প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০১৬ সালে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরনে অক্ষম অবস্থায় থাকা এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেন সাবেক ইসরাইলি সেনা এলোর আজারিয়া। দুঃখ প্রকাশ করায় তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হারজোগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে আজারিয়াকে ক্ষমা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
২০১৬ সালে হেবরনে ইসরাইলি এক সেনাকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন ফিলিস্তিনি আবদেল-ফাত্তাহ আল-শরিফ। পরে তাকে গুলি করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। প্রায় ১১ মিনিট পর মাটিতে পড়ে থাকা আল-শরিফকে গুলি করে হত্যা করেন আজারিয়া।
এই ঘটনায় আজারিয়াকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি এর মধ্যে ৯ মাস কারাভোগ করেন।
ঘটনাটি ইসরাইলি সমাজে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। দেশটির ডানপন্থীদের একটি অংশ আজারিয়ার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করলেও অন্যরা বলেছিল, তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন এবং তার আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।
আজারিয়া পরে অপরাধের রেকর্ড দ্রুত মুছে দেওয়ার আবেদন করেন। তার রেকর্ড আইন অনুযায়ী ২০৩২ সালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে এই সময়সীমা কমানো হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
তবে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা আজারিয়ার আবেদন সমর্থন করেননি। তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজকে চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আজারিয়ার দীর্ঘ সময় কারাদণ্ড ভোগ, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া, তার পরিবর্তিত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতি এবং নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কার্যালয়ের দাবি, আজারিয়া তার আবেদনে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি গুলি চালানোর ঘটনাকে ‘অপারেশনাল ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, এখনকার দৃষ্টিতে তিনি ওই গুলি চালাতেন না।
তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় স্পষ্ট করেছে, ক্ষমার সিদ্ধান্তের অর্থ মামলার আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের রায়কে বাতিল করা নয়। এটি মামলার পুনর্মূল্যায়নও নয়।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় জবাবদিহির উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজারিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই উদ্যোগ বাতিল করলেও আজারিয়ার ক্ষেত্রে ২০২০ সালের পৃথক একটি আইনের অধীনে দেওয়া ভিসা নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন