বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:১৭ পি.এম
কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভবনে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছে।
হামলার পর ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে, যা কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র সৌদ আল আতওয়ান এক বিবৃতিতে জানান, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। তারা অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তবে হামলার ধরন, কীভাবে এটি সংঘটিত হয়েছে কিংবা নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সৌদ আল আতওয়ান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই সময়, নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে সেনাবাহিনী।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিরাপত্তা বাহিনী নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
এই হামলার ঘটনা ঘটে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে হামলার ঘটনা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতিকে আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষ অর্থনৈতিক ও মুদ্রা অঞ্চল ইউরোজোন পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা রয়েছে যে, উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং নতুন করে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাবের ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ইইউর অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২১ দেশের অর্থনীতি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। একই সময়ে গত বছরের তুলনায়, ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বাজারের ০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। আগের কিছু প্রবৃদ্ধির হিসাবও ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের জন্য বলেছেন, কয়েকটি বড় অর্থনীতির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেমন জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির অর্থনীতি ০ দশমিক ২ শতাংশ করে বেড়েছে, তেমনি ইউরোজোনের অন্যতম সেরা পারফরমার স্পেনের অর্থনীতি ০ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এছাড়া, নেদারল্যান্ডসের প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৪ শতাংশ, যা প্রত্যাশার দ্বিগুণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউরোপে এআই খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, সেইসাথে পারিবারিক ভোগব্যয়ও আশঙ্কার তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। জার্মানি প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয়ও ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইউরোজোনে বেকারত্বের হার জুন মাসে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল, যা শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিল্প ও সেবা খাতের আস্থার সূচকও প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বেড়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন, এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পেছনে কিছু সাময়িক কারণও রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বিশেষ করে, আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা মূলত দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ কোম্পানিগুলোর কারণে হয়েছে। ছোট অর্থনীতি হলেও আয়ারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে বড় প্রভাব ফেলেছে।
কমার্জব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়র্গ ক্রেমার রয়টার্সকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হতে আরও সময় লাগতে পারে। ফলে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হতে পারে। এছাড়া, যুদ্ধের কারণে উচ্চ জ্বালানি মূল্য, অপরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সংকট, জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সাথে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হারও ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো, তথাপি বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনীতি অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে ইউরোজোনের অর্থনীতি আগামী মাসগুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘শাপলা চত্বর’ মামলায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। কাদের সিদ্দিকী আরো বলেছেন, এ মামলায় যদি লতিফ সিদ্দিকীকে ফাঁসি দেওয়া হয়, তবে তিনি এবং তাঁর পরিবার তা সাদরে গ্রহণ করবেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই আদেশের পর মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নিষ্কলুষ মানুষটিকে অন্যায়ভাবে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আসামি করা হয়েছে, এর শুধু প্রতিবাদ জানাতে এসেছি।’ তিনি বলেন, “মামলার অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। আমি নিজেই বুঝতে পারলাম না উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ! শাপলা চত্বরের গণহত্যার একজন, কি বলব! পরিকল্পনাকারী? পরিকল্পনাকারী বলা যায় না, কারণ তিনি কিচেন ক্যাবিনেটেও ছিলেন না।
তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন। পাট নিয়ে হত্যা চলে না।” কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন যদি কোনো অপরাধের দায়ে, যা তিনি করেননি, তাঁর ফাঁসি হয়, তাহলে আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তখন মুক্তি দেবেন।’
ট্রাইব্যুনাল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নেওয়ার বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘গত রাতে তাঁকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি তাদের যে সুন্দর ব্যবহার দেখছি, এখানে (ট্রাইব্যুনালে) তার বিপরীত। একেবারে অসুন্দর ব্যবহার। আমার গায়েও ধাক্কা লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ নিয়ে কোনো ব্যাপার নেই, এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে হ্যান্ডকাফ বহুবার পড়েছে। হ্যান্ডকাফকে আমরা খুব একটা খারাপ কিছু মনে করি না। বিবাহের সময় মেয়ের হাতের চুড়ি যেমন দেওয়া হয়, আমরা ওরকমই মনে করি।’
এক যুগ আগে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, জেনোসাইডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুইটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি সেদিন ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের একজন ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রথম অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও উৎসব ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’-এ জাতীয় বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে আবির ফেরদৌস মুখরের ‘হাউ ডু ইউ ডু’। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা হয়েছে তুরস্কের পরিচালক আদার বারান ডেগারের ‘দ্য কোল্ড’।
জাতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সৈয়দ সাহিল ও রাকায়েত রাব্বী নির্মিত ‘মাটি’। তৃতীয় স্থান পেয়েছে ইফফাত রওনাক প্রমির ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’। আন্তর্জাতিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে ইরানের পরিচালক মোসায়েব হানাইয়ের ‘ওভারলোড’ এবং তৃতীয় হয়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচালক রিকার্দো মুনোজ সিনিয়রের ‘অ্যান আইল্যান্ড’।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার যে পরিস্থিতি, তাতে অনেক সময় দিকবিদিকশূন্য হয়ে এবং আশপাশের হাতছানির কারণে আমাদের তরুণেরা বিদেশে পাড়ি জমায়। তারা যাওয়ার আগে ও পরে প্রতারিত হয়। তবে, কোনো খরচ ছাড়াই যেসব রেমিট্যান্স সরকারের হাতে আসে, তা অনেক মূল্যবান। কারণ আমরা অনেকটাই আমদানিনির্ভর। সেজন্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। আর সেই বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান আমাদের দেশের সেই মানুষগুলো, যারা বিদেশে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে না পারলে আমাদের বড় সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। যারা যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য সহজ পথ বাতলে দেওয়া, খরচ কমিয়ে আনা এসব নিশ্চিত করতে হবে। তবে দিনশেষে এটা মনে রাখতে হবে, অভিবাসন শুধু পরিসংখ্যান নয়, মানুষের গল্প। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে তথ্য মন্ত্রণালয় পাশে থাকতে চায়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ বিদেশে যায়, কিন্তু সেই যাওয়ার পথটা খুব সুখকর নয়। আশার গল্প যেমন আছে, তেমনি দুঃখ-বঞ্চনার গল্পও আছে। আপনারা যে গল্পগুলো তুলে এনেছেন, তা সবই সত্য ঘটনা। এখন সেগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে আনতে হবে।”
বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জিওসেপ্পে দি জিওভান্নি বলেন, “আমি প্রায়ই শুনি যে ইতালি যেতে ১০ হাজার ১৫ হাজার ডলার লাগে। কিন্তু আসলে কত লাগে জানেন? ইতালির ভিসার জন্য সর্বনিম্ন ৬১ আর সর্বাধিক ১০০ ডলার নেয়। তাহলে এই ১০ হাজার ১৫ হাজার ডলার কে নেয়? দুই পাড়ের মাঝখানের কিছু লোক। বাংলাদেশ ও ইতালির অপরাধী চক্র যারা মানুষের অভিবাসনের মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে শোষণ করে। আমরা এই চক্রগুলো ভেঙে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু সেজন্য বাংলাদেশের সরকারের সহায়তা আমাদের দরকার। আবার এটাও বলতে চাই, লিবিয়া হয়ে নৌকায় করে যারা আমাদের সৈকতে ভিড়বে, আমরা তাদের ফিরিয়ে দেবো। আমাদের আইন এখন এতটাই কঠিন।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, “শিল্প ও গল্প বলার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন নিয়ে আরও গভীর সামাজিক আলোচনা তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের উৎসব নতুন নির্মাতাদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।”
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও জুরি বোর্ডের সদস্য রাহনুমা সালাম খান বলেন, “অভিবাসন ও মানবপাচারের মতো জটিল মানবিক সংকটকে চলচ্চিত্র অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
গত ১ এপ্রিল গুগল ফর্ম ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্ল্যাটফর্ম ফিল্মফ্রিওয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র আহ্বান করা হয়। বিশ্বের ২৪টি দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। তিন মাসব্যাপী এ আয়োজনে নির্মাতাদের জন্য ছয়টি মেন্টরশিপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ৫৭টি চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়। পরে জাতীয় বিভাগে ১৩টি এবং আন্তর্জাতিক বিভাগে ১০টিসহ মোট ২৩টি চলচ্চিত্র চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়।
বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ব্রাজিল, কানাডা, কোস্টারিকা, সাইপ্রাস, মিসর, ফ্রান্স, ভারত, ইরান, ইসরায়েল, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, তুরস্ক, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও ভিয়েতনাম, এই দেশগুলো থেকে চলচ্চিত্র পাঠিয়েছেন নির্মাতারা।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিমেল আশরাফ, ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খান এবং সিনেমাটোগ্রাফার ও চলচ্চিত্র পরিচালক সাহিল রনি জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিত্রনাট্য, নির্মাণশৈলী, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
জাতীয় বিভাগে সেরা পুরস্কার বিজয়ী আবির ফেরদৌস মুখর বলেন, “চলচ্চিত্র অনেক শক্তিশালী একটি মাধ্যম। আমার মনে হয়, যারা অভিবাসনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে শিকার হতে পারেন, তারা যখন এসব চলচ্চিত্র দেখবেন, তখন তাদের মধ্যে এই উপলব্ধিটা আসবে যে এভাবে আমার যাওয়া উচিত কি না। নিরাপদে যেতে হলে আমার করণীয় কী?”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশ (সিসিবি)-এর একটি প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক অংশীদারি সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনারারি কনসালদের ভূমিকার ওপর জোর দেয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশের (সিসিবি) সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়ালের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদারে অনারারি কনসালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি এ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বৈঠকে অনারারি কনসালদের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরো গতিশীল করার জন্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সহায়তা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারি সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কনস্যুলার কর্পসের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এ ছাড়া, সরকারের সঙ্গে আরো কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকে।
প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন সিসিবির সহসভাপতি ও সাইপ্রাসের অনারারি কনসাল শাহাব সাত্তার, সহসভাপতি ও পর্তুগালের অনারারি কনসাল শাখাওয়াত হোসেন, মহাসচিব ও ক্রোয়েশিয়ার অনারারি কনসাল কাজী শাহ মুজাক্কের আহমাদুল হক ইশমাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের (লাও পিডিআর) অনারারি কনসাল জেনারেল আরিক মোরশেদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এসওয়াতিনির অনারারি কনসাল মোর্শেদুল আলম চাকলাদার।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল আন্তরিক অভ্যর্থনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আতিথেয়তার জন্য পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ