বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৩ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। নির্বাচনী প্রচারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও, জয়টি ছিনিয়ে আনার ঘটনাকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একটি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, আল-সাইয়েদের এই জয় অনেক মানুষের জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় তিনি যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন, সেগুলো অতিক্রম করে তার বিজয় অর্জন করা সত্যিই দারুণ আনন্দের।
মামদানি আরও বলেন, আল-সাইয়েদ গত রাতে যেভাবে বলেছেন, ‘ভালো মানুষেরাই জয়ী হয়েছেন।’
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দাপ্রধান শফিকুল ইসলাম।
গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে ডিএমপির ডিবিপ্রধান জানালেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজীব ঘোষ মুচলেকায় ছাড়া পাচ্ছেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই দুই সাংবাদিকের আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এর আগে গতকাল দুপুরে মহাখালীতে ডিবিসির কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়, সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও। পরে তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘একটি নিউজ প্রচারকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে ইকবাল সোবহান চৌধুরী অফিসে যাওয়ার পথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে এ পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তিনিসহ সেখান থেকে আরো দুজনকে ডিবিতে আনা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছি।’ তবে কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সেটা তিনি ব্যাখ্যা করেননি। উল্লেখ্য, ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বেও আছেন।
এই ঘটনার পর বিকেলে ডিবিসির কার্যালয়ে কথা বলতে গেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক। তিনি বলেন, ‘ডিবিসি অফিস থেকে যখন ইকবাল সোবহান চৌধুরী বের হচ্ছিলেন তখন তাঁকে রাস্তা থেকে নিয়ে গেছে ডিবি। কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমরা ক্লিয়ার না।’
ডিবিসির সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মুক্তাদীর বলেন, ‘আমাদের আরেকজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ না, জাস্ট ডিবি বলেছে—‘আপনি একটু চলেন, চা খাব।’
রাজীব ঘোষকেও রাস্তা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু উনি ডিবিসির ক্রাইম চিফ, তাই পুলিশের কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক আছে। তাঁকে সেই সুবাদে কথা বলার জন্য নিয়ে গেছে। তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে—এটা আসলে ঠিক না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ৭৭টি জেলা ও মহানগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমিরদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এই নির্বাচনে ২০টি জেলা ও চারটি মহানগরে আমির পদে পরিবর্তন ঘটেছে। অন্যদিকে, বাকি শাখাগুলোতে পূর্ববর্তী দায়িত্বশীলরাই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কুমিল্লা মহানগরে ভোটগ্রহণ এবং জামালপুর জেলায় ফল প্রকাশের পর্ব স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার, রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন।
দলের রুকনদের (সদস্য) গোপন ব্যালটে আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বুধবার রাতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদে জেলা ও মহানগর আমির নির্বাচনের জন্য গত ৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে গোপন ব্যালটে রুকনদের ভোটগ্রহণ করা হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা'ছুমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন এই ভোটগ্রহণ পরিচালনা করে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন প্রতিটি জেলা ও মহানগরের নির্বাচনের জন্য আলাদা প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়। সংশ্লিষ্ট শাখায় রুকন সম্মেলনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম আমার দেশকে জানান, আগামী মেয়াদের নির্বাচনে বগুড়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর মহানগরে আমির পদে পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, পাবনা, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, মাগুরা, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় নতুন আমির নির্বাচিত হয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নবনির্বাচিত আমিরদের মধ্যে তরুণ ও প্রবীণ—দুই প্রজন্মের প্রতিনিধিই রয়েছেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম আরো জানান, নবনির্বাচিত আমিরদের শপথ অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। জামায়াত আমিরের প্রতিনিধি হিসেবে দলের অঞ্চল পরিচালকরা সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগরে রুকন বা দায়িত্বশীলদের বৈঠকের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা ও সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
এটি ঘটেছে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তার বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত শাহরিয়ার জামানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন রাত পৌনে ১০টার দিকে। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গচিহাটা বাজারে গিয়েছিলেন শাহরিয়ার জামান। এসময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। জড়িতদের আটক করতে ও ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় হ্রাস করা এবং আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই লক্ষ্যে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতাধীন এমআরটি লাইন-১-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রাক্ট প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬ ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এই চুক্তিগুলোর স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে এই চুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। অনুষ্ঠানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, "রাজধানীর যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী নগর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও জানান। এসময় তিনি জাপান সরকারের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও জাইকার অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরকে এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে শ্রম আইনসহ দেশের প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইন মেনে নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে, যাতে নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষের যে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হবে, তা দীর্ঘায়িত না হয়।"
তিনি আরো বলেন, "নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।" প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ (Employer), প্রকৌশলী (Engineer) ও ঠিকাদারদের (Contractor) মধ্যে স্বচ্ছ, ধারাবাহিক ও কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ঢাকাবাসীর জন্য দ্রুততর, আধুনিক, নিরাপদ ও বিশ্বমানের গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু ও গতিশীল করার উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।" দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপান পাশে থাকতে আগ্রহী।
চুক্তি স্বাক্ষরিত এমআরটি লাইন-১-এর চারটি প্যাকেজের আওতায় যেসব কাজ হবে:
১. কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৪ (টানেল ও স্টেশন নির্মাণ): এ প্যাকেজের আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর রামপুরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত মোট ৪.৪৪৭ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট নির্মাণ করা হবে।
২. কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৬ (টানেল ও স্টেশন নির্মাণ): এ প্যাকেজের আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর নদ্দা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত মোট ৫.১৮২ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট নির্মাণ করা হবে।
৩. কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৯ (ট্র্যাক ও ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম): এ প্যাকেজের আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর ট্র্যাক ওয়ার্কস (রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং ইত্যাদি) এবং ইলেকট্রিক্যাল ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে।
৪. কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-১০ (সিগন্যালিং, টেলিকমিউনিকেশন, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম): এ প্যাকেজের আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর সিগন্যালিং সিস্টেম (কমিউনিকেশন বেজড অটোমেটিক ট্রেন কন্ট্রোলিং সিস্টেম), টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম (অপটিক্যাল ফাইবার বেজড ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ও এলটিই (LTE) প্রযুক্তির রেডিও কমিউনিকেশন ব্যবস্থা), প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ERMS) স্থাপন করা হবে।
চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াত চাহিদা মোকাবেলা, যানজটের চাপ কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরো এগিয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ