০৭:১৫ পি.এম
মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্তের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের একটি আশ্রমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বৃন্দাবনের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ইন্দ্র দেব মহারাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত ধর্মগুরু ওই নারীর বিশ্বাসের সঙ্গে খেলা করে তাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল ও শোষণ করে আসছিলেন।
অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইন্দ্রদেবের ধর্মীয় আলোচনা দেখে তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে এক সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ওই ধর্মগুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যার কথা জানালে, ধর্মগুরু তাকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করেন।
এরপর ওই নারী উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে অবস্থিত ধর্মগুরুর সেভাধাম আশ্রমে যান। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৩ সালে আশ্রমে অবস্থানকালে এক রাতে ইন্দ্রদেব তাকে নিজের কক্ষে ডেকে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এমনকি কেউ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ আনতে যাওয়ার কথা বলার জন্য তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে এল-সায়েদ, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ
পরবর্তীতে ওই নারীকে ভিডিও কলে কাপড় খুলতে বাধ্য করা হয় এবং আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা হয়। এই অশ্লীল ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ও প্রকাশ্যে অপমান করার হুমকি দিয়ে তাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করা হতো। নির্যাতিতার ভাষ্যমতে, ওই ধর্মগুরু তাকে বলতেন, ‘আমি ভগবান, এবং আমার কথা তোমাকে মানতে হবে।’
মথুরার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বহু মাস ধরে ঘুরেও কোনো সাড়া না পেয়ে, ভুক্তভোগী নারী শেষ পর্যন্ত নারী অধিকার কর্মী ও ভূমিকা ব্রিগেডের প্রধান তৃপ্তি দেশাইয়ের দ্বারস্থ হন। পুনেতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়। সেখানে ওই নারী ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন নারী একই ধরনের শোষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন।
মহারাষ্ট্রের কাসিমিরা থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করার পর তা সরাসরি উত্তরপ্রদেশের মথুরায় স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে মূল অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধারা ৬৯ (প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক), ৭৫ (যৌন হয়রানি), ৭৯ (নারীর মর্যাদাহানিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি) এবং ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন)-এর অধীনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তৃপ্তি দেশাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওই ধর্মগুরুর গ্রেফতার এবং অন্য ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রদেব মহারাজ বা তার আশ্রমের পক্ষ থেকে এখনও কোনো জনসমক্ষে বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন