বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৮ এম
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভের পর ওয়াশিংটনে একটি অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। সাধারণত মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ট্রাম্প প্রথাগত রক্ষণশীল আদর্শের পরিবর্তে লেনদেনমূলক রাজনীতির প্রতি আগ্রহী। ফলে, আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক স্তব্ধতা দেখা যাবে না; বরং রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার মধ্যে একটি ধারাবাহিক ও তীব্র সাংবিধানিক লড়াই শুরু হবে।
রিপাবলিকান পার্টির ঐতিহ্যগত মুক্তবাজারের ধারণাকে ট্রাম্প বহু আগেই ভেঙে দিয়েছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতি এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ধারার সাথে অনেকটাই মিলে যায়। ফলে, ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে সরাসরি সংঘাত না করে বিষয়ভিত্তিক ও অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যেখানে সমঝোতা সম্ভব হবে না, সেখানে ট্রাম্প কংগ্রেসকে তোয়াক্কা না করে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ‘নির্বাহী ক্ষমতা’ ও জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা ট্রাম্পের কাছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে, যা তিনি ডেমোক্র্যাটদের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহার করবেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংঘাত সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা দেওয়া হলেও, যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন ও বাজেটের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ ও একতরফা সিদ্ধান্ত আটকানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে আইনগত বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অটল থাকবেন।
এদিকে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ট্রাম্প প্রশাসনকে কাবু করতে অভিশংসন ও নিয়মিত তদন্তের অস্ত্র ব্যবহার করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না। কংগ্রেসের কমিটিগুলো তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে লাগাতার সমন ও অনুসন্ধান চালাতে পারে। তবে, ট্রাম্প কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক এই যুদ্ধে ভয় পান না; বরং তিনি এই তদন্ত ও অভিশংসনের প্রক্রিয়াকে তার ভোটারদের কাছে প্রতিপক্ষের একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও অন্যায্য চক্রান্ত হিসেবে তুলে ধরে নিজের জনপ্রিয়তাকে আরও চাঙ্গা করবেন। সিনেটে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হওয়ায়, অভিশংসনের মতো প্রক্রিয়াগুলো কেবল সাংবিধানিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।
সব মিলিয়ে, আগামী দুই বছর ওয়াশিংটনে নিষ্ক্রিয় সময় কাটবে না; বরং শাসনব্যবস্থা একের পর এক সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। ট্রাম্পের একক নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার এবং কংগ্রেসের কঠোর অবস্থানের ফলে মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোর যে চরম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা বিশ্বে আগে কখনো দেখা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। তিনি হাসি কম দিতেন, কিন্তু তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা দিয়ে সহজেই মানুষকে কাছে টেনে নিতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের অধিকারী।
সাবেক মেয়র এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব মন্তব্য করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। গতকাল বুধবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে এই স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও খোকাপুত্র ইশরাক হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন।
নিজেদের শৈশব, কৈশোর এবং রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে মির্জা আব্বাস জানান, তিনি শাহজাহানপুরের এবং খোকা গোপীবাগের বাসিন্দা ছিলেন। পাশাপাশি, তারা কখন যে একে অপরের সঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন, তা বুঝতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে ছিলেন।
তিনি বলেন, "খোকা এবং আমার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে যদি লিখতে বসি, তবে আস্ত একটি বই হয়ে যাবে। রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হতো, কিন্তু দিনশেষে আমরা বিএনপির আদর্শ ও মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করেছি।"
আবদুস সালাম বলেন, সাদেক হোসেন খোকা শুধু ঢাকা মহানগরী নয়, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের মাধ্যমে পাওয়া স্বাধীন দেশে ঢাকার অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর দেশটির শেয়ারবাজার চাঙা হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোতে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। ডাও জোন্স সূচকটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর একদিনে সর্বোচ্চ উত্থানের রেকর্ড গড়েছে।
বুধবার ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ৩৫৬ দশমিক ১২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সূচকটি ৫৩ হাজারের ঘর অতিক্রম করেছে।
এদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নাসডাক কম্পোজিট সূচক বেড়ে ৩৬৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ হয়েছে। দিন শেষে সূচকটি ২৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এই পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভক্ত সরকারব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয়ী হয়েছেন। টেক্সাসে রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জিনা হিনোজোসা। এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে তিন দশকের বেশি সময়ের রিপাবলিকান আধিপত্যের অবসান ঘটেছে।
ট্রাম্প নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন-পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্পের বাণিজ্য, রাজস্ব ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর ওয়াশিংটনের ওপর যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চাপ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় দরপতন ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৪ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমে প্রায় ৮৮ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার) নির্মাণ ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কঠোর নজরদারি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা পরিমাপের সূচক হিসেবে পরিচিত ‘ওয়াল স্ট্রিট ফিয়ার গেজ’ বা সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স (ভিআইএক্স) ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্টে নেমেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নকলা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ মো. রানা মিয়া (৩৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গৌড়দ্বার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এসআই তারিকুল, এসআই এমদাদ ও এসআই মামুনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
আটক রানা মিয়া উপজেলার ৪ নম্বর গৌড়দ্বার ইউনিয়নের ছাতুগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের ছেলে এবং একই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের ভাতিজা বলে জানা গেছে।
নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌড়দ্বার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রানা মিয়াকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ