০৮:৪৪ এম
ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সৌদি আরব যতক্ষণ না ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে, ততক্ষণ এই চুক্তি কার্যকর হবে না।
জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ৩০ বছরের মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং ‘এপি১০০০ রিয়্যাক্টর’ নির্মাণের সুযোগ পাবে। কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্প থেকে ওয়েস্টিংহাউসসহ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পারমাণবিক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের হাতে ৯০ কার্যদিবস সময় রয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস যদি কোনো আপত্তি না জানায়, তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলবৎ হয়ে যাবে। যদি কংগ্রেস চুক্তিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে ‘ভেটো’ দেওয়ার অধিকার রাখবেন। ট্রাম্পের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।
২০২০ ও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
ট্রাম্প ও বাইডেন—উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। ২০২৩ সালের মধ্যভাগে রিয়াদ ও তেল আবিব সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে সেই আলোচনা থমকে যায়। সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর পর ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
কিন্তু সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে এই জাতীয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগের ফলে রিয়াদ ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে পা বাড়াতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের অপসারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন