বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
নড়াইলে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটির দাবিতে জাপার প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত
নড়াইল জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) নবগঠিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে নড়াইল চৌরাস্তা এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন-জেলা জাতীয় পার্টির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিকদার হাদিউজ্জামান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত হোসেন হেকমতসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া এই প্রতিবাদ সভায় সম্মতি জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্মসাংগঠনিক সম্পাদক ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী মিল্টন মোল্যা, কলোড়া ইউনিয়নের সভাপতি ইরান মোল্যাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিকদার হাদিউজ্জামানসহ বক্তারা বলেন, দলের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে গত ২ নভেম্বর দুই সদস্য বিশিষ্ট জেলা জাপার কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজকে আহবায়ক ও মাহবুবুর রহমান এমরানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। জেলার নেতৃবৃন্দকে অবগত না করে এবং কোনো প্রকার সম্মেলন ছাড়াই এই কমিটি ঘোষণা করায় আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। এই অবৈধ কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। আমাদের দাবি কমিটি দ্রুত বাতিল করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে দলের গঠনতন্ত্র মেনে সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রæত নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হোক। আমরা দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে এই কমিটি বাতিলের দাবি করছি। তিনি সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রুত কমিটি দিবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তা না হলে আজ থেকে নড়াইল জেলা জাতীয় পার্টিতে গ্রুপি শুরু হলো। একটি সিকদার হাদিউজ্জামান গ্রুপ, অন্যটি ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৫ নভেম্বর জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সম্মেলনের মাধ্যমে ফায়েকুজ্জামান ফিরোজকে সভাপতি এবং সিকদার হাদিউজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠিত হয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৩য় বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান-২০২৬ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে ৩ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্কাউটিং তরুণ প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল, নীতিবান এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। উপাচার্য আরও বলেন, কেবল পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনা নয়, বরং সমাজসেবা ও নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনে স্কাউটিং শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেরোবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মমানবতার সেবায় সবসময় নিজেদের উৎসর্গ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান, প্রক্টর মোঃ ইসমাইল হোসেন, বেরোবি রোভার স্কাউট ইউনিট সাধারণ সম্পাদক মোঃ আখের চৌধুরী, রোভার স্কাউট সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী এই ক্যাম্পিংয়ে নবীন রোভারদের আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষাদান, তাঁবু নির্মাণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, স্কাউটিং মহড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ইভেন্ট সম্পন্ন হবে। আগামী ৩ দিন জুড়ে চলবে এই বর্ণাঢ্য তাঁবু বাস ও দীক্ষা কার্যক্রম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার মদনে সড়কে দৌড়ে আসা একটি বাছুরকে বাঁচাতে গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে আনোয়ারা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মদন পৌরসভার সিলেট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ভূঁইয়া বাড়ির সামনে মদন-নেত্রকোনা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ারা বেগম উপজেলার জাওলা গ্রামের প্রয়াত বুলবুল মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন আনোয়ারা বেগম। পথে ভূঁইয়া বাড়ির সামনে পৌঁছালে হঠাৎ একটি গরুর বাছুর দৌড়ে সড়কের মাঝখানে চলে আসে। এ সময় বাছুরটিকে বাঁচাতে অটোরিকশার চালক ব্রেক করে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
এতে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন আনোয়ারা বেগম। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন যে, দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সারের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা আতিক উদ্দিনের গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেত এবং বিলবৈটা এলাকার উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলীর বাগান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের ফসলি জমির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে জমিতে ফসলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এখন প্রায় সব জমিতে ধান রয়েছে। ধান কাটার পর আরেকটি ফসলের জন্য সারের প্রয়োজন হবে, যা আগামী ২৫ দিন বা এক মাস পরের বিষয়। তাই এই মুহূর্তে সারের সংকট হওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।
মন্ত্রী কৃষিবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার এবং কৃষকের সরকার। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষিকে স্বাবলম্বী করা, উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কৃষিপণ্যকে রপ্তানিমুখী করা। তাই চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব সার সরবরাহ করা হবে।
সারের ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডিলার নিয়োগের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। আবেদনগুলো তদন্তের দায়িত্ব উপজেলা কর্মকর্তাদের ওপর ছিল। তাদের পাঠানো তিনজনের নামের তালিকার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে এই নিয়োগ হয়নি। তবে যদি নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোথাও কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সরকার সে বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসা জঙ্গি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলামসহ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুবকদের পাশাপাশি নারীদেরও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। নারীদের পিছিয়ে রেখে আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। এই কারণে প্রশিক্ষণে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণের ব্যবধান কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর আলাদিপুর যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ৫২২ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেছেন। এর বিপরীতে নারীর সংখ্যা মাত্র ৬২ জন। অর্থাৎ প্রশিক্ষণে দুই পক্ষের অংশগ্রহণে একটি বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষের মতো প্রশিক্ষণেও নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি আরও বলেন, নারীদের এগিয়ে নিতে চাইলে প্রশিক্ষণের সুযোগেও তাদের সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। কেন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা এত কম, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খতিয়ে দেখতে হবে। এই ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সরকার চায়, যুবক-যুবতীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠুক। এ লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
এ সময় চলতি অর্থবছরের প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমের পৃথক হিসাব প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক চায়না ব্যানার্জিসহ জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১৬৩ জনকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ, কৃষি ও হর্টিকালচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ