ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআইনির্ভর সাইবার হামলার ঝুঁকি


ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআইনির্ভর সাইবার হামলার ঝুঁকি

ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালাচ্ছে একটি হ্যাকারগোষ্ঠী। ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) এ ধরনের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ক্র্যাফটি ফ্যালকন’ নামে পরিচিত হ্যাকার গোষ্ঠীটি ভারতের ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি), ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক কোম্পানি, পেমেন্ট সেবাদাতা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা দূর না করা হলে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার হামলার ঝুঁকি বিদ্যমান বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা এআই-চালিত বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশনের দুর্বলতা চিহ্নিত করছে। এ কাজে আরটেক্স, পেন্টএজিআই, কেইর্ন ও সাইবারস্ট্রাইকএআইয়ের মতো টুল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। একইসাথে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) বিভিন্ন ক্লাউড সেবাও হামলার উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এমিরেটস গ্রুপের নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ হ্রাস

হামলার একটি কৌশল হিসেবে প্রথমে অল্প অঙ্কের অর্থ লেনদেন করে আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হ্যাকাররা মাত্র ১ রুপির লেনদেনের মাধ্যমে পরীক্ষা চালায়। এরপর তারা সুযোগ বুঝে বড় অঙ্কের অননুমোদিত লেনদেনের চেষ্টা করতে পারে।

এছাড়া মার্চেন্ট সেটেলমেন্ট এপিআই, ডিজিটাল ওয়ালেটের নিরাপত্তা চাবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কও তাদের লক্ষ্য হতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে মূল কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থায় প্রবেশের ক্ষেত্রে একই পরিচয়পত্র, টোকেন বা নেটওয়ার্ক ব্যবহারের দুর্বলতা কাজে লাগানোর ঝুঁকি রয়েছে।

সার্ট-ইন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, অল্প অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত এবং নতুন সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে এআই টুল ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব হলো, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে আগে থেকেই প্রবেশ করে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও মাথায় রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসে হুথিদের ওপর ৪০ হাজার হামলা, নিহত ও আহত ২০ হাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি আজ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


রাষ্ট্রপতি আজ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট

আজ ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সম্ভাবনা, ব্যবহার ও ব্যবসায়িক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামিটের প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এই বাস্তবতার আলোকে সামিটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’ বলে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের, ব্যবসার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামিটে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনটি দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি, নীতিমালা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে হল অব ফেমে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় অধিবেশন, যেখানে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সামিটে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক ও স্টার্টআপের অংশগ্রহণে ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরবে। এছাড়া ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের তৈরি এআইভিত্তিক প্রকল্প ও নমুনা প্রদর্শনের জন্য আলাদা স্টল থাকবে। বিদেশি প্রদর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি থাকবেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক এতে অংশগ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাম্বুলেন্স সেবায় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ, রোগী ও স্বজনরা জিম্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


অ্যাম্বুলেন্স সেবায় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ, রোগী ও স্বজনরা জিম্মি

সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন। কিন্তু এই জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত সেবায় চলছে নানা অনিয়ম ও নৈরাজ্য। নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট নেই এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণও নেই। রোগীর স্বজনদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। সব মিলিয়ে জরুরি এই সেবা চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে।

ভাড়ার নৈরাজ্য, সিন্ডিকেটের দাপট এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে দেশের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ধুঁকছে। এতে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাপ্রত্যাশীরা।

ব্যাংকার আশিকুর রহমান অসুস্থ মাকে নিয়ে পাবনায় ফিরতে চান। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও বাড়ি ফেরার পথটুকুই যেন তার কাছে আরেক যুদ্ধ। অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন তিনি। রোগী পরিবহনের আগেই দর-কষাকষি শুরু হয়। চালকরা যে যার মতো চড়া ভাড়া হাঁকান।

আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার মা হাসপাতালে আছেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঘোরাফেরা করেছি, একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা যায় কি না। চার-পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু একেকজন একেক রকম ভাড়া চাইছেন। কেউ ১১ হাজার, কেউ ১২ হাজার, কেউ ৯ হাজার, আবার কেউ ১০ হাজার টাকা চাচ্ছেন।’

অন্তঃসত্ত্বা এক স্বজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন আব্দুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্বজন মারা যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুঁজেও মেলেনি লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান। যারা যেতে রাজি হয়েছেন, তারাও চেয়েছেন অস্বাভাবিক ভাড়া।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাই নি। বাইরে থেকে ফ্রিজিং সুবিধাসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স আনার চেষ্টা করেছি; আনতে পারিনি। মৃত স্বজন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তার সন্তান প্রসবের কথা ছিল; তবে এর আগেই তিনি মারা যান।’

অসুস্থ রোগী, মৃত্যুপথযাত্রী কিংবা প্রিয়জনের নিথর দেহ নিয়ে বিপাকে পড়া মানুষের সংখ্যা কম নয়। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত এই যানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য। মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অথচ ভাড়া নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না অনেক মালিক ও চালক।

নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে মহানগর এলাকায় প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া ১০০ টাকা। আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ২ হাজার ৫০০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য যোগ হবে ১৫০ টাকা।

মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানের সেবামূল্যও নির্ধারিত রয়েছে। তবে এসব নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না অনেক অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক। প্রশ্ন উঠছে, এই নৈরাজ্যের পেছনে কারা?

চালকদের ভাষ্য, অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও মালিক সমিতির প্রভাব। এক স্ট্যান্ডের গাড়ি অন্য এলাকায় রোগী পরিবহন করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হয়। এক চালক বলেন, ‘একেকজনের একেকটা স্ট্যান্ড। তাদের স্ট্যান্ডের তাদের ক্ষমতা, আমাদের স্ট্যান্ডের আমাদের ক্ষমতা। আমি হুট করে গিয়ে কাউকে কিছু না বলে রোগী নিয়ে চলে যেতে পারি না। আগে জানাতে হয়, আমার সঙ্গে একটি পার্টি কথা বলেছে, আমি রোগী নিতে আসছি।’

আরেক চালক বলেন, ‘আমরা রোগী নিতে পারি, তবে তাদের খরচ দিতে হবে। স্ট্যান্ডের জায়গার খরচ দিতে হয়। স্ট্যান্ড খরচ ৩ হাজার টাকা। সেখানে মালিক সমিতি আছে, হাসপাতালের সামনে তাদের গাড়ি থাকে। সেখান থেকেই গাড়ি নিতে হয়। এটাই সিন্ডিকেট। সেখান থেকে গাড়ি নিলে ভাড়া ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়।’

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে জিম্মি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় রোগী নিয়ে গেলেও দিতে হয় নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। একেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে একেকটি চক্র। এই কারসাজিতে সাধারণ চালকরাও জিম্মি। এমন পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছে।

বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর বলেন, ‘আগেও আমরা নীতিমালার দাবিতে আন্দোলন করেছি। কোনো কিছুর নীতিমালা থাকলে সেটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। সরকার যদি আমাদের জন্য নীতিমালা করে দেয়, তাহলে সেখানে ভাড়ার চার্টসহ গাড়ি কীভাবে চলবে, তার সবকিছু নির্ধারিত থাকবে। এতে সমস্যাগুলো দূর হবে। আমরা দ্রুত এই নীতিমালা বাস্তবায়ন চাই।’

শুধু ভাড়ার নৈরাজ্যই নয়, অ্যাম্বুলেন্সে শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাইরেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক মালিক তা মানছেন না। সাধারণ মাইক্রোবাসকে রূপান্তর করেই তৈরি করা হচ্ছে অনেক অ্যাম্বুলেন্স। এসব গাড়ির বেশির ভাগেই নেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শোয়ার জায়গাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে রোগীর পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও।

তবে অ্যাম্বুলেন্স সেবার এই বিশৃঙ্খলার জন্য শুধু বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছেন না বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে এই সেবায় কার্যকর সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের অভাবকেই মূল সমস্যা হিসেবে দেখছেন তারা।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ড. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ খুব বেশি চিন্তাভাবনা করে না, অথচ এটি অত্যন্ত জরুরি। আমরা শুধু হাসপাতাল, চিকিৎসক ও নার্স নিয়ে ভাবব, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সকে গুরুত্ব দেব না-তা হতে পারে না। স্বাস্থ্য বিভাগ যদি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে পরিকল্পনা করে, তাহলে ভাড়ার হার নির্ধারণ করা কঠিন কোনো কাজ নয়। তারা উদ্যোগ নিলেই এটি সম্ভব।’

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘যারা অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করছেন, তাদের একটি ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে না। তাই বেসরকারি সেবাদাতাদের কীভাবে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায়, সে ধরনের ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোগে এমন ব্যবস্থা শুরুও হয়েছিল, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি।’

দেশজুড়ে ডিজিটাল অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছা, অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা। সারা দেশে একটি অ্যাম্বুলেন্স পুল তৈরি করতে চাই, যা অ্যাপের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিটি জেলায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা গড়ে তুলতে চাই।’

জরুরি মুহূর্তকে পুঁজি করে চলা এই নৈরাজ্য থেকে স্থায়ী পরিত্রাণ চান ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে কর্মঘণ্টা নির্ধারিত না থাকা, পার্কিংয়ের অসুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথাও বলছেন মালিক ও চালকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেবিনে সন্দেহজনক প্রবেশ, আনসারের হাতে যুবক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ সজিব হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেবিনে সন্দেহজনক প্রবেশ, আনসারের হাতে যুবক আটক

পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর কেবিনে সন্দেহজনকভাবে প্রবেশের অভিযোগে মিঠন মুল্লিক (পরিচিত নাম মিঠন) নামে এক যুবককে আটক করেছেন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে হাসপাতালের একটি রোগীর কেবিনে প্রবেশ করলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে আনসার সদস্যদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি হাসপাতালে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আটক যুবকের সঙ্গে কথা বলে তার হাসপাতালে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার দেহ তল্লাশি করে চুরির কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি। ফলে চুরির অভিযোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা জানান, ভোরবেলা রোগী ও স্বজনদের অধিকাংশ ঘুমিয়ে থাকেন। এ সুযোগে মাঝেমধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার ঘটনাও ঘটে। তাই হাসপাতালের নিরাপত্তায় তারা সতর্ক অবস্থানে থাকেন।

আটক মিঠন মুল্লিক পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের আলম মুল্লিকের ছেলে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: গাঁজা-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩০, ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার বিপুল মাদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


বরিশালে বিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: গাঁজা-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩০, ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার বিপুল মাদক

২৪ ঘণ্টায় ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন মামলায় আটক ৩০ জন

বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিএমপি মিডিয়া সেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশের অভিযানে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য উদ্ধারসংক্রান্ত ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএমপির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সাতজন, নিয়মিত মামলায় চারজন এবং অন্যান্য আইনে ছয়জন রয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশ।


বরিশাল মহানগরীতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গাঁজা ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এদিকে মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএমপি। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিতে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে।

মাদকসংক্রান্ত তথ্য প্রদানের হটলাইন:

- ০১৩২০-০৬৪০০০
- ০১৩২০-০৬৪০৪৪


বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%