প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘শাপলা চত্বর’ মামলায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। কাদের সিদ্দিকী আরো বলেছেন, এ মামলায় যদি লতিফ সিদ্দিকীকে ফাঁসি দেওয়া হয়, তবে তিনি এবং তাঁর পরিবার তা সাদরে গ্রহণ করবেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই আদেশের পর মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নিষ্কলুষ মানুষটিকে অন্যায়ভাবে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আসামি করা হয়েছে, এর শুধু প্রতিবাদ জানাতে এসেছি।’ তিনি বলেন, “মামলার অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। আমি নিজেই বুঝতে পারলাম না উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ! শাপলা চত্বরের গণহত্যার একজন, কি বলব! পরিকল্পনাকারী? পরিকল্পনাকারী বলা যায় না, কারণ তিনি কিচেন ক্যাবিনেটেও ছিলেন না।
তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন। পাট নিয়ে হত্যা চলে না।” কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন যদি কোনো অপরাধের দায়ে, যা তিনি করেননি, তাঁর ফাঁসি হয়, তাহলে আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তখন মুক্তি দেবেন।’
ট্রাইব্যুনাল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নেওয়ার বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘গত রাতে তাঁকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি তাদের যে সুন্দর ব্যবহার দেখছি, এখানে (ট্রাইব্যুনালে) তার বিপরীত। একেবারে অসুন্দর ব্যবহার। আমার গায়েও ধাক্কা লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ নিয়ে কোনো ব্যাপার নেই, এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে হ্যান্ডকাফ বহুবার পড়েছে। হ্যান্ডকাফকে আমরা খুব একটা খারাপ কিছু মনে করি না। বিবাহের সময় মেয়ের হাতের চুড়ি যেমন দেওয়া হয়, আমরা ওরকমই মনে করি।’
এক যুগ আগে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, জেনোসাইডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুইটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি সেদিন ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের একজন ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন