০৪:১১ পি.এম
মাদক কারবার ঠেকাতে একের পর এক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে শত শত আসামি এবং উদ্ধার হচ্ছে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র। তবুও গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনা থামছে না। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অপরাধীচক্রের মধ্যে বিরোধ, অস্ত্রের ব্যবহার এবং হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানায় মাদক ও ছিনতাই-ডাকাতির ৪০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৯৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টঙ্গী পূর্ব থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৫৬টি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৪৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মাদক মামলায় ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৪০টি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৬৬টি মামলা হয়েছে।
মামলা ও গ্রেপ্তারের এই পরিসংখ্যানের পরও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় অপরাধের মূল উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গীর বস্তি, রেললাইনসংলগ্ন এলাকা, শিল্পকারখানার আশপাশ এবং ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চলছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধও তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
স্থানীয়দের মতে, মাদকের কারবার এখন শুধু সেবন ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার ও সংঘর্ষের মতো অপরাধের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় রেললাইন, স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ও নির্জন সড়কে ছিনতাইয়ের আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর মাদক ও অপরাধীচক্রের বিরোধের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। গোপালপুর এলাকায় নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আলেকেরটেক এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ এলাকায় রেলস্টেশনের সামনে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাতেও স্থানীয়ভাবে মাদক ও অপরাধীচক্রের বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মাদকবিরোধী অভিযানে হাজী মাজার বস্তি, এরশাদনগরসহ টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি হত্যা মামলার তদন্তে টঙ্গীর একটি বাড়ি থেকে সাতটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধার মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অপরাধীচক্রের প্রভাব ও সাহস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা, পরিবহনকারী এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক কারবারের অর্থের সঙ্গে ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, "মাদকদ্রব্য ও সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করার পাশাপাশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হাজী মাজার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন