০৬:৪৯ পি.এম
ভারত প্রথমবারের মতো উচ্চগতির বুলেট ট্রেন চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডরের জন্য ট্রেনটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মাণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডের (বিইএমএল) কারখানায় ট্রেনটির নির্মাণকাজ চলছে। বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ভারতীয় প্রকৌশলীরা নিজেদের প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করছেন। ভারতের আবহাওয়া ও পরিচালন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলার উপযোগী করেই ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে।
বুলেট ট্রেনটি পরীক্ষামূলকভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে। তবে নিয়মিত চলাচলের সময় এর সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। ট্রেনটির দৈর্ঘ্য হবে ২০২ মিটার এবং এতে মোট আটটি কোচ থাকবে। এর মধ্যে চারটি মোটরচালিত কোচ এবং চারটি সাধারণ কোচ। ট্রেনটিতে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত থাকবে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়, মার্কিন শেয়ারবাজারে চাঙা; কমল তেলের দাম
ট্রেনটিতে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড-ক্লাস কোচ ও একটি এক্সিকিউটিভ-ক্লাস কোচ থাকবে। স্ট্যান্ডার্ড-ক্লাসের কোচগুলোতে প্রতি সারিতে তিনটি করে এক পাশে এবং দুটি করে অন্য পাশে আসন সাজানো থাকবে। এক্সিকিউটিভ-ক্লাস কোচে দুই পাশে দুটি করে আসন থাকবে।
ট্রেনের দুই প্রান্তেই চালকের কক্ষ থাকবে। আধুনিক অন-বোর্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সেখানে থাকবে। এর মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আটটি কোচের দুটি ট্রেন একসঙ্গে যুক্ত করে ১৬ কোচের একটি ট্রেন তৈরি করা সম্ভব হবে।
যাত্রীদের আরামের কথা বিবেচনা করে ট্রেনটির ভেতরের নকশা ভারতীয়দের শারীরিক গঠন ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে প্রশস্ত আসন ও পা রাখার পর্যাপ্ত জায়গা। প্ল্যাটফর্মের সমান উচ্চতায় ট্রেনে ওঠার সুবিধাও রাখা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসনও রয়েছে।
প্রতিটি কোচের মধ্যে বিশেষভাবে তৈরি সিল করা সংযোগপথ রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যাতায়াত করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র দুই বছরের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক তীব্র সংকটের মুখোমুখি
প্রতিটি সারিতে বড় জানালা থাকায় যাত্রীরা বাইরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। ট্রেনের ভেতরে আধুনিক এলইডি আলোকব্যবস্থা রয়েছে। মালপত্র রাখার জন্য মাথার ওপরের র্যাকের পাশাপাশি বড় লাগেজ রাখার জন্য মেঝেতে আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। প্রতিটি আসনের পাশে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য পাওয়ার আউটলেটও রয়েছে।
পরিবেশদূষণ কমাতে ট্রেনটিতে আধুনিক বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেনটিতে থাকবে আধুনিক যাত্রী তথ্যব্যবস্থা। এর মাধ্যমে পুরো যাত্রাপথে যাত্রীরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। প্রতিটি কোচে থাকা এলসিডি পর্দায় ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় বিভিন্ন তথ্য দেখানো হবে।
যাত্রীদের নিয়মিত তথ্য জানাতে থাকবে মাইক ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণাব্যবস্থা। উচ্চগতির ওয়াই-ফাইভিত্তিক বিনোদনব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা ভ্রমণের সময় আগে থেকে সংরক্ষিত বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন। জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি কোচ ও সংযোগস্থলে বিশেষ ‘টক-ব্যাক’ ব্যবস্থা রাখা হবে।
সব ধরনের যাত্রীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে ট্রেনের মেঝে প্ল্যাটফর্মের উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে। ফলে সহজেই ট্রেনে ওঠানামা করা যাবে। দরজার সঙ্গে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে আসা বিশেষ ধাপ, যা ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার ফাঁক কমাতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জেন-জিদের উত্থান
শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ দরজা ও শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধার্থে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশনাও রাখা হবে। সারা বছর আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কোচে দুটি ইউনিটের এইচভিএসি (হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং) ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে ঋতু ও আবহাওয়া অনুযায়ী ট্রেনের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
ট্রেনের ভেতরে শব্দ কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বগির কাঠামো ও মেঝেতে শব্দ নিরোধক স্তর এবং শব্দ শোষণকারী প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রেনটি ২৫ কিলোভোল্ট (কেভি) এসি ওভারহেড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চলবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এতে আধুনিক ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্রেনের গতি কমানোর সময় এই ব্যবস্থা ব্রেক থেকে উৎপন্ন শক্তি আবার বৈদ্যুতিক গ্রিডে পাঠিয়ে দেয়। ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমবে এবং ট্রেন চলাচলে শক্তি সাশ্রয় হবে।
বাতাসের বাধা কমিয়ে ট্রেনের চলাচল মসৃণ করতে উন্নত কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে এর নকশা তৈরি করেছেন প্রকৌশলীরা। ট্রেনের সামনের অংশ ও পুরো কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাতাসের বাধা ও অস্থির বায়ুপ্রবাহ কম হয়। সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে চলার সময় সৃষ্ট তীব্র শব্দ বা ‘সনিক বুম’ কমাতেও এই নকশা সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মেয়র মামদানি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন