প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফর সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকে। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যস্ত সফরের পেছনে তার খাবারের পছন্দের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দামি রাজকীয় খাবারের পরিবর্তে সাধারণ খাবারের প্রতি তার আকর্ষণ রয়েছে, যা বেশ কিছু উদাহরণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। এমনকি একবার তিনি মাত্র ২১ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকা) দামের খাবার খেয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
সম্প্রতি ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে শি জিনপিং প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন। রাষ্ট্রীয় সফরের সময় তার খাবারের বিষয়টি সাধারণত আলোচনা হয় না। তবে বছরের পর বছর ধরে নথিভুক্ত হওয়া কয়েকটি মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজ থেকে চীনা প্রেসিডেন্টের খাবারের পছন্দ সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।
মাত্র ৩০০ টাকার খাবার
শি জিনপিংয়ের খাবারের অন্যতম আলোচিত গল্পটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের। সেদিন তিনি বেইজিংয়ের কিংফেং স্টিমড বান রেস্তোরাঁয় গিয়ে ছয়টি শূকরের মাংস ও পেঁয়াজপাতা দেওয়া বান, এক বাটি রান্না করা কলিজা এবং এক প্লেট সরিষা শাকের তরকারি অর্ডার করেন। পুরো খাবারের জন্য খরচ হয়েছিল ২১ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকা।
সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, শি লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেই খাবারের দাম পরিশোধ করেন। এরপর তিনি সবার সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান। চীনের শীর্ষ নেতাকে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় এভাবে খেতে দেখা সে সময় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এসআইআর জার্নাল উল্লেখ করে, শির বেছে নেওয়া স্টিমড বানও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি ছিল সস্তা ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবার, কোনো ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ প্রেসিডেন্টের খাবার নয়।
মদ পরিবেশনেও ছিল আপত্তি
২০১২ সালে হেবেই প্রদেশের ফুপিং কাউন্টি পরিদর্শনে গিয়ে শি জিনপিংয়ের নৈশভোজেও ছিল সাধারণ খাবার। পিপলস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তার খাবারের তালিকায় বাদামি সসে রান্না করা মুরগির মাংস, শূকরের পেটের মাংস দিয়ে রসুনের কুঁড়ি ভাজি এবং রসুন দিয়ে রান্না করা গারল্যান্ড ক্রিস্যান্থেমাম শাক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে খাবারের সময় তিনি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন—কর্মীদের যেন মদ পরিবেশন না করা হয়।
ওই সফরের আরেকটি বিষয়ও উল্লেখযোগ্য। শি জিনপিং একটি মাত্র ১৬ বর্গমিটারের ছোট হোটেল কক্ষে অবস্থান করেছিলেন। কক্ষটির বাথরুমের টাইলসও ভাঙা ছিল। কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে শি বলেন, কক্ষটি পরিষ্কার এবং দেখতে ভালো। তিনি আরও জানান, তিনি চলে যাওয়ার আগেই যেন হোটেলের বিল পরিশোধ করা হয়।
পুরোনো দিনের খাবারে ফেরেন শি
শি জিনপিংয়ের খাবারের পছন্দের সাথে তার জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে তরুণ বয়সে তিনি বসবাস ও কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে সেই গ্রামে ফিরে গিয়ে তিনি ঘরোয়া খাবার খান। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই খাবারের তালিকায় ছিল আচার, ভাজা কেক, মুরগির মাংস, খাসির মাংস ও কুমড়া।
শানসির খাবার তার রাজনৈতিক অতিথিদের সঙ্গে ভোজেও স্থান পেয়েছে। ২০১৪ সালে বেইজিংয়ে তৎকালীন কুওমিনতাং চেয়ারম্যান লিয়েন চ্যানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আয়োজিত খাবারে ছিল খাসির মাংসের পাই, খাসির মাংসের স্যুপ ও নুডলস। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছিল।
আরেকটি উদাহরণ রয়েছে। ২০১৪ সালে চীনা নববর্ষের আগে ইনার মঙ্গোলিয়ায় সেনাসদস্যদের সঙ্গে খাবার খান শি। পিপলস ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন তার খাবারের মধ্যে ছিল টমেটো দিয়ে ভাজা ডিম।
কী ধরনের খাবার পছন্দ করেন জিনপিং?
শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবার এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভোজ মূলত কূটনৈতিক আয়োজন। এসব ভোজে দামি উপকরণ ও বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে চীনের বৈচিত্র্যময় খাবারের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।
তবে শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবারের যেসব তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলো একসঙ্গে দেখলে ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া যায়। তার খাবারের তালিকায় বারবার এসেছে স্টিমড বান, নুডলস এবং শানসির ঘরোয়া রান্নার মতো সাধারণ খাবার।
অর্থাৎ, চীনের প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে আলোচিত খাবারের স্মৃতিগুলো অনেক সময় রাজকীয় রাষ্ট্রীয় ভোজের নয়; বরং সাধারণ মানুষের পরিচিত খাবার ঘিরেই। আর এসব খাবারের সাথে জড়িয়ে আছে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটানো শানসি অঞ্চলের স্মৃতিও।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন