বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে কিছুদিনের শান্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় ‘অপ্রত্যাশিত’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। এবার তেহরান নতুন মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, তারা নিজে থেকেই আবার সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধের গতি এবং প্রকৃতি নির্ধারণে তারা আর শুধু প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে থাকতে চায় না; আদৌ, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে পিছপা না হয়ে আগেভাগেই সামরিক পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
তেহরানের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। তারা ভয়াবহ মূল্য দেবে।”
একটু সময়ের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে, তারা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল এবং আলোচনায় ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তেহরান তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি স্বীকার করেনি। যদিও ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছিলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”
যাইহোক, সেই অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের উপর সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়াকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
জার্মানির ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক হামিদ রেজা আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ইরানের কৌশলে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে, তেহরান এখন মনে করছে যে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় যদি আগাম হামলা হয়, তবে সেই পথে তারা হাঁটতে প্রস্তুত।
ইরানের এই হামলার সময়টিও বিশ্লেষকদের নজর কারে। হামলার কিছু সময় আগে, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু এটিকে দু’জনের মধ্যে হওয়া “সেরা আলোচনাগুলোর একটি” বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ উল্লেখ করেছিলেন যে, ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাতে চাইলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে বিরত থাকতে বলেছিল।
হামিদ রেজা আজিজির মতে, জর্ডানে হামলাটি মূলত নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ একটি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা। এতে বোঝা যায় যে, সম্ভাব্য হুমকির আভাস পেলেই ইরান এখন আগাম হামলার জন্য প্রস্তুত।
জর্ডানে হামলার কিছু সময়ের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর বিমান হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায় যে, এটি শুধু জর্ডানের ঘটনার প্রতিশোধ নয়; বরং গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাব।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ পরিস্কারভাবে দেখায় যে, সংঘাত এখন কেবল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর এড়াতে সৌদি আরব এখন তিনটি ভিন্ন দিক থেকে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এগুলো হলো:
• ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী
• ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী
• ইরান
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডির জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- ইরান বা তার আঞ্চলিক মিত্রদের কেই তাদের কৌশলগত লক্ষ্য থেকে সরে আসতে রাজি নয়।
ড্যানি সিট্রিনোভিচের মতে,
তেহরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে, হুথিরাও জানিয়েছে যে, সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না।
জর্ডানে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, ইরান আপাতত হামলা বন্ধ রেখেছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালীর ওপর দেশের সার্বভৌমত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা আবারো যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধা করবে না।
তিনি বলছেন, যুদ্ধের আগে যে অবস্থায় হরমুজ প্রণালী ছিল, সেখানে ফিরে গেলে ইরান নিজেদের বিজয়ী মনে করবে না। কারণ, এই জলপথ এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উপাদানে পরিণত হয়েছে।
গরিবাবাদি আরও জানান, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে একটি বিকল্প বাণিজ্যিক নৌপথ চালুর চেষ্টা করছিল। তেহরান এটিকে নিজেদের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
তিনি বলেন, “বিষয়টি বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, কেন ইরান তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আবার যুদ্ধ শুরু করল? কিন্তু পর্দার আড়ালের বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে ইরানের নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক হামলা বন্ধ রাখা দুর্বলতার লক্ষণ, সংযমের নয়। এই ধারণাই ইরানকে আরও আক্রমণাত্মক হতে উৎসাহিত করতে পারে।
ড্যানি সিট্রিনোভিচের মতে, এতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর ভয়ে পিছু হটবে না। ফলে হামলা, পাল্টা হামলা এবং উত্তেজনার চক্র আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে- হয় ইরানের কিছু কৌশলগত দাবি আংশিকভাবে মেনে নেওয়া, নয়তো আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে চারজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
এ বিতরণ কার্যক্রম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত একটি প্রকল্পের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে. এম. জামান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয়তাবাদী বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে, ওমনি এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা ঢাকা শহরের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে, দেশে ফিরে আসা এই বাংলাদেশিরা ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের আশায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তারা দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং পেরু সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও বৈধ অভিবাসনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এবং মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রত্যেক ডিপোর্টি যাত্রীকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। পাশাপাশি তাদের জন্য খাবারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এটি উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ পথ অনুসরণের ওপর এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সেভাস্তোপোল শহরের আকাশে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এটি কি রুশ বিমান প্রতিরক্ষা মহড়া, নাকি ইউক্রেনের ড্রোন হামলা? স্থানীয় বাসিন্দা জর্জি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, এতে আর অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেভাস্তোপোল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এসবের সঙ্গে আমরা এখন অভ্যস্ত। সত্যি বলতে, এখন আর কিছুই আমাদের ভয় দেখাতে পারে না।’ সাড়ে চার বছরের যুদ্ধ চললেও কৃষ্ণসাগর উপকূলের এই অঞ্চল এখনো জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পর্যটনকেন্দ্র। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। তারপরও পর্যটন খাতে কর্মরত জর্জির মতো অনেকেই স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমরা এখানে বসে কফি খাচ্ছি। কোনো শব্দ শোনা গেলেও সেটি সম্ভবত মহড়ার অংশ।’ নিরাপত্তার কারণে নিজের পদবি প্রকাশ করতে চাননি তিনি। সমুদ্রতীরে দেখা গেছে বয়স্ক নারীরা পানিতে নেমেছেন। এক শিশু তার ভাইয়ের গায়ে পানি ছিটাচ্ছে। সুগঠিত দেহের কয়েকজন পুরুষ ব্যায়াম করছেন। স্কেটপার্কে শহরের অসংখ্য বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের একটির পাশে কিশোররা স্কেটবোর্ডে নানা কসরত করছে। সেভাস্তোপোলের গভর্নরের টেলিগ্রাম চ্যানেল যাচাই করে এ সময় কোনো বিমান হামলার সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। তবে জুন মাস থেকে ইউক্রেন হামলা বাড়ানোর পর এমন সতর্কবার্তা আরও ঘন ঘন দেওয়া হচ্ছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। ক্রিমিয়ার গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে হওয়া হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানির সংকট এখন ক্রিমিয়ার ২৪ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিমএনারগো প্রতিদিন তাদের ওয়েবসাইটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সময়সূচি প্রকাশ করছে। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছে। পেট্রোল বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যেসব হোটেলের সামর্থ্য রয়েছে, তারা জেনারেটরের ব্যবস্থা করেছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া। এর জেরে পশ্চিমা দেশগুলো প্রথম দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ক্রিমিয়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জন্য প্রতীকী ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্থানীয়দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিয়েভের তুলনায় মস্কোর শাসনে তারা আরও ভালো জীবন পাবেন। তবে বিশ্বের প্রায় কোনো দেশই ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পর এখন ক্রিমিয়ার বিভিন্ন সড়কে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চোখে পড়ে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোর আংশিক দগ্ধ ভবনও দেখা যায়। অনেক পেট্রোলপাম্প বন্ধ রয়েছে। আবার কোথাও শুধু জরুরি পরিবহনের জন্য জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ চালকদের জন্য পেট্রোল বা ডিজেল বিক্রির ঘোষণা দেন। ৯৫ অকটেন আনলেডেড পেট্রোলের প্রতি লিটারের দাম এখন প্রায় ২৫০ রুবল, যা প্রায় ৩ ডলারের সমান। এটি আগের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। রাশিয়া থেকে সরবরাহ আনা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ ইউক্রেন হয়ে ক্রিমিয়া ও রস্তভ-অন-দনের মধ্যকার উত্তরাঞ্চলীয় পথে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী যানবাহনে ইউক্রেন প্রায়ই হামলা চালায়। এ পথ এখন ‘মৃত্যুর সড়ক’ নামে পরিচিত। আরেকটি পথ হলো পূর্বদিকে কের্চ সেতু। সড়ক ও রেল সংযোগের ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমূল্যের সেতুটি মস্কোর ক্রিমিয়া সংযুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন একাধিকবার এ সেতুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের এক হামলায় বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক সেতুর ওপর নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বর্তমানে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের এ সেতু ব্যবহার নিষিদ্ধ। কের্চ সেতু আবার অচল হয়ে গেলে বিকল্প পরিকল্পনা কী হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) গবেষক মারিয়া স্নেগোভায়া এএফপিকে বলেন, ‘২০১৪ সালের পর রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলের ইতিহাসে ক্রিমিয়াই সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন। এটিকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কাহিনি গড়ে তোলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, দনবাস দখলকে মূলত রুশভাষীদের সুরক্ষার যুক্তিতে ব্যাখ্যা করা হলেও ক্রিমিয়াকে ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র রুশ ভূমি হিসেবে তুলে ধরা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর অনেক বাসিন্দা ক্রিমিয়া ছেড়ে চলে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ক্রিমিয়ায় অভিযানের উদ্দেশ্য হলো ‘এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে রাশিয়া শান্তি বেছে নিতে বাধ্য হয়।’ ইউক্রেনের মতে, রাশিয়া তাদের শহরগুলোতে যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তার ন্যায্য জবাবও এটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী মাসে বাংলাদেশ দল অজিদের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে। ইতোমধ্যে টাইগাররা সিরিজের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। তবে চলতি সময়ে টানা বৃষ্টির কারণে অনুশীলন করতে সমস্যা হচ্ছে শান্তদের।
এ কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা ঘাটতি অনুভব করছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি মন্তব্য করেন, "বৃষ্টির কারণে সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি গ্রানাইটে এবং বোলিং মেশিনে প্রস্তুতি নিতে। প্রস্তুতির দিক থেকে কিছুটা ঘাটতি রয়েছেন।"
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে যাওয়া নিয়ে শান্ত বলেন, "অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলছি, আমরা সত্যি খুবই ভাগ্যবান। আমার মতে, গত ২৩ বছরে আমাদের সেখানে আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল।"
দলের লক্ষ্য সম্পর্কে টাইগার অধিনায়ক জানান, "অস্ট্রেলিয়াতে আমাদের লক্ষ্য হবে কতটা ভালো ক্রিকেট খেলা যায়। আমরা যেভাবে খেলছি সেটাকে যেন ধরে রাখতে পারি। আমাদের যেন এর নিচে না যেতে হয়।"
দলের পেসারদের ওপর বিশ্বাস প্রকাশ করে শান্ত বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে পেসাররা ২০ উইকেট নিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাদের সঙ্গে দুইজন অভিজ্ঞ স্পিনারও রয়েছে। মুশফিক ছাড়া বাকিরা সবাই অভিজ্ঞ। তাদের ২০ উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ