রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০৯:৩৯ এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে মতুয়া আশ্রমের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) কাউখালী মতুয়া আশ্রমের নিজস্ব কার্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল অধিবাস, গ্রন্থ পাঠ, সংগীতানুষ্ঠান, সান্ধ্য কীর্তন, আলোচনা সভা, হরিনাম সংকীর্তন এবং প্রসাদ বিতরণ।
রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মতুয়া মাতা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুবর্ণা ঠাকুর। কাউখালী মতুয়া আশ্রমের সভাপতি আশীষ কুমার মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদ্মনাভ ঠাকুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির বিদুর কান্তি বিশ্বাস, দেবাশীষ বিশ্বাস, নাজিরপুর উপজেলা মতুয়া আশ্রমের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার শিকদার, কাউখালী মতুয়া আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক সুশীল চন্দ্র হাওলাদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন হালদার এবং উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মলয় কৃষ্ণ মণ্ডলসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, কাউখালী মতুয়া আশ্রমের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাস্টার কিরণ চন্দ্র হালদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, "মতুয়া ধর্মের মূল শিক্ষা হচ্ছে মানবপ্রেম, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সেবার আদর্শ। শ্রীশ্রী হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ থেকে বৈষম্য, কুসংস্কার ও বিভেদ দূর করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, "শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি আরো বলেন, মতুয়া আশ্রমের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন দেখে ভালো লেগেছে। এই আশ্রম শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ড নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্স থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) আর ১৪০ জন নতুন ইহুদি অভিবাসী ইসরায়েলে এসে পৌঁছেছেন। এঁরা আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান দূতাবাসের সহযোগিতায়, ইসরায়েলের অভিবাসন ও আত্মীকরণ মন্ত্রণালয় এবং ইহুদি সংস্থার বিশেষ ‘ফ্যামিলি ফ্লাইট’ কর্মসূচির আওতায় ইসরায়েলে আগমন করেন।
এই অভিযাত্রায় অভিবাসীদের সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন অভিবাসন ও আত্মীকরণ মন্ত্রী অফির সোফার এবং ইহুদি সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ডোরন আলমোগ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিবাসীদের এই তালিকায় বেশ কয়েকটি পরিবার রয়েছে, যার মধ্যে ৮০ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী অন্তর্ভুক্ত। এই শিক্ষার্থীরা আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকেই সরাসরি ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে, ফ্রান্স থেকে আট হাজারের বেশি ইহুদি নাগরিক স্থায়ীভাবে ইসরায়েলে অভিবাসন (আলিয়াহ) করেছেন।
এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (বিশেষ করে ফ্রান্সে) ইহুদিবিদ্বেষ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সন্তানদের নতুন করে ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ফরাসি-ইহুদি পরিবারগুলোর মধ্যে ইসরায়েলকে বাসস্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার হার দিন দিন বেড়ে চলেছে, যারই প্রতিফলন হচ্ছে এই উদ্যোগটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের অফস্পিনার বি. অখিলেশ রেড্ডিকে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার তিনটি ধারা লঙ্ঘনের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে আবুধাবি টি-১০ টুর্নামেন্টে অ্যাসপিন স্ট্যালিয়ন্স দলের হয়ে খেলার সময় রেড্ডির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। তিনি টুর্নামেন্টে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন।
গত নভেম্বরে তাকে প্রাথমিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয় এবং আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার নিম্নলিখিত ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ধারা ২.১.১: আবুধাবি টি-১০ ২০২৫-এর ম্যাচের ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিককে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা, অথবা এ ধরনের ষড়যন্ত্র বা চুক্তির অংশ হওয়া।
ধারা ২.১.৪: অন্য কোনো খেলোয়াড় বা অংশগ্রহণকারীকে ম্যাচ ফিক্সিং বা ম্যাচকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার জন্য প্ররোচিত করা, উৎসাহ দেওয়া, নির্দেশ দেওয়া বা সহায়তা করা।
ধারা ২.৪.৭: তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা, যার মধ্যে তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন মোবাইল ফোনের তথ্য ও বার্তা মুছে ফেলা।
এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এই টুর্নামেন্টের জন্য আইসিসিকে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা (ডিএসও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তদন্ত শেষে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ট্রাইব্যুনাল রেড্ডিকে তিনটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করেছে।
রেড্ডির আট বছরের নিষেধাজ্ঞা ২১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, যেদিন থেকে তিনি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ছিলেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ২৬ বছর বয়সী রেড্ডির যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অভিষেক ঘটে। এখন পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তদন্তে গঠিত লিবারহান কমিশনের প্রধান বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহান মারা গেছেন। তিনি রোববার (২ আগস্ট) চণ্ডীগড়ে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৭ বছর। সোমবার, পরিবার, বন্ধু এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। লিবারহান ১৯৩৮ সালের ১১ নভেম্বর চণ্ডীগড়ের কাছে জন্মগ্রহণ করেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি ১৯৬৪ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭০ সালে তিনি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা বার কাউন্সিলে প্রথমবার নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ১৯৯৭ সালের ৭ জুলাই মাদ্রাজ হাইকোর্ট এবং ১৯৯৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে লিবারহানের বিচারিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের তদন্ত। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্রপন্থিদের হামলায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ১০ দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার তার নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠন করে।
এই কমিশন প্রায় ১৭ বছর ধরে তদন্ত কার্যক্রম চালায় এবং ৪৩ দফা সময় বৃদ্ধি পায়। সবশেষে ২০০৯ সালের ৩০ জুন ১ হাজার ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। এটি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম বিচার বিভাগীয় তদন্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংস ছিল কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি উগ্রপন্থিদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উগ্র ডানপন্থি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।
যদিও পরবর্তীতে অভিযুক্ত কয়েকজন কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতা আদালতে বেআইনি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে খালাস পান, কিন্তু তবুও লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্ব হারায় না। এটি ভারতীয় রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিচারপতি লিবারহানের মৃত্যুতে পাঞ্জাবের সিনিয়র অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অনু চাতরাথ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বিচারক। আদালতের পরিবেশ যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, তাঁর রসবোধ ও প্রজ্ঞা সবসময় পরিস্থিতিকে শান্ত রাখতে সহায়তা করত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ৫ আগস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের পালন উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা আয়োজন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এজন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই চিঠিটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠির নির্দেশ অনুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনাসভা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ