রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১০ পি.এম
২০১৬ সালে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরনে অক্ষম অবস্থায় থাকা এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেন সাবেক ইসরাইলি সেনা এলোর আজারিয়া। দুঃখ প্রকাশ করায় তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হারজোগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে আজারিয়াকে ক্ষমা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
২০১৬ সালে হেবরনে ইসরাইলি এক সেনাকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন ফিলিস্তিনি আবদেল-ফাত্তাহ আল-শরিফ। পরে তাকে গুলি করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। প্রায় ১১ মিনিট পর মাটিতে পড়ে থাকা আল-শরিফকে গুলি করে হত্যা করেন আজারিয়া।
এই ঘটনায় আজারিয়াকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি এর মধ্যে ৯ মাস কারাভোগ করেন।
ঘটনাটি ইসরাইলি সমাজে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। দেশটির ডানপন্থীদের একটি অংশ আজারিয়ার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করলেও অন্যরা বলেছিল, তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন এবং তার আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।
আজারিয়া পরে অপরাধের রেকর্ড দ্রুত মুছে দেওয়ার আবেদন করেন। তার রেকর্ড আইন অনুযায়ী ২০৩২ সালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে এই সময়সীমা কমানো হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
তবে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা আজারিয়ার আবেদন সমর্থন করেননি। তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজকে চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আজারিয়ার দীর্ঘ সময় কারাদণ্ড ভোগ, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া, তার পরিবর্তিত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতি এবং নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কার্যালয়ের দাবি, আজারিয়া তার আবেদনে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি গুলি চালানোর ঘটনাকে ‘অপারেশনাল ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, এখনকার দৃষ্টিতে তিনি ওই গুলি চালাতেন না।
তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় স্পষ্ট করেছে, ক্ষমার সিদ্ধান্তের অর্থ মামলার আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের রায়কে বাতিল করা নয়। এটি মামলার পুনর্মূল্যায়নও নয়।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় জবাবদিহির উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজারিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই উদ্যোগ বাতিল করলেও আজারিয়ার ক্ষেত্রে ২০২০ সালের পৃথক একটি আইনের অধীনে দেওয়া ভিসা নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফর সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকে। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যস্ত সফরের পেছনে তার খাবারের পছন্দের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দামি রাজকীয় খাবারের পরিবর্তে সাধারণ খাবারের প্রতি তার আকর্ষণ রয়েছে, যা বেশ কিছু উদাহরণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। এমনকি একবার তিনি মাত্র ২১ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকা) দামের খাবার খেয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
সম্প্রতি ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে শি জিনপিং প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন। রাষ্ট্রীয় সফরের সময় তার খাবারের বিষয়টি সাধারণত আলোচনা হয় না। তবে বছরের পর বছর ধরে নথিভুক্ত হওয়া কয়েকটি মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজ থেকে চীনা প্রেসিডেন্টের খাবারের পছন্দ সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।
মাত্র ৩০০ টাকার খাবার
শি জিনপিংয়ের খাবারের অন্যতম আলোচিত গল্পটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের। সেদিন তিনি বেইজিংয়ের কিংফেং স্টিমড বান রেস্তোরাঁয় গিয়ে ছয়টি শূকরের মাংস ও পেঁয়াজপাতা দেওয়া বান, এক বাটি রান্না করা কলিজা এবং এক প্লেট সরিষা শাকের তরকারি অর্ডার করেন। পুরো খাবারের জন্য খরচ হয়েছিল ২১ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকা।
সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, শি লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেই খাবারের দাম পরিশোধ করেন। এরপর তিনি সবার সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান। চীনের শীর্ষ নেতাকে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় এভাবে খেতে দেখা সে সময় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এসআইআর জার্নাল উল্লেখ করে, শির বেছে নেওয়া স্টিমড বানও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি ছিল সস্তা ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবার, কোনো ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ প্রেসিডেন্টের খাবার নয়।
মদ পরিবেশনেও ছিল আপত্তি
২০১২ সালে হেবেই প্রদেশের ফুপিং কাউন্টি পরিদর্শনে গিয়ে শি জিনপিংয়ের নৈশভোজেও ছিল সাধারণ খাবার। পিপলস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তার খাবারের তালিকায় বাদামি সসে রান্না করা মুরগির মাংস, শূকরের পেটের মাংস দিয়ে রসুনের কুঁড়ি ভাজি এবং রসুন দিয়ে রান্না করা গারল্যান্ড ক্রিস্যান্থেমাম শাক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে খাবারের সময় তিনি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন—কর্মীদের যেন মদ পরিবেশন না করা হয়।
ওই সফরের আরেকটি বিষয়ও উল্লেখযোগ্য। শি জিনপিং একটি মাত্র ১৬ বর্গমিটারের ছোট হোটেল কক্ষে অবস্থান করেছিলেন। কক্ষটির বাথরুমের টাইলসও ভাঙা ছিল। কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে শি বলেন, কক্ষটি পরিষ্কার এবং দেখতে ভালো। তিনি আরও জানান, তিনি চলে যাওয়ার আগেই যেন হোটেলের বিল পরিশোধ করা হয়।
পুরোনো দিনের খাবারে ফেরেন শি
শি জিনপিংয়ের খাবারের পছন্দের সাথে তার জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে তরুণ বয়সে তিনি বসবাস ও কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে সেই গ্রামে ফিরে গিয়ে তিনি ঘরোয়া খাবার খান। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই খাবারের তালিকায় ছিল আচার, ভাজা কেক, মুরগির মাংস, খাসির মাংস ও কুমড়া।
শানসির খাবার তার রাজনৈতিক অতিথিদের সঙ্গে ভোজেও স্থান পেয়েছে। ২০১৪ সালে বেইজিংয়ে তৎকালীন কুওমিনতাং চেয়ারম্যান লিয়েন চ্যানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আয়োজিত খাবারে ছিল খাসির মাংসের পাই, খাসির মাংসের স্যুপ ও নুডলস। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছিল।
আরেকটি উদাহরণ রয়েছে। ২০১৪ সালে চীনা নববর্ষের আগে ইনার মঙ্গোলিয়ায় সেনাসদস্যদের সঙ্গে খাবার খান শি। পিপলস ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন তার খাবারের মধ্যে ছিল টমেটো দিয়ে ভাজা ডিম।
কী ধরনের খাবার পছন্দ করেন জিনপিং?
শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবার এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভোজ মূলত কূটনৈতিক আয়োজন। এসব ভোজে দামি উপকরণ ও বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে চীনের বৈচিত্র্যময় খাবারের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।
তবে শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবারের যেসব তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলো একসঙ্গে দেখলে ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া যায়। তার খাবারের তালিকায় বারবার এসেছে স্টিমড বান, নুডলস এবং শানসির ঘরোয়া রান্নার মতো সাধারণ খাবার।
অর্থাৎ, চীনের প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে আলোচিত খাবারের স্মৃতিগুলো অনেক সময় রাজকীয় রাষ্ট্রীয় ভোজের নয়; বরং সাধারণ মানুষের পরিচিত খাবার ঘিরেই। আর এসব খাবারের সাথে জড়িয়ে আছে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটানো শানসি অঞ্চলের স্মৃতিও।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম চিরনিদ্রায় শায়িত হলো।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কোটবাড়ি গন্ধমতির বাসার পাশে অবস্থিত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজার পর তার দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে অপ্রতিম তার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে, ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে, লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ কোটবাড়ী গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে।
এদিকে, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় শনিবারও আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই আজ ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। আর কয়েক ঘণ্টা পর, প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অবিলম্বে সকল হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ কোটবাড়ী গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে।
এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় শনিবারও আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই আজ ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। আর কয়েক ঘণ্টা পর প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই রাফিনিয়া অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। তিনি গোলের পর গোল করে চলেছেন। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বার্সেলোনা জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে, এই ফর্মের পরেও ব্রাজিলের সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। কারণ, বার্সেলোনা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলে রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সে পার্থক্য রয়েছে। এর পেছনে অন্তত তিনটি কারণ রয়েছে।
বার্সেলোনায় কেন উজ্জ্বল রাফিনিয়া
রাফিনিয়ার ব্রাজিলের ম্লান পারফরম্যান্সের কারণ বোঝার জন্য প্রথমে তার বার্সেলোনার ভূমিকাটি বুঝতে হবে। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে, তিনি অনেকটা স্বাধীন ভূমিকায় খেলেন। প্রায়ই তাকে মাঝমাঠের কাছাকাছি বা অপ্রচলিত স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যায়। এই ভূমিকায় তিনি নিচে নেমে বল বিতরণে সহায়তা করেন এবং বক্সের ভেতরেও ঢুকে পড়েন সুযোগ তৈরির জন্য।
ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামালের দাপটের কারণে রাফিনিয়া প্রায়ই ভেতরের দিকে বা বাম-মধ্যমাঠে সরে আসেন। সেখান থেকেই তিনি দলের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় খেলছেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতে একাধিক হ্যাটট্রিকসহ বিশাল সংখ্যক গোল করেছেন তিনি।
বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক প্রেসিং এবং দ্রুতগতির খেলার ধরন তার খেলার ধরনের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। বল ছাড়া দৌড়ের সময় বোঝাপড়া, উচ্চ কর্মক্ষমতা এবং নিখুঁত ফিনিশিং তাকে আলাদা করে তোলে।
দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রাফিনিয়ার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তিনি এখন দলের আক্রমণভাগের পুরো পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন।
ব্রাজিলের জার্সিতে কেন রাফিনিয়া ভিন্নভাবে খেলেন, তা বোঝা প্রয়োজন। ব্রাজিল তার অসামান্য পজিশনিংয়ের ক্ষমতাকে কমই কাজে লাগায়। জাতীয় দলে তাকে বেশিরভাগ সময় প্রথাগত ডান প্রান্তের উইঙ্গার হিসেবে খেলানো হয়। বার্সেলোনায় যেমন মাঝমাঠের কাছাকাছি খেলার স্বাধীনতা পান, ব্রাজিলে তেমনটি পান না।
এদিকে, ব্রাজিলের খেলার ধরন এবং গতি বার্সেলোনার মতো নয়। ইয়ামাল বা পেদ্রির মতো সতীর্থদের সঙ্গে যে স্বয়ংক্রিয় বোঝাপড়া তার ক্লাবে রয়েছে, জাতীয় দলে তেমনটি নেই। ফলে রক্ষণাত্মক বা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাকে প্রায়ই একা লড়তে হয়।
এছাড়া, ব্রাজিলের বাড়তি চাপও রয়েছে। রেকর্ড ৫ বারের বিশ্বকাপজয়ীদের হয়ে খেলার সময় তার ওপর বাড়তি চাপ থাকে। সরাসরি সুযোগ তৈরি এবং তারকাসুলভ পারফরম্যান্সের জন্য গণমাধ্যম ও সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ক্লাবের স্বস্তিদায়ক পরিবেশের তুলনায় এই মানসিক চাপ তার জন্য ইতিহাসগতভাবে বেশি ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ