ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা জেলা প্রশাসন তরুণদের কর্মসংস্থানে জব ফেয়ার আয়োজন করবে


ঢাকা জেলা প্রশাসন তরুণদের কর্মসংস্থানে জব ফেয়ার আয়োজন করবে

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসন ঢাকায় একটি বৃহৎ ‘জব ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন এনজিও সহায়তা প্রদান করবে। চাকরি প্রদানের পাশাপাশি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও থাকবে এই আয়োজনে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ১১ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলার এনজিওগুলোর সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। সভায় জেলার বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি এনজিও এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার কোন এলাকায় কোন এনজিও কী ধরনের প্রকল্প পরিচালনা করছে এবং এসব কার্যক্রম মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে। এনজিওগুলোর প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে এনজিওগুলোর সফল উদ্যোগগুলোর প্রচার এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সফল উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠান বা এলাকায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। তাই ভালো উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় এনজিওগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই আয়োজন শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এর মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ১১ সদস্যের সমন্বয় কমিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, চাকরির সুযোগ চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং উদ্যোক্তা সহায়তার বিষয়গুলো সমন্বয় করবে। পাশাপাশি আয়োজনের স্থান, সময় ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে কমিটি।

সভায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ডেঙ্গু ফ্রি জোন’ গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফরিদা খানম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় এনজিওগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র‍্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এনজিওগুলোর কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপত্তা-শঙ্কায় বন্ধ ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী তেলজুড়ী নৌকাবাইচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


নিরাপত্তা-শঙ্কায় বন্ধ ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী তেলজুড়ী নৌকাবাইচ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী বাজারসংলগ্ন কুমার নদে দীর্ঘ ১২৫ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা এবার বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘তেলজুড়ী নৌকাবাইচের মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজন স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর নৌকাবাইচকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে বসে জমজমাট মেলা। তবে এবার আয়োজন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেলজুড়ী বাজারসংলগ্ন কুমার নদে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী বাজার বণিক সমিতি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবছর মেলা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সর্বশেষ কমিটিতে সভাপতি করা হয় বিএনপি নেতা শাকির আহমেদ শাকু ফকিরকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রহমান মেম্বারকে।

সম্প্রতি মেলা আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিটির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির পদত্যাগ করলে কমিটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এরপর চলতি বছর মেলা ও নৌকাবাইচ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মেলা কমিটির সাবেক সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকিরের দাবি, পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে মেলা আয়োজন নিয়ে নিরাপত্তা-শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই উপজেলার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করা কঠিন। গত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের একটি পক্ষ মেলা আয়োজনে বাধা দিচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

শাকির আহমেদ শাকু ফকির বলেন, বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই তিনি কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি অন্যদের দায়িত্ব নিয়ে মেলা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, চলতি বছর মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রহমান মেম্বার। তাঁর দাবি, মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই এবার মেলা আয়োজন করা হয়নি।

তিনি বলেন, গত বছর মেলা-পরবর্তী সময়ে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও মেলার কয়েক দিন আগে ময়েনদিয়া, জয়পাশা, ধুলজুড়া ও পরমেশ্বরদীর লোকজনের সঙ্গে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

রহমান মেম্বারের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজন করা হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। এর পাশাপাশি মেলা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও স্পনসর না পাওয়ায় এবার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

মেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হলেও মেলা বন্ধ হওয়ার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধেরও প্রভাব রয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতার ইন্ধনে তাঁদের কিছু সমর্থক ঐতিহ্যবাহী এ মেলা বন্ধে তৎপর ছিলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিরোধের কারণে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন বন্ধ হওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নৌকাবাইচ ও মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দীর্ঘদিন ধরে মেলার সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত মিষ্টির দোকানি আ. জব্বার মোল্যা বলেন, তাঁদের পরিবার প্রায় এক শতাব্দী ধরে এ মেলায় মিষ্টি বিক্রি করে আসছে।

তিনি জানান, তাঁর দাদা ও বাবা এ মেলায় ব্যবসা করেছেন। তিনিও প্রায় ৫০ বছর ধরে আমিত্তি, গজা, দানাদার ও জিলাপি বিক্রি করে আসছেন। এবার মেলা হবে ধরে নিয়ে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ময়দা, চিনি ও বেসন কিনেছেন। ইতোমধ্যে কয়েক মণ মিষ্টিও তৈরি করা হয়েছে।মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

এমন ক্ষতির কথা জানিয়েছেন মেলার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাঁদের ভাষ্য, সারা বছর তাঁরা এ মেলার অপেক্ষায় থাকেন এবং মেলাকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, মেলা বন্ধের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। মেলা কমিটি সহযোগিতা চাইলে তিনি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, কয়েকদিন আগে মেলা কমিটির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন তাঁরা মেলা আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। মেলা বন্ধের বিষয়ে তাঁকে কেউ অবহিত করেনি।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর মেলাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে জয়পাশা গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পাশার পক্ষ নিয়ে তেলজুড়ীতে হামলার অভিযোগ ওঠে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে।

ওই হামলায় তেলজুড়ী এলাকায় ১৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে তেলজুড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ ও মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এখন মূল আলোচনা, রাপত্তা নিশ্চিত করে কবে আবার ফিরবে তেলজুড়ীর ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইকাও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


আইকাও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরও জোরদার করার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।

সম্প্রতি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আইকাও একটি চিঠি প্রেরণ করে, যেখানে তারা এই আশ্বাস দেয়।

আইকাও কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট তোশিউকি ওনুমা এবং মহাসচিব হুয়ান কার্লোস সালাজার মন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

আইকাওর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি বাংলাদেশের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের মানদণ্ড এবং সুপারিশকৃত কার্যপদ্ধতি প্রণয়নে আইকাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে বিমান চলাচল খাতের বিকাশে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন, বিমানবন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারে আইকাওর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

চিঠিতে আইকাওর শীর্ষ দুই কর্মকর্তা মন্ত্রী মিল্লাতের নতুন দায়িত্ব পালনে তার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মুস্তাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মুস্তাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, লাশ বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় স্বামী মুস্তাককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মোঃ হাফিজুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুস্তাক গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মৃত হাজী আজমত আলীর ছেলে। তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলামত গোপন ও লাশ গুম করার অপরাধে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌশুলি মোঃ শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়া ও আসামী মুস্তাকের প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মুস্তাক দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন এবং ঘটনার প্রায় ১০ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন চলতে থাকে। তারা ভূঞাপুর থানাধীন ঘাটান্দি গ্রামের জহুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালের মধ্যে যেকোনো সময় আসামী মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে ঘরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণায় থাকা বক্স খাটের তোশক ও পাটাতন তুলে তার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখেন।

ঘটনার দিন সকালে আসামী মুস্তাক তার ছোট ছেলেকে নিয়ে শ্যালিকা নাসরিনের বাসায় রেখে বাজার করার কথা বলে সরে পড়েন। অন্যদিকে বড় ছেলে আল-মাসুদকে নিজ ঘরে বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকে আটকে রেখে যান। সকালে বাসার কেয়ারটেকার ছিটকিনি খুলে দিলে বড় ছেলে তার খালার বাসায় যায়। সারাদিন ধরে মুনিয়ার খোঁজ না পেয়ে এবং আসামী মুস্তাকের ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে স্বজনরা ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বক্স খাটের নিচ থেকে মুনিয়ার তোশক ও পাটাতন সরিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।

মোঃ শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মোঃ আমিনুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার এস.আই মোঃ মেহেদী হাসান তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর আসামী মুস্তাকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিযুদ্ধ শেষে আদালত আসামী মুস্তাকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন।

তিনি আরও জানান, মামলা চলাকালীন আসামী মুস্তাক জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার জামানত বাজেয়াপ্ত করেছেন। আসামী গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে তার এই কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ ঢাকায় ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


দক্ষিণ ঢাকায় ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) পরিকল্পিত, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব দক্ষিণ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে বড় পরিসরের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের দিকে এগোচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পের সমন্বয়ে ১ হাজার ৭৪ কোটি ৮ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ, ফুটপাত, খাল পুনরুদ্ধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক পার্কিং, সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র এবং বিনোদন অবকাঠামোসহ নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিপিপিভুক্ত চলমান সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

এছাড়া, প্রক্রিয়াধীন ডিপিপিভুক্ত সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ফলে, দুই পর্যায়ের প্রকল্প মিলিয়ে দক্ষিণ ঢাকার অবকাঠামো ও নাগরিকসেবার উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বাসস’কে জানান, এই উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ। ইনার সার্কুলার রিং রোডের বেড়িবাঁধ রায়েরবাজার দুই নম্বর গেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আসবে এবং নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে।

আবদুস সালাম বলেন, দক্ষিণ ঢাকার পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনায়ও রয়েছে বড় উদ্যোগ। খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি এর আশপাশের পরিবেশকে নান্দনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নগরীর জলাধার ও পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি জানান।

নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের পরিচিত এই বিনোদনকেন্দ্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের জন্য আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগও বাড়বে।

আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনাকেও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধিভুক্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, সড়ক মেরামতে ব্যবহৃত আধুনিক যানযন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও ম্যাকানাইজড পার্কিং স্থাপনের মাধ্যমে যানজট নিরসনকরণ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পার্কিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে এ প্রকল্পে।

নগরবাসীর সামাজিক ও পারিবারিক কার্যক্রমের জন্যও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত পর্যায়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে নগরবাসীর সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাসসকে বলেন, ডিএসসিসির অঞ্চল-২, ৪ ও ৭-এর আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাতের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। একইভাবে অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও নর্দমা উন্নয়ন কাজে রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

দক্ষিণ ঢাকার সম্প্রসারিত এলাকাগুলোর উন্নয়নেও রয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ডিএসসিসির অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা।

নতুনভাবে যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোকে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এসব এলাকার নাগরিক সুবিধা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া ডিএসসিসির ছয়টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংস্কার, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এসব কেন্দ্র আধুনিকায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান সড়কগুলোর উন্নয়নেও বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ডিএসসিসির আওতাধীন প্রধান সড়কসমূহের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাতের সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর চলাচলব্যবস্থা আরও উন্নত করার পাশাপাশি পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নও সম্ভব হবে।

প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নকে শুধু সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং যোগাযোগ, পরিবেশ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্কিং, বিনোদন ও সামাজিক অবকাঠামো- এই সবকিছুকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নেওয়ার ফলে ডিএসসিসির সম্প্রসারিত এলাকাগুলোতেও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে পুরোনো এলাকার পাশাপাশি নতুনভাবে যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোর সড়ক, ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে পুরো দক্ষিণ ঢাকাকে একটি সমন্বিত নগর কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পথ তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএসসিসির সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৭৪ কোটি ৮ লাখ টাকার কর্মপরিকল্পনা দক্ষিণ ঢাকার অবকাঠামো উন্নয়নে একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে।

সড়ক থেকে খাল, ড্রেনেজ থেকে ফুটপাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে পার্কিং, শিশুপার্ক থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র- নগরবাসীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ, নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসার পাশাপাশি একটি আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব দক্ষিণ ঢাকা গড়ে তোলার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে মনে করছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%