০৫:২৩ পি.এম
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং সোমবার চীন সফরে পৌঁছেছেন, যাতে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে। সফরের সময় তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ তথ্য রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়।
এপ্রিল মাসে বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মিন অং হ্লাইংয়ের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে তিনি ভারত সফর করেন। বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমার কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে এল-সায়েদ, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ
সোমবার সকালে মিয়ানমারের বেশকিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মিন অং হ্লাইং বেইজিংগামী বিমানে ওঠার সময় হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিকেলে তার বেইজিং পৌঁছানোর খবর প্রকাশ করে।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত চলা এ সফরে সি চিনপিংয়ের পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করবেন মিন অং হ্লাইং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সফরের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নবায়ন ও ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও গভীর করতে চায় বেইজিং।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সফরকালে মিন অং হ্লাইং চীনের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প পরিদর্শন করবেন এবং একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে
সম্প্রতি মিয়ানমার বিষয়ক একটি থিংক ট্যাংকে কর্মরত এক মার্কিন নাগরিককে চীন আটক করায় দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
শুক্রবার লিন জিয়ান সাংবাদিকদের জানান, ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতা মিন জিনের বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে, এমন গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে আটক রাখা হয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি থিংক ট্যাংকটি মিয়ানমারের রাজনীতি, সম্পদ ও সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে।
আরও পড়ুন: বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফ: ব্যারিস্টার সারোয়ারকে ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে তলব
অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে চীনের। দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে বেইজিং।
এ বছর বেসামরিক রাজনীতিতে সামরিকপন্থী মিত্রদের নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেওয়া নির্বাচনকেও জোরালো সমর্থন দিয়েছে চীন।
এপ্রিল মাসে রাজধানী নেপিদোতে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মিয়ানমারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টায় দৃঢ় সমর্থনের অঙ্গীকার করেন।
আরও পড়ুন: সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে ভারতীয় ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে নারী ভক্তকে যৌন শোষণের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন