বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৩ পি.এম
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হামলা, চিকিৎসাধীন রোগীকে মারধর, কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা এ মামলায় একপক্ষের লোকজনকে আসামি করার অভিযোগ তুলে হয়রানির দাবি করেছেন বিবাদীপক্ষের কয়েকজন। তাঁদের দাবি, মামলায় নাম থাকা কয়েকজন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেই আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিরাই থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে সাকিতপুর গ্রামের জাকারিয়া (৪১), মাহিম (২৮), হারুন (৩২), মোজাহিদ (৩২), আশরাফুল (৩০), সোহেল (৩৭), মোজাম্মিল (২২) ও মোস্তাকিম (২০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫৫ মিনিটে দিরাই থানার সাকিতপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), জিবু মিয়া (২৭) ও রাফি সর্দার (১৮) ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আহত জিবু মিয়ার চিকিৎসা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্য সৌরভ দাস বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা ও কিল-ঘুষি মেরে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন জিবু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর করা হয়।
এ ছাড়া জরুরি বিভাগে চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চিকিৎসাসেবায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম টানাহেঁচড়া করে মেঝেতে ফেলে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে একটি ইসিজি মেশিন, একটি সাকশন মেশিন, একটি ওজন মাপার যন্ত্র, দুটি রোগীর শয্যা ও একটি পানির কল ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের আনুমানিক ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার সাক্ষী হিসেবে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম, ডিএমএফ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী সোহাগ, ওয়ার্ডবয় মো. দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার বিধান দেবনাথ ও আনসার সদস্য সৌরভ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।
অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের কয়েকজনের দাবি, হাসপাতালের ঘটনার পর উভয় পক্ষের সংঘর্ষে হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় শুধু একপক্ষের লোকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই কয়েকজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার ১ নম্বর আসামি জাকারিয়া সর্দার বলেন, “ঘটনার দিন ও সময়ে আমি দিরাইতেই ছিলাম। আমাকে অযথা হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।”
আরেক আসামি মাহিম সর্দার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। ঘটনার দিন হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলায় একপক্ষের লোকজনকেই আসামি করা হয়েছে।”
আসামি সুহেল সর্দারের দাবি, মামলাটি ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল ও হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
অন্য আসামি মোস্তাকিম মিয়া বলেন, “হাসপাতালের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একপক্ষীয় মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
মামলার সাক্ষী হাসপাতালের ক্লিনার বিধান দেবনাথ বলেন, “ঘটনার শুরু থেকেই আমি উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে একজনকে মারধর শুরু করেন। তখন দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে যায়। আমি কারও নাম জানি না, তবে সামনে দেখলে চিনতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, মামলায় উল্লেখিত ১ নম্বর সাক্ষী ডা. ওয়াসিম আকরাম ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে ছিলেন না। পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি সেখানে আসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রীজীব বলেন, “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। আর তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কেউ অপরাধী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেউ অপরাধী না হলে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।”
মামলার বাদী ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, “মামলার আসামিদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা আমি নিজে জানি না। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও দেখে আসামি দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রী ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় আমি মামলা দায়ের করেছি। আসামি কারা, তাঁদের আমি চিনি না।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন বলেন, “দিরাইয়ের ঘটনার কথা শোনার পর আমি জিডি করার জন্য বলেছিলাম। পরবর্তী সময়ে মামলার কথাও বলেছি। তবে কাদের আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি জানি না। কাউকে অযথা আসামি করা হয়েছে কি না, সেটিও আমার জানা নেই। এ বিষয়ে দিরাই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।”
একদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা, চিকিৎসাসেবায় বাধা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ, অন্যদিকে মামলায় নির্দিষ্ট কয়েকজনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করার পাল্টা দাবি—দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান যাচাই করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার যেমন জরুরি, তেমনি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই সব পক্ষের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিবাদীপক্ষের লোকজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়া, হরমুজ প্রণালিকে খোলা রাখতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সামরিক মিশনের অংশ হিসেবে প্রণালির নিকটবর্তী জলসীমায় একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং সামুদ্রিক টহল বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি সিউল থেকে জানায়, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, সরকার চোংহে জলদস্যুবিরোধী নৌ ইউনিটের অভিযানিক এলাকা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে, ইউনিটটি প্রণালির নিকটে ওমানের দক্ষিণের জলসীমায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে রিডিং রুমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্ল্যা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়, হাবিপ্রবি’র জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার রাত ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে রিডিং রুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, "শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আজ এই রিডিং রুমের উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত হয়েছি। আশা করি, এই হলের শিক্ষার্থীরা আজ থেকে অধ্যয়নের বিশেষ সুবিধা পাবে।" তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক সকল ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সুন্দর পরিবেশে প্রত্যেকে যাতে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যেকে শিক্ষার মনোভাব নিয়ে গড়ে তুলতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এখানে কোনো বিভেদ ও বৈষম্য করা যাবে না। সর্বোপরি রিডিং রুমের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আসবাবপত্রসহ সকল সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে তোমাদেরকে সজাগ থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. আদনান আল বাচ্চু, বিজয় ২৪ হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. আবুল কালাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান এবং কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুন মাসে দৈনিক ৪০ কোটি টাকার লেনদেন থেকে বর্তমানে তা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে গেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে এই সেবার সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান উদ্বোধন করেন এই সেবাটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর উল্লেখ করেন, নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্কে এই সেবার সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এছাড়া, নগদবিহীন লেনদেনের পরিধি বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্কে বাংলা কিউআর সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
তৃণমূল পর্যায়ে এই সেবা সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ডেপুটি গভর্নর বলেন, মোবাইল ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক সুবিধার সীমিত প্রাপ্যতা এখানে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংক, খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলা কিউআর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, নগদবিহীন লেনদেনের বৃদ্ধি হলে মুদ্রা নোট ছাপানোর ব্যয় কমে যাবে এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলা কিউআর সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য হচ্ছে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের মানুষের কাছে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা আরও সহজলভ্য করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর দলীয় নেতৃত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। বুধবার তার মুখপাত্র এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তি জনসন, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নির্ধারণের সাংবিধানিক ধারায়ও তিনি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
এএফপি ওয়াশিংটন থেকে জানায়, জনসন নেতৃত্ব ছাড়ার খবর সঠিক কি না, জানতে চাইলে তার মুখপাত্র ই-মেইলে এক শব্দে জবাব দেন, ‘সঠিক’।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান জনসন বুধবার সকালে তার কর্মীদের নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর এক দিন আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকানরা। ভোটাররা কার্যত ট্রাম্পের দল ও তার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
৫৪ বছর বয়সী জনসন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তৎকালীন স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে অপসারণের পর রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে আপসপ্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন জনসন। তিনি পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিলেও দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারেন।
তবে সংখ্যালঘু দলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের পথ খুলেছে। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসতে পারেন বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান। তাঁরা দুজনই রক্ষণশীল এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তবে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় তিনি ‘নিজেকে জড়াবেন না’ বলে জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার এ পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তবে স্পিকার অসাধারণ ছিলেন। তাঁর অধীনে যাঁরা কাজ করেছেন, তারাও অসাধারণ ছিলেন। সবাই ভালো মানুষ।’
জনসন লুইজিয়ানায় নিজের আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তিনি অবিলম্বে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন কিংবা কংগ্রেস ছেড়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী স্পিকার হওয়ার জন্য দলের সহকর্মীদের সমর্থন চেয়েছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে তার এ পদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচিত হলে জেফ্রিস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সামর্থ্যের মধ্যে রাখা এবং জবাবদিহিকে তার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদ আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনব।’ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ