মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৬ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারি পঞ্চায়েতপাড়া গ্রামের শতবর্ষী সাজিরন বেওয়ার মানবেতর জীবনযাপনের খবর নজরে আসার পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাজিরন বেওয়াকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম শফি, মহিলা সদস্য নওরোজ জাহানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, বয়সের ভারে সাজিরন বেওয়া বর্তমানে নিজে চলাফেরা ও ভিক্ষা করতে অক্ষম। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়ে ভিক্ষা করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে মা-মেয়ের সংসার চলছিল।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাজিরন বেওয়া। এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এসি অলক, ওসি মামুন ও ওসি তদন্ত লুৎফুরের নেতৃত্বে কৌশলী অভিযানে রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশের সাফল্য।
নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় অভিযানকারী দল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) অলক কান্তি শর্মা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) লুৎফুর রহমান।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয় অভিযানকারী দল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি তালাশ বিডিকে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
কাওসার হোসেন শিপন রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাওসার হোসেন শিপনের ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে তার অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
# পুলিশের বক্তব্য
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসি অলক কান্তি শর্মা, ওসি আল মামুন উল ইসলাম ও ওসি তদন্ত লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও কৌশল অবলম্বন করে অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে অভিযানকারী দল কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত কাওসার হোসেন শিপনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে সফল অভিযান পরিচালনা করে তিন কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে।
১ম অভিযান: সোনামসজিদ বিওপি
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:৪৫ ঘটিকায়, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি চৌকস টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। টহল দলটি সীমান্ত পিলার ১৮৪/২-এস হতে আনুমানিক ৩ কি.মি. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামস্থ শাহাবাজপুর কলেজের সম্মুখস্থ পাকা রাস্তায় একটি মালিকবিহীন ভারতীয় ট্রাক (রেজিঃ নম্বরবিহীন) তল্লাশী করে। এসময় ট্রাকে রক্ষিত পাথরের মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকায়িত অবস্থায় ৭০৮ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ৫টি বেনারসি শাড়ী উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ভারতীয় ট্রাক এবং চোরাচালানী পণ্যগুলোর সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ২,৫৭,৭৯,০০০ (দুই কোটি সাতান্ন লক্ষ ঊনআশি হাজার) টাকা।
২য় অভিযান: খড়কপুর বিওপি
পরের দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ৮:৪০ ঘটিকায়, খড়কপুর বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানটি সীমান্ত পিলার ২০১/৮৩-এস হতে আনুমানিক ১ কি.মি. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট ইউনিয়নের আলীমোড় গ্রামস্থ পাকা রাস্তায় চালানো হয়। টহলদলটি ১৩৫টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এবং ১টি ইজিবাইক জব্দ করে। জব্দকৃত মালামাল এবং ইজিবাইকটির মোট আনুমানিক মূল্য ৪৯,১৫,০০০ (ঊনপঞ্চাশ লক্ষ পনের হাজার) টাকা। বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে ইজিবাইকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বিজিবি'র প্রতিক্রিয়া: জব্দকৃত চোরাচালানী পণ্যের বিষয়ে বিজিবি’র পক্ষ হতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বিজিবি সকল প্রকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং দেশের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রংপুরসহ উত্তরের চার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পাউবো উল্লেখ করেছে, উত্তর আন্দামান সাগর এবং তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ দিন দেশের অভ্যন্তরে উত্তরাঞ্চল, উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতলও হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় ভিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরলা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। তিস্তা নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এই অবস্থায়, আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় ভিস্তা নদী নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সামরিকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিজ্ঞানীরা চাঁদে একটি বিশাল গর্তের সন্ধান পেয়েছেন। এই গর্তের আকার রোমান কলোসিয়ামের থেকেও বড়। প্রায় দুই বছর আগে একটি শক্তিশালী মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতের ফলে গর্তটি সৃষ্টি হয়, তবে তখন এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গর্তটির ব্যাস প্রায় ৭২৮ ফুট বা ২২২ মিটার এবং গভীরতা সর্বাধিক ১৪১ ফুট বা ৪৩ মিটার। এর চারপাশের দেয়ালও বেশ খাড়া।
গবেষকদের মতে, এটি সৌরজগতে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় আঘাতজনিত গর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের বড় আঘাতের ঘটনা গড়ে প্রতি ১৩২ বছরে একবার ঘটে। তাই এই গর্তটি চাঁদের পৃষ্ঠ এবং মহাজাগতিক আঘাত সম্পর্কে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে, নাসা যখন ভবিষ্যতে চাঁদে নভোচারীদের জন্য একটি ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে, তখন এই আবিষ্কার সেই পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করেছেন। নাসার লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার (এলআরও) ২০২৪ সালের মে মাসে চাঁদের পৃথিবীমুখী অংশে গর্তটি শনাক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে, এর কিছুদিন আগে একটি গ্রহাণু বা ধূমকেতুর ভেঙে যাওয়া অংশ চাঁদে আঘাত করলে গর্তটি তৈরি হয়।
আঘাতের সময় পৃথিবী বা মহাকাশে থাকা টেলিস্কোপগুলো ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। বিপুল পরিমাণ তথ্যের কারণে ২০২৫ সালের আগস্টের আগে এলআরও-এর তোলা বিস্তৃত-কোণের ছবিতেও গর্তটি ধরা পড়েনি। পরে মহাকাশযানটি আরও বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ করে এবং চলতি বছরের শুরুতে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কারটি নিশ্চিত করেন।
গহ্বরটির নাম রাখা হয়েছে হিউস্টনের লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি ইনস্টিটিউটের প্রয়াত সাবেক পরিচালক টমাস ম্যাকগেচিনের নামে। এটি প্রায় এক দশক আগে এলআরও-এর আবিষ্কার করা আগের রেকর্ডধারী গর্তটির চেয়ে তিন গুণ বড়। চাঁদের পৃষ্ঠে প্রাচীনকাল থেকেই অসংখ্য গর্ত রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই গ্রহাণু, ধূমকেতু বা অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতে তৈরি হয়েছে। চাঁদে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় কয়েকটি আঘাতজনিত গর্তও বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি গর্তের বিস্তৃতি এক হাজার ৫০০ মাইল বা প্রায় দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি।
নতুন গর্তটি তৈরির সময় চাঁদের ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে মাটি ও পাথরের স্তর ওলটপালট হয়ে যায়। ইনটুইটিভ মেশিনসের গবেষক এবং এলআরও-এর ক্যামেরা দলের প্রধান বিজ্ঞানী মার্ক রবিনসন জানান, চাঁদের ধুলো ও পাথুরে মাটি বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি খাড়া কোণে চারদিকে ছিটকে পড়েছিল।
এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রের প্রধান লেখকও তিনি। অন্য একটি গবেষণায় নতুন গর্তটির চারপাশে প্রায় ৭ কিলোমিটার চওড়া একটি অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা অঞ্চল শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের উপরিভাগের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চল তৈরি হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষক এবং গবেষণাটির সহলেখক ডেভিড পেইজ এই প্রক্রিয়াকে বাগানের মাটি চাষ বা খুঁড়ে ওলটপালট করার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এক বিবৃতিতে পেইজ বলেন, মহাজাগতিক বস্তুর আঘাত চাঁদের উপরিভাগের মাটি বা ‘রেগোলিথ’ নাড়িয়ে দেয়। এতে মাটির স্তর ওলটপালট হয় এবং সাধারণত মাটির নিচে থাকা উপাদানগুলোও উপরে উঠে আসে।
২০০৯ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে এলআরও চাঁদে অসংখ্য গর্ত আবিষ্কার করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতে ছিটকে পড়া পদার্থের কারণে চাঁদের উপরিভাগের প্রায় ২ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চি গভীর মাটি প্রতি ৮০ হাজার বছরে একবার ওলটপালট হয়ে যায়। আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এই পরিবর্তন ঘটতে আরো বেশি সময় লাগে। নতুন তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, চাঁদের উপরিভাগের মাটি আগের ধারণার তুলনায় দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
অনেকে মনে করেন, অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে রেখে যাওয়া ধুলোমাখা পায়ের ছাপ হয়তো চিরকাল টিকে থাকবে। তবে মার্ক রবিনসনের মতে, তা হবে না। তিনি এক ইমেইলে জানান, দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এসব পায়ের ছাপ নিশ্চিতভাবেই আর টিকে থাকবে না।
এখন গবেষকদের পরবর্তী কাজ হলো, চাঁদের বিভিন্ন গর্ত থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা মাটি ও পাথরের টুকরো ভবিষ্যতে নাসার পরিকল্পিত চন্দ্রঘাঁটিতে আঘাত হানার ঝুঁকি কতটা, তা নির্ণয় করা। রবিনসনের মতে, এই তথ্য প্রকৌশলীদের চন্দ্রঘাঁটির কাঠামো আরো নিরাপদভাবে নকশা করতে সাহায্য করবে। ফলে মহাজাগতিক আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ