ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিষধর সাপের কামড়ে রক্তাক্ত পা, নাগেশ্বরী হাসপাতালে সাংবাদিক মাইদুল


বিষধর সাপের কামড়ে রক্তাক্ত পা, নাগেশ্বরী হাসপাতালে সাংবাদিক মাইদুল

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নিজ পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন সাংবাদিক ও নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম মামুন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকালে নিজ পুকুরে মাছ ধরার সময় এক হাঁটু পানির নিচে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মাইদুল ইসলাম মামুনের পায়ে কোনো কিছুর কামড় লাগে। পানির নিচে থাকায় তিনি সেটি সাপ নাকি অন্য কোনো প্রাণী, তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর কামড়ের স্থান থেকে রক্ত বের হতে শুরু করলে তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান।

পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত পানি থেকে তুলে আনেন। এ সময় এক প্রতিবেশী গামছা দিয়ে তার পা বেঁধে দেন। পরে স্থানীয় এক কবিরাজ/ওঝা এসে ঝাড়ফুঁক করেন এবং কিছুক্ষণ পর ভালো হয়ে যাবে বলে জানান। তবে পরবর্তীতে গামছাটি খুলে দেওয়া হলেও পায়ের ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে গভীর রাতে সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা, লরি চাপায় নিহত ৫

এ অবস্থায় আর দেরি না করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাইদুল ইসলাম মামুনকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আতাউর গনি তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মাইদুল ইসলাম মামুন জানান, পুকুরের পানির নিচে থাকায় তাকে কী কামড় দিয়েছে তা তিনি দেখতে পারেননি। তবে কামড়ের পর রক্তপাত এবং পরবর্তীতে ব্যথা বাড়তে থাকায় তিনি দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে সাপে কামড়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

আরও পড়ুন: সিংগাইরে স্বর্ণের দোকানে চুরি, দুই নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ এম


লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার হুমকি ট্রাম্পের

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, কানাডার গাড়ি, ট্রাক, যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডা শত শত মার্কিন পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে।

এদিকে, ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডার স্থানীয় সময়, তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

পরবর্তীতে, ট্রাম্প ‘লেক আমেরিকা’ নাম উল্লেখ করে একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ভবিষ্যতে অন্টারিওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য খুব বেশি হবে না।

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক বলেন, কানাডা সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা তাঁর প্রশাসনের প্রতিদিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লেক অন্টারিও উত্তর আমেরিকার পাঁচটি বৃহৎ হ্রদের মধ্যে একটি। এর এক পাশে কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য অবস্থিত। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই হ্রদের নাম যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পরিবর্তন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এর আগে, ২০২৫ সালে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নাম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা মনে করেন, লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের সর্বশেষ মন্তব্যটি কানাডার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলকে মেনে নিলেই সৌদি পাবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


ইসরায়েলকে মেনে নিলেই সৌদি পাবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি : ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সৌদি আরব যতক্ষণ না ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে, ততক্ষণ এই চুক্তি কার্যকর হবে না।

 

জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ৩০ বছরের মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং ‘এপি১০০০ রিয়্যাক্টর’ নির্মাণের সুযোগ পাবে। কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্প থেকে ওয়েস্টিংহাউসসহ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পারমাণবিক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে।

কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের হাতে ৯০ কার্যদিবস সময় রয়েছে।

 

এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস যদি কোনো আপত্তি না জানায়, তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলবৎ হয়ে যাবে। যদি কংগ্রেস চুক্তিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে ‘ভেটো’ দেওয়ার অধিকার রাখবেন। ট্রাম্পের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

২০২০ ও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।

 

ট্রাম্প ও বাইডেন—উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। ২০২৩ সালের মধ্যভাগে রিয়াদ ও তেল আবিব সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে সেই আলোচনা থমকে যায়। সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।

চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর পর ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিত।

 

কিন্তু সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে এই জাতীয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগের ফলে রিয়াদ ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে পা বাড়াতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের অপসারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি টাকা তাঁর পারিশ্রমিক! প্রথম কাজে মাত্র কত টাকা পেয়েছিলেন নয়নতারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ এম


বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি টাকা তাঁর পারিশ্রমিক! প্রথম কাজে মাত্র কত টাকা পেয়েছিলেন নয়নতারা?

বর্তমানে অভিনেত্রী তাঁর আসন্ন ছবি ‘হাই’-এর মুক্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে প্রথম উপার্জনের স্মৃতিও শেয়ার করেন।

দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা বর্তমানে আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পান। দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতে তাঁকে ‘লেডি সুপারস্টার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে পরিস্থিতি এতটা সহজ ছিল না। তখনকার পারিশ্রমিকও ছিল খুব কম।

বর্তমানে অভিনেত্রী তাঁর আসন্ন ছবি ‘হাই’-এর মুক্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে প্রথম উপার্জনের স্মৃতিও শেয়ার করেন। অভিনয়ে আসার অনেক আগে থেকেই নয়নতারা মডেলিং করতেন। সেই সময়ের একটি মডেলিং কাজই পরবর্তীকালে তাঁর অভিনয়জীবনের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু তখন তিনি তা জানতেন না।

সাক্ষাৎকারে নয়নতারাকে তাঁর প্রথম কাজ এবং প্রথম পারিশ্রমিক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। অভিনেত্রী জানান, তাঁর প্রথম কাজটি একটি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পত্রিকার প্রচ্ছদের জন্য তিনি একটি ফোটোশুট করেছিলেন। সেই কাজের জন্য নয়নতারা কত টাকা পেয়েছিলেন? অভিনেত্রীর উত্তর ছিল, আনুমানিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তিনি। সেই সামান্য পারিশ্রমিকের কাজটি পরবর্তীকালে তাঁর জীবন বদলে দেয়।

নয়নতারার ছবি পত্রিকায় দেখেছিলেন পরিচালক সত্যন অন্তিক্কাড়। সেই ছবি দেখে তিনি তাঁকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। অথচ নয়নতারা অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার পরিকল্পনা করেননি। সেই সুযোগই তাঁকে চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় নিয়ে আসে। ২০০৩ সালে তিনি মলয়ালম ছবিতে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়েছিল।

এরপর আরও দু’টি নামকরা মলয়ালম ছবিতে অভিনয় করেন নয়নতারা। ২০০৫ সালে ‘আইয়া’ ছবির মাধ্যমে তিনি তামিল চলচ্চিত্রে পা রাখেন। সেই বছরেই রজনীকান্তের বিপরীতে ‘চন্দ্রমুখী’-তে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ছবিটি বিপুল সাফল্য পেতেই নয়নতারা তাঁর কেরিয়ারের আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যান।

নয়নতারার কাজ শুরু হয়েছিল মাত্র ২-৩ হাজার টাকায়। বর্তমানে তিনি প্রতি ছবিতে অভিনয় করতে ১০ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে ১ হাজার ৮০০ মানুষের দড়ির টানে সরানো হলো ৩৬০ টনের ঐতিহাসিক দুর্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ এম


জাপানে ১ হাজার ৮০০ মানুষের দড়ির টানে সরানো হলো ৩৬০ টনের ঐতিহাসিক দুর্গ

জাপানের আওমোরি প্রশাসনিক অঞ্চলে একটি বিরল ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। সেখানে গত সপ্তাহের শেষ দিকে ‘সো-রে, সো-রে’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ একত্রিত হন। তারা দড়ি ও রোলারের সাহায্যে ৩৬০ টন ওজনের একটি দুর্গকে টেনে সরিয়েছেন। হিরোসাকি দুর্গের টাওয়ারটি সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে এর মূল অবস্থানের দিকে দুই মিটারের বেশি সরানো হয়েছে।

একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে দুর্গের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে মেরামতের জন্য টাওয়ারটি সাময়িকভাবে সরানো প্রয়োজন হয়। গত শনি ও রবিবার ৮০ জনের একটি দল পালাক্রমে ৩০ মিটার দীর্ঘ দড়ি টেনে এটিকে রোলারের ওপর দিয়ে সরান। শনিবার টাওয়ারটি ১ দশমিক ১৩ মিটার এবং রবিবার ১ দশমিক ০৯ মিটার সরানো হয়। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা ভেঙে না ফেলার জন্য মূলত ‘হিকিয়া’ নামক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

এই কার্যক্রমে অংশ নিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। হিরোসাকি সিটির পার্ক ও সবুজায়ন বিভাগের প্রধান কেনসুকে হায়াসাকা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, গত দুই দিনে আমরা প্রায় আট হাজারটি আবেদন পেয়েছিলাম। অর্থাৎ নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় চার গুণ আবেদন পড়েছিল, তাই সবাই অংশ নিতে পারেননি। তিনি আরও জানান, আবেদনকারীরা শুধু শহর থেকে নয়, জাপানের বিভিন্ন এলাকা এবং বিদেশ থেকেও ছিলেন; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা থেকেও বেশ ভালো সংখ্যক মানুষ আবেদন করেছিলেন।

হিকিয়া পদ্ধতি ব্যবহারের কারণ জানিয়ে হায়াসাকা বলেন, দুর্গের টাওয়ারটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ায় আমরা এটি খুলে আলাদা করিনি। আমরা হিকিয়া ব্যবহার করেছি।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেয়ালটির কাজ শেষ হবে। এ সময় এর ২ হাজার ১৮৫টি পাথর আগের অবস্থানে পুনরায় সাজানো হবে। হিরোশিমা থেকে আসা ৬১ বছর বয়সী মোতোহারু নাকাতা বলেন, আমি ১১ বছর আগেও এটি টেনেছিলাম। আবারও অংশ নিতে পারাটা খুবই আবেগের। একটি দুর্গ টানার সুযোগ আর কোথাও পাওয়া যাবে না—এটি দারুণ ছিল।

মানুষের হাতে দুর্গ সরানোর কাজ আগস্টের শেষ পর্যন্ত চলবে। এতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ মানুষ অংশ নিয়ে টাওয়ারটি মোট পাঁচ মিটার সরাবেন। বাকি প্রায় ৭৩ মিটার পথ যন্ত্রের সাহায্যে সরানো হবে। সুশিগারু গোত্রের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুর্গটি ১৬১১ সালে নির্মিত হয়। ১৬২৭ সালে আগুনে পোড়ার পর ১৮১০ সালে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। চেরি ফুল ফোটার মৌসুমে এখানে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ দর্শনার্থী আসেন।

সংস্কারকাজের জন্য টাওয়ারটি কয়েক বছর বন্ধ থাকবে। হায়াসাকা বলেন, মূল ভিত্তির ওপর ফিরিয়ে নেওয়ার পর টাওয়ারটি সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে এবং পুরো স্থাপনাটি ঢেকে দেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আমরা আশা করছি ২০৩৩ সালে এটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%