বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৯ এম
সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। তিনি হাসি কম দিতেন, কিন্তু তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা দিয়ে সহজেই মানুষকে কাছে টেনে নিতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের অধিকারী।
সাবেক মেয়র এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব মন্তব্য করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। গতকাল বুধবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে এই স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও খোকাপুত্র ইশরাক হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন।
নিজেদের শৈশব, কৈশোর এবং রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে মির্জা আব্বাস জানান, তিনি শাহজাহানপুরের এবং খোকা গোপীবাগের বাসিন্দা ছিলেন। পাশাপাশি, তারা কখন যে একে অপরের সঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন, তা বুঝতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে ছিলেন।
তিনি বলেন, "খোকা এবং আমার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে যদি লিখতে বসি, তবে আস্ত একটি বই হয়ে যাবে। রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হতো, কিন্তু দিনশেষে আমরা বিএনপির আদর্শ ও মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করেছি।"
আবদুস সালাম বলেন, সাদেক হোসেন খোকা শুধু ঢাকা মহানগরী নয়, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের মাধ্যমে পাওয়া স্বাধীন দেশে ঢাকার অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর দেশটির শেয়ারবাজার চাঙা হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোতে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। ডাও জোন্স সূচকটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর একদিনে সর্বোচ্চ উত্থানের রেকর্ড গড়েছে।
বুধবার ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ৩৫৬ দশমিক ১২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সূচকটি ৫৩ হাজারের ঘর অতিক্রম করেছে।
এদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নাসডাক কম্পোজিট সূচক বেড়ে ৩৬৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ হয়েছে। দিন শেষে সূচকটি ২৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এই পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভক্ত সরকারব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয়ী হয়েছেন। টেক্সাসে রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জিনা হিনোজোসা। এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে তিন দশকের বেশি সময়ের রিপাবলিকান আধিপত্যের অবসান ঘটেছে।
ট্রাম্প নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন-পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্পের বাণিজ্য, রাজস্ব ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর ওয়াশিংটনের ওপর যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চাপ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় দরপতন ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৪ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমে প্রায় ৮৮ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার) নির্মাণ ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কঠোর নজরদারি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা পরিমাপের সূচক হিসেবে পরিচিত ‘ওয়াল স্ট্রিট ফিয়ার গেজ’ বা সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স (ভিআইএক্স) ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্টে নেমেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নকলা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ মো. রানা মিয়া (৩৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গৌড়দ্বার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এসআই তারিকুল, এসআই এমদাদ ও এসআই মামুনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
আটক রানা মিয়া উপজেলার ৪ নম্বর গৌড়দ্বার ইউনিয়নের ছাতুগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের ছেলে এবং একই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের ভাতিজা বলে জানা গেছে।
নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌড়দ্বার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রানা মিয়াকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব এবং সিরিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি বৃহৎ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হলো।
সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সম্প্রতি রিয়াদ সফর করেন এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি তাদের এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। বৈঠকের সময় উভয় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার এই চুক্তিতে সই করা হয়।
সামরিক চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হুথি বিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সিরিয়া সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা প্রদান করতে পারে, সেই ভিত্তি চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। এর আগে সিরীয় এক কূটনীতিক জানিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো সামরিক কিংবা অভিজ্ঞতা বিনিময় সরকারি চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে জোরদার করতে সৌদি আরব ৪০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুদ্ধার করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক পুনর্গঠনে সৌদি সরকার শুরু থেকেই সহায়তা করে আসছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ