বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৪ পি.এম
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর দলীয় নেতৃত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। বুধবার তার মুখপাত্র এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তি জনসন, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নির্ধারণের সাংবিধানিক ধারায়ও তিনি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
এএফপি ওয়াশিংটন থেকে জানায়, জনসন নেতৃত্ব ছাড়ার খবর সঠিক কি না, জানতে চাইলে তার মুখপাত্র ই-মেইলে এক শব্দে জবাব দেন, ‘সঠিক’।
লুইজিয়ানার রিপাবলিকান জনসন বুধবার সকালে তার কর্মীদের নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর এক দিন আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকানরা। ভোটাররা কার্যত ট্রাম্পের দল ও তার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
৫৪ বছর বয়সী জনসন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তৎকালীন স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে অপসারণের পর রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে আপসপ্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন জনসন। তিনি পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিলেও দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারেন।
তবে সংখ্যালঘু দলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের পথ খুলেছে। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসতে পারেন বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান। তাঁরা দুজনই রক্ষণশীল এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তবে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় তিনি ‘নিজেকে জড়াবেন না’ বলে জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার এ পদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তবে স্পিকার অসাধারণ ছিলেন। তাঁর অধীনে যাঁরা কাজ করেছেন, তারাও অসাধারণ ছিলেন। সবাই ভালো মানুষ।’
জনসন লুইজিয়ানায় নিজের আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তিনি অবিলম্বে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন কিংবা কংগ্রেস ছেড়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী স্পিকার হওয়ার জন্য দলের সহকর্মীদের সমর্থন চেয়েছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে তার এ পদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচিত হলে জেফ্রিস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সামর্থ্যের মধ্যে রাখা এবং জবাবদিহিকে তার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদ আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনব।’ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবক এবং ওয়াকিফহাল মহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিকট অতীতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বরিশালের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ২৬ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন জিপিএ-৫ নিয়ে মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলেও দেখা গেছে এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পাসের হার। এই পরিস্থিতি অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে স্নায়ুচাপ সৃষ্টি করছে। বরিশালের শিক্ষার হার ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে, যা পূর্বে ছিল দেশের সর্বোচ্চ।
শিক্ষাবিদদের মতে, মোবাইল কালচার এবং রাতের আড্ডাবাজি বরিশালের শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সমাজের সামনে শিক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতমুখী চলার চিত্র তুলে ধরছে। এই পরিস্থিতি অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে, তবে শিক্ষার্থীদের বিবেকও ক্রমে বিবেকহীন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
নতুন সরকারের আমলে প্রথম এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় ৪ ভাগ বেড়ে ৬০.৪৫%-এ উন্নীত হলেও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ নিয়ে পাসের হার ৩.৪৫% ছিল, যেখানে উচ্চ মাধ্যমিকে সেই হার ছিল মাত্র ১.৬৪%। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে অংশগ্রহণকারী ৫৭,৯১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫০ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে মেয়েদের সাফল্য প্রায় দ্বিগুণ।
গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ছিল ৫৬.৩৮%, তবে এবছর তা ৩.৯৮% বেড়ে ২,৭৭৮ জন জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। গত বছরও জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল ৩,১১৪ এবং ২০২৪ সালে তা ৬,১৪৫।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অনেক শিক্ষকের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোচিং বাণিজ্য নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা কিছু ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবককে সাময়িক স্বস্তি দিলেও এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ১,৫১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫টির কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। উচ্চ মাধ্যমিকে পাস না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা ১১।
আড্ডাবাজি এবং মোবাইল সংস্কৃতির কারণে বরিশালে ছেলেদের সাফল্যের হার মেয়েদের চেয়ে কম ছিল। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৮০,৪৫৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৬৬.৬৫%, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৫৩.১৫%। গত বছর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৪৮.৪৫% এবং মেয়েদের ছিল ৬৩.৩৮%।
উচ্চ মাধ্যমিকে ছেলেদের গড় পাসের হার ৩৫.৩৮% হলেও মেয়েদের হার ছিল ৫২.৯৭%। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এবারের মাধ্যমিকের ফলাফলে পাসের হার গত বছরের তুলনায় ৩.৯৭% বেড়েছে, তবে উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ৩৭.০১% কমেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবারে কান্নার আওয়াজই শোনা গেছে।
এবারের মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ১,১৯৩, মেয়েদের সংখ্যা ১,৫৮৫। উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেদের সংখ্যা ৩৪৩, মেয়েদের সংখ্যা ৬০৭। মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া ২,৭৭৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২,৫৮৬ জন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে, মানবিক বিভাগে ৪৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৬৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ব্যবসায় শাখায় ১৭ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিকের মানবিক বিভাগে ১.১৪% এবং ব্যবসায় বাণিজ্য বিভাগে ০.৯৮% ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি, যা গত বছরের ১৭টি থেকে কমেছে। পটুয়াখালী জেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম এবারের শতভাগ পাসের তালিকায় নেই। উচ্চ মাধ্যমিকে বরগুনা, ভোলা ও ঝালকাঠির কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামও নেই।
মাধ্যমিকে পাসের হারের দিক থেকে পিরোজপুরের ৭০.৭২% ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়ে বোর্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে, বরগুনা ৬২.৯১% পাস করে দ্বিতীয় অবস্থানে এসেছে। বরিশাল ৬১.৭২% নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। ঝালকাঠি ৫৮.০৩% পাস করে ৪র্থ স্থানে উঠে এসেছে, তবে পটুয়াখালী ৫৭.১০% নিয়ে ৫ম। ভোলার অবস্থান ৫৩.৭১% পাসের হার নিয়ে ৬ষ্ঠ।
উচ্চ মাধ্যমিকেও পিরোজপুর জেলার গড় পাসের হার ৫১.৫৫% সর্বোচ্চ, বরিশাল ৪৯.৯৫% নিয়ে দ্বিতীয়। বরগুনার পাসের হার ৪৪.৬৬% এবং ভোলার ৩৯.৫৪%। পটুয়াখালী ৩৮.৫১% এবং ঝালকাঠির পাসের হার ৩৭.০৯%।
বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এবারে এসএসসি পরীক্ষায় ৮২,৯০২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০,৪৫৮ জন অংশগ্রহণ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার কম। উচ্চ মাধ্যমিকেও অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২৪-এর ৬৬,০৮৭ থেকে ৫৯,২৩৯-এ নেমেছে। গত তিন বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৮ সহস্রাধিক কমে ৫৭,৯১২-এ পৌঁছেছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সর্বনিম্ন গ্রেডে পাসের হার ২.৩৩%, যা গত বছরের তুলনায় ১ ভাগ বেশি। উচ্চ মাধ্যমিকেও সর্বনিম্ন গ্রেডে পাসের হার ৩.০৩%। এই পরিসংখ্যান শিক্ষার মান নিয়ে সংশয় বাড়াচ্ছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্ছ্বাসের বন্যা দেখা গেলেও বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চোখের পানি লুকাতে পারেননি। তবে অনেক অভিভাবক সন্তানের সাফল্যের খুশিতে কেঁদে ফেলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ দিবস উপলক্ষে এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে পাঁচটি হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু হবে। হাসপাতালগুলোর সেবার চার্জ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে, এবং আলোচনা শেষে দ্রুত এই সেবা চালু করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে পিএসসি মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ১৭ জনকে বগুড়ায় পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, দেশে নতুন করে ২০টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে বগুড়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সার্বিক চিকিৎসাসেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে দেশের ১৫টি হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব হাসপাতালে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। এছাড়াও, বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউলল করিম বাদশা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) গভীর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দিনমজুর জাহেদ মাজারের ভক্ত ছিলেন। বুধবার রাতে তিনি নিজবাড়ির পাশে হযরত দয়াল বাবা রুহুল আমিন শাহ-এর মাজার শরীফের একটি কামরায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই এলাকার ফরিদ বেপারী ওই কামরায় ঢুকে জাহেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তছলিম উদ্দিন জানান, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে হত্যা ও মাদক মামলাসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পূর্ব বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের নাওজোড়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন লাগার ফলে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চলছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এ এই ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সি আবদুল্লাহর শরীরের ২০ শতাংশ, ১৯ বছর বয়সি আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, ২৬ বছর বয়সি আশরাফুলের শরীরের ১৫ শতাংশ এবং ২৫ বছর বয়সি নাঈমের শরীরের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, ওই সেন্টারের ৪১টি সিলিন্ডারে আগুন লেগেছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিভিয়ে ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দগ্ধদের মধ্যে আবদুল্লাহ ও আহাদকে হাসপাতালের এইচডিইউতে (উচ্চমাত্রার পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার ইউনিট) রাখা হয়েছে বলে তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নাঈম জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে আছেন। শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার কারণে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ