প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর দলীয় নেতৃত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। বুধবার তার মুখপাত্র এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তি জনসন, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নির্ধারণের সাংবিধানিক ধারায়ও তিনি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
এএফপি ওয়াশিংটন থেকে জানায়, জনসন নেতৃত্ব ছাড়ার খবর সঠিক কি না, জানতে চাইলে তার মুখপাত্র ই-মেইলে এক শব্দে জবাব দেন, ‘সঠিক’।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান জনসন বুধবার সকালে তার কর্মীদের নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর এক দিন আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকানরা। ভোটাররা কার্যত ট্রাম্পের দল ও তার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
৫৪ বছর বয়সী জনসন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তৎকালীন স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে অপসারণের পর রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে আপসপ্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন জনসন। তিনি পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিলেও দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারেন।
তবে সংখ্যালঘু দলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের পথ খুলেছে। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসতে পারেন বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান। তাঁরা দুজনই রক্ষণশীল এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তবে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় তিনি ‘নিজেকে জড়াবেন না’ বলে জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার এ পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তবে স্পিকার অসাধারণ ছিলেন। তাঁর অধীনে যাঁরা কাজ করেছেন, তারাও অসাধারণ ছিলেন। সবাই ভালো মানুষ।’
জনসন লুইজিয়ানায় নিজের আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তিনি অবিলম্বে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন কিংবা কংগ্রেস ছেড়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী স্পিকার হওয়ার জন্য দলের সহকর্মীদের সমর্থন চেয়েছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে তার এ পদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচিত হলে জেফ্রিস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সামর্থ্যের মধ্যে রাখা এবং জবাবদিহিকে তার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদ আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনব।’ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন