বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪১ পি.এম
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরও ৩৭৯ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনা ও সরাসরি অংশগ্রহণে জেলা পুলিশের সব ইউনিট এবং ডিবি পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।
কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানার অপরাধপ্রবণ স্থান, কিশোর বয়সী বখাটেদের আড্ডাস্থল এবং তাদের উৎপাত রয়েছে এমন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সবশেষ অভিযানে আটক ৩৭৯ জনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ বলছে, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সেই জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোর অপরাধ রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শাটলে যাওয়ার সময় এক ছাত্রীর কানের সোনার দুল ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর নাম সানজিদা আক্তার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সানজিদা আক্তার জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টা ২২ থেকে ৭টা ২৬ মিনিটের মধ্যে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি ক্যাম্পাসের শাটলে (পরিবহন) করে তোরণ থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠের গেটের সামনে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি সাদা জামা পরিহিত ব্যক্তি বাইক নিয়ে এসে তার কান থেকে টান দিয়ে একটি সোনার দুল ছিনিয়ে নেয়। এরপর সেই ব্যক্তি দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে আমার এখনও সরাসরি কথা হয়নি। তবে আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এআই ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। ইতোমধ্যে উপাচার্য বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন। আমরা কোনও ব্যক্তি বা গ্রুপ ভিত্তিক অপরাধ চক্র ক্যাম্পাসে গড়ে উঠতে দেব না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের দীর্ঘকালীন সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিসকক্ষে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জাপানের সহযোগিতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করি।"
বৈঠকে জাপানের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসব খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব কোমিনে কেন, দ্বিতীয় সচিব সোমা হানা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমানে ফুটবল বিশ্ব স্প্যানিশ নারীদের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে রয়েছে। সিনিয়র দল থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক সব টুর্নামেন্টে স্পেনের আধিপত্য এখন একচ্ছত্র। তবে, স্পেনের এই অপ্রতিরোধ্য রাজত্বের বীজ বোনা হয়েছিল আজ থেকে কয়েক বছর আগে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের মাটিতে। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপে স্পেনের সেই অবিস্মরণীয় ট্রফি জয়কে ফুটবল ইতিহাসে ‘উরুগুয়ে ২০১৮: স্পেনের রাজত্বের সূচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উরুগুয়ের মনতেভিডিওর ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মেক্সিকোকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল। এই ম্যাচে স্পেনের হয়ে দুটি গোল করেন তারকা ফরোয়ার্ড ক্লদিয়া পিনা। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল করে তিনি আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, গোলপোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেন ক্যাটা কোল।
উরুগুয়েতে অর্জিত সেই জয়টি কেবল একটি টুর্নামেন্ট জয়ের গল্প নয়; বরং এটি ছিল স্প্যানিশ ফুটবলের এক মহাজাগরণ। ২০১৮ সালের ওই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হাত ধরে স্পেনের ফুটবলে যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের সবকটি বড় ট্রফি নিজেদের শোকেসে ভরতে সহায়তা করেছে।
২০১৮ সালের পর স্পেনের মেয়েরা ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপেও নিজেদের চ্যাম্পিয়ন ধরে রাখে। ২০২২ সালে কোস্টারিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেইসাথে বয়সভিত্তিক দলগুলোর এই সোনালী প্রজন্মই ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফিফা নারী বিশ্বকাপে স্পেনকে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দেশ হিসেবে পুরুষ ও নারী—উভয় বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ে স্পেন।
২০১৮ সালের উরুগুয়ে বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের নারী ফুটবলের রূপকথার প্রথম অধ্যায়। উরুগুয়ের মাটিতে বোনা সেই স্বপ্নের ওপর ভর করেই আজ বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে রাজত্ব করছে স্পেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’, যেখানে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত এবং ভ্রমণকারীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওয়ার্ল্ড এয়ার এশিয়া সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী সেমিনারে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জাপান দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অংশীদার। তিনি বলেন, "প্রথাগত খাতের বাইরেও পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অনবদ্য।"
তিনি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, বাউল সংগীতের মতো লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ এবং সুস্বাদু রসনাবিলাসের ঐতিহ্য তুলে ধরেন, যেমন সুন্দরবন, কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভিসা আবেদন সহজীকরণ ও দ্রুত ভিসা প্রদান-সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জাপানি অতিথিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানান। এসময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত এবং ভ্রমণকারীদের যেকোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।
ওয়ার্ল্ড এয়ার এশিয়া সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও ইযোসুকে কি কুমা তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের এই সেমিনার জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে সুদূরপ্রসারী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেমিনারে প্রায় ৮০ জন জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত এবং ভ্রমণকারী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ