুলিশের মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


পটুয়াখালীতে গ্রাম পুলিশের মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু

পটুয়াখালী, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাউফল উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার, বেলা ১১টায়, বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।

জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি), ঢাকার উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণটি আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনআইএলজির মহাপরিচালক (সচিব) মো. আমিনুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার এবং এনআইএলজির কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মল্লিক। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব-কর্তব্য, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা, সামাজিক সচেতনতা এবং সরকারি কার্যক্রমে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

বান্দরবান, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার থানচি উপজেলার বলীপাড়া ইউনিয়নের বলীপাড়া বাজারে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপির পক্ষ থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা।

তিনি মন্তব্য করেন, "অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তাদের এ দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা জরুরি।" তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং, জসিম উদ্দীন, চনু মং মার্মা, মা সেতু তংসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এর আগে, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে থানচি উপজেলার বলীপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৩টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ফলে বলীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন এবং পুনরায় ব্যবসা চালু করতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা জেলা প্রশাসন তরুণদের কর্মসংস্থানে জব ফেয়ার আয়োজন করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


ঢাকা জেলা প্রশাসন তরুণদের কর্মসংস্থানে জব ফেয়ার আয়োজন করবে

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসন ঢাকায় একটি বৃহৎ ‘জব ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন এনজিও সহায়তা প্রদান করবে। চাকরি প্রদানের পাশাপাশি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও থাকবে এই আয়োজনে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ১১ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলার এনজিওগুলোর সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। সভায় জেলার বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি এনজিও এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার কোন এলাকায় কোন এনজিও কী ধরনের প্রকল্প পরিচালনা করছে এবং এসব কার্যক্রম মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে। এনজিওগুলোর প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে এনজিওগুলোর সফল উদ্যোগগুলোর প্রচার এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সফল উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠান বা এলাকায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। তাই ভালো উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় এনজিওগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই আয়োজন শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এর মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ১১ সদস্যের সমন্বয় কমিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, চাকরির সুযোগ চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং উদ্যোক্তা সহায়তার বিষয়গুলো সমন্বয় করবে। পাশাপাশি আয়োজনের স্থান, সময় ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে কমিটি।

সভায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ডেঙ্গু ফ্রি জোন’ গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফরিদা খানম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় এনজিওগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এনজিওগুলোর কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%