ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে কমিশন গঠন


হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে কমিশন গঠন

হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের তদন্তের জন্য সরকার অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামুন রহমান। কমিশনকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের ঘটনা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় চিহ্নিত করবে।

তদন্তের স্বার্থে কমিশন দেশের যেকোনো স্থানে পরিদর্শন করতে পারবে, যেকোনো ব্যক্তিকে তলব এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা থাকবে। কমিশন খতিয়ে দেখবে, টিকা কেনা ও বিতরণে সময়ক্ষেপণের কারণ কী ছিল, কোথায় অনিয়ম ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্বশীলদের ভূমিকা কী ছিল। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও কমিশন করবে।

আজ বুধবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ অনুযায়ী এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পোশাক খাতে অস্থিরতা: এনবিআরের নির্দেশে শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিত, নজরদারিতে ১২৫ প্রতিষ্ঠান

কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন- বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মইনুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে এ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিশনের কার্যপরিধিতে তিনটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, হামের টিকা কেনা ও বিতরণে সময়ক্ষেপণ, অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব চিহ্নিত করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেওয়া। তৃতীয়ত, কমিশনের বিবেচনায় এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো সুপারিশ থাকলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা।

কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সচিবিক সহায়তা দেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। এ ছাড়া কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী তদন্তের ব্যয় নির্বাহ এবং প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ করবে বিভাগটি।

আরও পড়ুন: ডুমুরিয়ায় দুর্বৃৃত্তের গুলিতে যুবক তরিকুল ইসলাম শেখ খুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ দিয়ে চলাচলে ঢাকাকে তেহরানের সমন্বয়ের পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ এম


হরমুজ দিয়ে চলাচলে ঢাকাকে তেহরানের সমন্বয়ের পরামর্শ

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ইরানের নির্দেশনা না মেনে কোনো দেশের পক্ষে এই নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব নয়।"

তিনি বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রতিদিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। তবে ইরানের নির্দেশনা না মানার কারণে কিছু ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "এই পথ দিয়ে যেতে হলে ইরানের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।"

বাংলাদেশের কোনো জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি জানান, এ-বিষয়ক তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি গোপনীয় হওয়ায় এ নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।" তবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দুদেশের সুসম্পর্কের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ যাতে নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে, সে জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ নিয়ে ইরান, কাতার এবং ওমানের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, "মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শর্ত জানানো হয়েছে।" এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইরানে হামলা না করার নিশ্চয়তা।

সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের ইরান সমর্থন করবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জলিল রহিমি বলেন, "রোহিঙ্গা মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের সমর্থন দেবে তেহরান।"

সংবাদ সম্মেলনে সুন্নি মুসলমানদের প্রতি ইরানের সমর্থনের কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরার পর রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "দুপক্ষের সদিচ্ছা থাকলেই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।" তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল এবং একটি বড় চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল দুটি দেশ। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছিল। হামলার আগের রাতেও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। রাষ্ট্রদূতের ধারণা, দুদেশের মধ্যে তৃতীয় দফা যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং এ জন্য ইরান প্রস্তুত। তিনি জানান, তেহরান বন্ধু রাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র অতীতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতেও এমন হামলা চালাতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমানুপাতিক জবাব দেওয়া হবে।"

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে কিনা– জানতে চাইলে জলিল রহিমি বলেন, "তেহরান এমন কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন ইকবাল সোবহান, মুক্তি পেলেন রাজীব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ এম


হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন ইকবাল সোবহান, মুক্তি পেলেন রাজীব

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) রাতে ডিবি কর্তৃপক্ষ তার গ্রেফতারের খবর প্রকাশ করে।

এর আগে, একইদিন দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময়ে ডিবিসির বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকেও ডিবি পুলিশ আটক করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডিবিসিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ায় ইকবাল সোবহানসহ দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে রাত সাড়ে ১২টায় শফিকুল ইসলাম জানান, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, রাজীব ঘোষের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জেন-জিদের উত্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ এম


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জেন-জিদের উত্থান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন দুইজন বিশ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ, যারা কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিচিত। তাদের এই বিজয় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরেছে।

উইসকনসিনের সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান দলের ২৬ বছর বয়সী মাইকেল আলফোনসো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ফ্রেড ক্লার্ককে পরাজিত করেছেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এবং ২০০০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কংগ্রেসে প্রবেশের নজির স্থাপন করেছেন।

রাজনীতির নতুন মুখ হিসেবে পরিচিত আলফোনসো, যিনি পরিবহন সচিব শন ডাফির জামাতা, নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকা সবার আগে) এজেন্ডা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তার নির্বাচনি প্রচারণায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মতো রক্ষণশীল অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কলোরাডোর প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ২৯ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলাত কিরোস জয়ী হয়েছেন। ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী (ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্ট) কংগ্রেসের প্রথম ‘জেন জেড’ নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পূর্বে দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডায়ানা ডিগেটকে পরাজিত করেছিলেন।

কিরোস, যিনি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক, ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন; তিনি গাজার যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও, তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং সর্বজনীন শিশুযত্ন ব্যবস্থার সমর্থক।

আলফোনসো ও কিরোসের আগে, ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট নেতা ২৯ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট ২০২২ সালে নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেসের প্রথম ‘জেন জেড’ সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের সমর্থক ফ্রস্ট ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই পুনরায় জয়ী হয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আল-জাজিরার মতামত

যুক্তরাষ্ট্র দুই বছরের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক তীব্র সংকটের মুখোমুখি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ এম


যুক্তরাষ্ট্র দুই বছরের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক তীব্র সংকটের মুখোমুখি

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভের পর ওয়াশিংটনে একটি অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। সাধারণত মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ট্রাম্প প্রথাগত রক্ষণশীল আদর্শের পরিবর্তে লেনদেনমূলক রাজনীতির প্রতি আগ্রহী। ফলে, আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক স্তব্ধতা দেখা যাবে না; বরং রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার মধ্যে একটি ধারাবাহিক ও তীব্র সাংবিধানিক লড়াই শুরু হবে।

রিপাবলিকান পার্টির ঐতিহ্যগত মুক্তবাজারের ধারণাকে ট্রাম্প বহু আগেই ভেঙে দিয়েছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতি এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ধারার সাথে অনেকটাই মিলে যায়। ফলে, ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে সরাসরি সংঘাত না করে বিষয়ভিত্তিক ও অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যেখানে সমঝোতা সম্ভব হবে না, সেখানে ট্রাম্প কংগ্রেসকে তোয়াক্কা না করে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ‘নির্বাহী ক্ষমতা’ ও জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা ট্রাম্পের কাছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে, যা তিনি ডেমোক্র্যাটদের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহার করবেন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংঘাত সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা দেওয়া হলেও, যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন ও বাজেটের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ ও একতরফা সিদ্ধান্ত আটকানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে আইনগত বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অটল থাকবেন।

এদিকে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ট্রাম্প প্রশাসনকে কাবু করতে অভিশংসন ও নিয়মিত তদন্তের অস্ত্র ব্যবহার করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না। কংগ্রেসের কমিটিগুলো তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে লাগাতার সমন ও অনুসন্ধান চালাতে পারে। তবে, ট্রাম্প কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক এই যুদ্ধে ভয় পান না; বরং তিনি এই তদন্ত ও অভিশংসনের প্রক্রিয়াকে তার ভোটারদের কাছে প্রতিপক্ষের একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও অন্যায্য চক্রান্ত হিসেবে তুলে ধরে নিজের জনপ্রিয়তাকে আরও চাঙ্গা করবেন। সিনেটে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হওয়ায়, অভিশংসনের মতো প্রক্রিয়াগুলো কেবল সাংবিধানিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।

সব মিলিয়ে, আগামী দুই বছর ওয়াশিংটনে নিষ্ক্রিয় সময় কাটবে না; বরং শাসনব্যবস্থা একের পর এক সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। ট্রাম্পের একক নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার এবং কংগ্রেসের কঠোর অবস্থানের ফলে মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোর যে চরম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা বিশ্বে আগে কখনো দেখা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%