বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৪ পি.এম
মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে ইসরাইল চারটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল দেশটির নিজস্ব জাতীয় নির্বাচন। সর্বশেষ পরাজয়টি ঘটে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে।
এই পরাজয়ের শুরু হয় ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে। ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আলেকসান্দার ভুচিচ এক মাস আগে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার জোট পরাজিত হয়। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন একটি জোটের কাছে তিনি পরাজয় বরণ করেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সার্বিয়ার নির্বাচনের মতো ইসরাইল কোনো বড় ইস্যু ছিল না। সেখানে মূলত অভ্যন্তরীণ অসন্তোষই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করেছে। ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ভুচিচ নির্বাচনে হারেননি। তবে তার পরাজয়ের প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলের জন্য সার্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে কেউ কেউ যখন ইসরাইলের কাছে অস্ত্র কিংবা অস্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করছিল, তখন সার্বিয়া তেল আবিবের পাশে দাঁড়ায়। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরদিনই ইসরাইল অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য সার্বিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। ভুচিচ তাতে সম্মতি দেন। এরপর ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা আকাশপথে ইসরাইলে পাঠানো শুরু হয়। ফলে ভুচিচের নির্বাচনী পরাজয় ইসরাইলের জন্য কেবল একজন ঘনিষ্ঠ মিত্রের রাজনৈতিক বিপর্যয় নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
ভুচিচকে ‘ইসরাইলের প্রকৃত বন্ধু’ আখ্যা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিয়ার নেতার সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপের সময় নেতানিয়াহু দেশটির ‘কথা ও কাজ—উভয় ক্ষেত্রেই অটল সমর্থন’-এর প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে ভুচিচকে ‘ইসরাইলের প্রকৃত বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। এখন যেহেতু ‘প্রকৃত বন্ধু’ ক্ষমতার বাইরে, ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অস্ত্রের লেনদেন ছিল দুই দিক থেকেই। ২০২৫ সালের আগস্টে সার্বিয়া ইসরাইলি ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য ১.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। গত এপ্রিল মাসে দেশ দুটি একটি কৌশলগত সংলাপ শুরু করে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ভুচিচ বেলগ্রেডে ইসরাইলি নকশায় তৈরি ড্রোন সংযোজনের একটি কারখানার উদ্বোধন করেন।
সবশেষ নির্বাচনে বিজয়ী ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে অস্ত্র রফতানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি অবশ্য ইউক্রেনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে। বিষয়টি ইসরাইলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না এবং ড্রোন সংক্রান্ত উদ্যোগটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
স্টুডেন্ট লিস্ট নির্বাচনী ইশতেহারে গাজার বিষয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ফিলিস্তিনি জনগণকে ধ্বংস করার যে সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, আমরা তাতে কোনোভাবেই সহযোগী হব না।’
সার্বিয়ায় ভুচিচের জোট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার দিনেই ব্রাজিলের বামপন্থি ও ইসরাইল-বিরোধী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পরাজিত হন। তিনি ডানপন্থি ও ইসরাইলন্থি ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেন। এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলকে ঘিরে ইসরাইলের প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লাগে। জেরুজালেম আশা করেছিল, কলম্বিয়া, পেরু, চিলি, বলিভিয়াসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের মতো ব্রাজিলেও ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসবে। এতে ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু লুলার জয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
অক্টোবরের শুরুর দিকে প্রথম দফার নির্বাচনে লুলার চেয়ে এগিয়ে থাকার পর, নেতানিয়াহু বলসোনারোকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। নেতানিয়াহুর অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটছে, তার অংশ হিসেবে তারা উভয় দেশ নিজেদের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বকে নতুন করে গড়ে তুলতে আগ্রহী।’ কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলার জয়ে নেতানিয়াহুর এমন আশায় গুড়েবালি হয়ে যায়।
ফ্লাভিও বলসোনারোর জয় তার বাবা জাইর বলসোনারোর নীতিগুলোর প্রত্যাবর্তন ঘটাবে বলে আশা করা হয়েছিল। ক্ষমতায় থাকার সময় বলসোনারো ২০১৯ সালে জেরুজালেমে একটি বাণিজ্য কার্যালয় খুলেছিলেন, ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করেছিলেন। তবে ২০২২ সালে লুলা যখন জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করেন, তখন তিনি ব্রাজিলকে বলসোনারের বিপরীত পথে পরিচালিত করেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার মামলায় ব্রাজিল সমর্থন জানায়।
এছাড়া গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন লুলা। একইসঙ্গে ইসরাইলে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে এনেছেন। ব্রাজিলে লুলার পুনর্নির্বাচন জেরুজালেমের প্রত্যাশিত সুযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটের মিত্ররা কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে দেশটিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তার জোট ‘চ্যাঞ্জ ব্লক’-এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ‘চ্যাঞ্জ ব্লক’ বলছে, নেতানিয়াহুর শিবিরের বাইরের দলগুলো—যার মধ্যে আরব দলগুলোও অন্তর্ভুক্ত—নেসেট -এ আসন সংখ্যার দিক থেকে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। যদিও কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
দেশে ও বিদেশে নানা চ্যালেঞ্জ থাকায় ইসরাইলের জন্য এবার এমন একটি নির্বাচন জরুরি ছিল, যার মধ্য দিয়ে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব হবে। এমন সরকারই দেশ পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ফল হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচটি নির্বাচনের সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এবারও অনেকটা তেমন ফলই পেয়েছে ইসরাইল। নির্বাচনে কোনো দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক মাস ধরে জোট আলোচনা চলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এসব আলোচনা সফল হয়ে সরকার গঠন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই জয়লাভ করেছে। আগামী জানুয়ারিতে যারা শপথ নেবেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আব্দুল এল-সায়েদ, যিনি ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতারা এল-সায়েদের অবস্থানের কতটা কাছাকাছি যাবেন। কোনো দলের মধ্যে ছোট হলেও সোচ্চার একটি গোষ্ঠী ভোটের সংখ্যায় সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো শক্তিশালী না হলেও বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কংগ্রেসে যখন ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি, সামরিক সহায়তা এবং দেশটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর নজরদারির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, তখন এই প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বার্নি স্যান্ডার্সপন্থি, ইসরাইল-বিরোধী অংশটি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় শক্তিশালী হয়েছে।
এছাড়া ইসরাইলের জন্য সমস্যাটি কেবল ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রিপাবলিকানদের মধ্যেও এমন কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, যারা মঙ্গলবারের শোচনীয় পরাজয়ের জন্য ইসরাইলকেই দায়ী করছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি শিরোনাম ছিল: ‘ট্রাম্পের মিত্ররা রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়কর পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করছেন: ‘আশা করি শুমার (সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা) নেতানিয়াহুকে ফোন করে তাকে ধন্যবাদ জানাবেন।’
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করা কিছু ভোটার মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর পেছনে চারটি প্রধান কারণ ছিল: ইরানে যুদ্ধের অবসান ঘটানো, জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দেয়া) নীতি অনুসরণ করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের পরিবর্তন আনা।
যুক্তিটি হলো এই রকম: রিপাবলিকানরা নির্বাচনে হেরেছে কারণ জ্বালানির দাম ছিল বেশি। আর জ্বালানির দাম বেশি ছিল ইরান যুদ্ধের কারণে। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সেই যুদ্ধে টেনে এনেছিলেন। সুতরাং, দোষটা ইসরাইলের।
আগামী দুই বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই থাকবেন। তবে ইসরাইলকে এখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে। একই সময়ে যখন খোদ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কেউ কেউ রিপাবলিকানদের পরাজনের জন্য ইসরাইলকেই দায়ী করছেন।
ইসরাইলে নতুন সরকার গঠিত হোক বা না হোক, ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। ইসরাইলের অনিষ্পন্ন নির্বাচনের ঝুঁকি এটাই। জেরুজালেমে কে ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারিত হতে হতে ওয়াশিংটনের পরিস্থিতি হয়তো সম্পূর্ণ বদলে যাবে। এমনকি তখন ইসরাইলের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখা উচিত, তা নিয়ে হয়তো নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়ে যাবে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৮ নভেম্বর (রোববার) রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সোমবার (৫ নভেম্বর) একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে চলার জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো- ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরোনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত।
এছাড়া, মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরোনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরোনো নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব রাস্তা ও গলিপথ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
এ সময় এসব এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন করা এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার দিনেই নতুন বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের হামলা এবং পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে অশালীন ভাষায় পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলায় নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তাকে কেউ ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন এ অভিনেত্রী। এই ঘটনার কারণে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে, পরীমনির বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
আদালত প্রাঙ্গণের উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাত্র দুটি শব্দের একটি পোস্ট দেন পরীমনি। পোস্টের ভাষা ছিল চরম আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক। যদিও তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
পোস্টটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার লাইক পড়ে। তবে কমেন্ট বক্স বন্ধ থাকায় অনুসারীরা সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। এই অশালীন ভাষার পোস্টকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সমালোচকদের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা বিরক্তি থাকতেই পারে, তবে একজন জনপ্রিয় পাবলিক ফিগারের পক্ষ থেকে এমন অশালীন ভাষার ব্যবহার ও আক্রমণাত্মক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত, পরীমনির থেকে এমন প্রতিক্রিয়া অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এই অভিনেত্রীর বিভিন্ন আইনি জটিলতা, আদালত প্রাঙ্গণে অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি (যেমন: হাতের তালুতে উসকানিমূলক বার্তা লিখে পোজ দেওয়া) এবং সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট বারবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম এমপি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এনসিপি এ মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করছে, কারণ সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’
নাহিদ ইসলাম এমপি আরও বলেন, ‘বিএনপি সারা দেশে দমন নিপীড়ন চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে দমন নিপীড়নের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলন দমানো যাবে না। পুলিশ শ্রমিক কলোনিতে গিয়ে শ্রমিকদের ধরপাকড় করছে, গ্রেফতার করছে এবং নির্যাতন চালাচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনকে দমাতে বিএনপি তাদের গুন্ডাবাহিনী মাঠে নামিয়েছে। একই কায়দায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের সহিংসতা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে বিএনপিও দমন নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।’
এছাড়া, বিএনপি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণেও ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি একক প্রার্থী দেবে বলেও জানান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম এমপি।
দিনাজপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ে আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সভাপতি নাহিদ ইসলাম এমপি।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন: সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, ডক্টর আতিক মুজাহিদ এমপি। সমন্বয় সভায় জেলার এনসিপির সভাপতি সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রথমবারের মতো ‘বোর্ডিং পাস প্রিভিলেজ’ প্রোগ্রাম চালু করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার। যাত্রীসেবায় নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আওতায় নভোএয়ারে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ব্যবহৃত বোর্ডিং পাস প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাড় ও বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নভোএয়ারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, বিনোদন পার্ক, হাসপাতাল এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতের অংশীদার প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। যাত্রার তারিখ থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ব্যবহৃত বোর্ডিং পাস দেখিয়ে এসব ছাড় ও বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
নভোএয়ারের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) সোহেল মজিদ জানিয়েছেন, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য নতুন সেবা চালু করতে কাজ করছে নভোএয়ার। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভ্রমণ শেষ হওয়ার পরও যাত্রীরা বিশেষ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানের নতুন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে নভোএয়ার দেশের প্রথম ‘স্মাইলস’ ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম, কো-ব্র্যান্ডেড কার্ড, মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব চেক-ইন সুবিধা চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এ কর্মসূচির মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য সেবার পরিধি আরও বাড়বে।
বর্তমানে নভোএয়ার ঢাকা থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
এ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে নভোএয়ারের ওয়েবসাইটে (www.flynovoair.com) অথবা ১৩৬০৩ নম্বরে ফোন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ