ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন


১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে। সেখানে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত পর্যটন গমন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ২ হাজারের পরিবর্তে সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে স্থানীয় জনগণ।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবি করে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, গাজী আহসান হাবীব, নিহত রোহানের বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, এ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল, যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, মোস্তাফিজুর রহমান লিখন এবং আব্দুল মালেক খান বক্তৃতা করেন।

বক্তারা বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে বিদেশে বসে পরিকল্পনা করে অর্থের বিনিময়ে কলেজ ছাত্র রোহানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ডসহ সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান। পরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী, বিএনপি নেতা এবং নিহত রোহানের স্বজনেরা।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কলেজ ছাত্র রোহান। পরের দিন ৬ অক্টোবর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়। ৮ অক্টোবর বিকেলে নিকটবর্তী একটি মেহগনি বাগানে পেট কাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা একটি মামলা দায়ের করলে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরিজীবীদের পকেট খালি, ঋণের জালে আটকা সংসার চালানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


চাকরিজীবীদের পকেট খালি, ঋণের জালে আটকা সংসার চালানো

মাসের বেতন হাতে আসার সাথে সাথেই সংসারের খরচের হিসাব শুরু হয়ে যায়। বাসাভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিল এবং কিস্তি পরিশোধ করতে করতেই আয়ের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। মাসের ২৫ তারিখ পার হওয়ার আগেই অনেকের পকেট খালি হয়ে যায়। বাকি দিনগুলো চালাতে কেউ সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ আবার ঋণ নিচ্ছেন। পরবর্তী মাসে বেতন পেয়ে ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবারও নতুন করে টাকার সংকট তৈরি হচ্ছে। এইভাবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে অনেক চাকরিজীবী ঋণের চক্রে আটকে পড়ছেন।

আনাস আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার মাসিক বেতন ৫৪ হাজার টাকা। পরিবারসহ থাকলেও তাকে মাসে ২০ হাজার টাকা বাসাভাড়া দিতে হয়। গ্যাসের সিলিন্ডার, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ছয় মাস আগে কেনা মুঠোফোনের কিস্তি দিতে হয় ৫ হাজার ৫০০ টাকা।

কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য আনাস মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। জ্বালানি ও যাতায়াত বাবদ মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারের জন্য ব্যয় হয় আরও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এসব খাতেই মাসে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো এবং জরুরি সময়ের জন্য টাকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন আনাস। কিন্তু নিয়মিত খরচ সামলাতে গিয়ে প্রায়ই সেই সঞ্চয় ভাঙতে হয়। মাসের ২৫ তারিখের আগেই অনেক সময় তার হাতে টাকা থাকে না। তখন বাকি দিনগুলো চালাতে মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। তিন মাসের এসব ঋণ পরিশোধ করতে সুদও দিতে হয়। পরের মাসে বেতন পাওয়ার পর ঋণ শোধ করতে গিয়ে সংসারের বাজেটে আবারও টান পড়ে।

আনাস গণমাধ্যমকে বলেন, "প্রতিদিনই খরচ বাড়ছে, কিন্তু বেতন বাড়ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে হয়তো ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া যায় না।"

একই সমস্যায় পড়ছেন আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী নিলয়। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "খরচ এত দ্রুত বাড়ছে যে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি কাজ করার মতো সময় বা সুযোগ খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়।"

আনাস ও নিলয়ের মতো ঢাকার অনেক বেতনভোগী মানুষের জন্য সংসারের খরচ সামলানো এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সঞ্চয় কমছে, আবার কারও কারও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ নিতে হচ্ছে।

বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, কমছে স্বস্তি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের ১২ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ অবশ্য পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষকে এখনো আগের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য ও সেবা কিনতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের সম্মানসূচক গবেষণা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, "বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বুঝতে হলে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যথেষ্ট কঠোরভাবে বা সঠিক সময়ে মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিকভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া এবং সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়েছে।"

মাহতাব উদ্দিনের মতে, দুর্বল কর আদায়ব্যবস্থা এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল ব্যয় সরকারের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এসব কাঠামোগত কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের সংসার খরচেও পড়ছে।

খাবার ও শিক্ষার খরচ কমাচ্ছে পরিবার

মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়।

মাহতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, "পণ্যের দাম বাড়লে এবং প্রকৃত মজুরি সেই হারে না বাড়লে মানুষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিবারগুলো মাছ, মাংস বা ফল কেনা বন্ধ করে দিতে পারে। তারা কম পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। এমনকি সন্তানের শিক্ষার খরচও কমিয়ে দিতে পারে।"

এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদেও পড়তে পারে। কম পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষার খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সুযোগ হারানোর কারণে পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

যদিও সবার বেতন ও খরচের ধরন এক নয়, তবু এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, গড়ে মজুরি বৃদ্ধির হার পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে আগের মতো খরচ চালানো ও সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ঋণ শোধ করতেই শেষ হচ্ছে পরের মাসের বেতন

জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ শুধু চাকরিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে হিসাব করতে হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মোটরসাইকেলে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২০০ টাকার জ্বালানি খরচ করেন। অন্যদিকে, মেট্রোরেলে যাওয়া-আসায় তার ব্যয় হয় ২৪০ টাকা। ফলে কোন মাধ্যমে যাতায়াত করবেন, তা ঠিক করার আগেও তাকে খরচের হিসাব করতে হয়।

মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, "বন্ধুদের অনেকেই মাসের শেষ দিকে টাকা ধার করেন। বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা শোধ করেন। এতে পরের মাসের শুরুতেই আবার টাকার সংকট তৈরি হয়। তখন নতুন করে ঋণ নিতে হয়। এভাবে বারবার ঋণ নিয়ে চলতে গিয়ে তারা একটি চক্রে আটকে পড়ছেন।"

মাহতাব উদ্দিনের মতে, শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "যুক্তরাজ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেলকর্মীরা সংগঠিতভাবে আন্দোলন করে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক কর্মী, এমনকি দাপ্তরিক কাজ করা কর্মীদেরও একই ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই। শ্রমিকের চাহিদার তুলনায় শ্রমের জোগান বেশি হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়ানোর দাবি আদায় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।"

শুধু খরচ কমিয়ে কি সংকট কাটবে?

সংসারের বাজেটে চাপ তৈরি হওয়ার পেছনে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি ছোট ছোট ব্যয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। রেস্তোরাঁয় খাওয়া, ঘোরাঘুরি, অনলাইনে কেনাকাটা কিংবা শখের পেছনে নিয়মিত খরচ করলে মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা খরচ হলেও মাস শেষে তা দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকা।

তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোই এই সংকটের একমাত্র সমাধান নয়। অনেকের জন্য বাড়তি আয় করার সুযোগ খুঁজে পাওয়াও কঠিন। কারণ, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ সীমিত।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশে মোট শ্রমের চাহিদা ২ শতাংশের সমপরিমাণ চাপের মুখে পড়তে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শ্রমের চাহিদায় সম্ভাব্য পরিবর্তন—সব মিলিয়ে অনেক মানুষের জন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বাজেট ও সঞ্চয়ে মিলতে পারে কিছুটা স্বস্তি

ঢাকার সাংবাদিক মুমিতুল মিম্মা গণমাধ্যমকে জানান, নিজের খরচের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, তার টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, "আগে আমি হিসাব না করেই খরচ করতাম। মাসের মাঝামাঝি সময়েই টাকার সংকটে পড়তাম। তাই খরচের একটি ডায়েরি রাখা শুরু করি। যাতায়াতের ভাড়া থেকে শুরু করে এক কাপ চায়ের খরচও সেখানে লিখে রাখতাম। এতে বুঝতে পেরেছি, আমার টাকা কোথায় যাচ্ছে। একই সঙ্গে খরচের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে।"

খরচের হিসাব রাখলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট তৈরি করা সহজ হয়। বেতন পাওয়ার পরপরই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখাও কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুললে হঠাৎ খরচের সময় ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, "জীবনযাত্রার ব্যয় যেমনই হোক, নিজের আয়ের মধ্যে খরচ সামলানোও একটি দক্ষতা। বর্তমানের উচ্চমূল্যের মধ্যেও অনেক মানুষ আপনার আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় করে সংসার চালাচ্ছেন।"

তিনি মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয় করা এবং প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। তার মতে, মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা পেনশনভিত্তিক আমানত প্রকল্পের মতো ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখলে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে আলাদা তহবিল থাকলেও হঠাৎ খরচের চাপ সামলানো সহজ হয়।

তবে যাদের আয়ের প্রায় পুরোটাই খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যায়, তাদের পক্ষে সঞ্চয় করা কঠিন। আয় দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোই সম্ভব না হলে শুধু বাজেট তৈরি করে সংকট কাটানো যায় না। তাই ব্যক্তিগত খরচের হিসাব রাখার পাশাপাশি আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করাও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবলের ২০২৬ সালের সূচি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবলের ২০২৬ সালের সূচি প্রকাশ

অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া উৎসব ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আয়োজক কমিটি ইতিমধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস প্রকাশ করেছে।

ফুটবল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের ‘এবিজি স্পোর্টস সিটি’র মাঠে। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ফুটবল টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে ইউল্যাব ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

এবিজি স্পোর্টস সিটি আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে। ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে অংশগ্রহণ করবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

গ্রুপ পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালের টিকিট পাবে। আগামী ২ নভেম্বর টুর্নামেন্টের দুটি সেমিফাইনাল এবং ৩ নভেম্বর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, টুর্নামেন্টের ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় ডিসিপ্লিনের চ্যাম্পিয়ন দল ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দল ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি লাভ করবে। দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টসে খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকসুর মেয়াদ পূর্ণ হলেও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নজরে আসেনি সম্পাদকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


চাকসুর মেয়াদ পূর্ণ হলেও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নজরে আসেনি সম্পাদকের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাঙা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও নামফলক সংস্কার করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। কোথাও ভেঙে পড়ে রয়েছে স্মৃতিফলক, কোথাও জমেছে শ্যাওলা, লতাপাতা ও ময়লা-আবর্জনা। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার, আলোকসজ্জা অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সাত শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মরণ চত্বর বারবার ঢেকে যাচ্ছে চাকসুর ব্যানার ও ফেস্টুনে। এক বছরেও এসব স্থাপনার সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘বিজয় ৭১ চত্বর’, যা পূর্বে ‘জয় বাংলা চত্বর’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চত্বরটি ‘বিজয় ৭১’ নামে পরিচিতি পেলেও পুরোনো নামফলক ভেঙে ফেলার পর সেখানে নতুন কোনো নামফলক স্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে দেয়ালে রং দিয়ে ‘বিজয় ৭১’ লেখা থাকলেও ভাঙা ফলকটি পুনঃস্থাপন কিংবা নতুন নামফলক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় ৭১ চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভজুড়ে জমে রয়েছে শ্যাওলা। দীর্ঘদিন রং না করায় স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে জন্মেছে লতাপাতা, জমেছে ময়লা-আবর্জনা। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার। এমনকি সেখানে স্থাপিত লাইটগুলোও দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট অফিসসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ভাঙা অংশও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন-অবহেলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব স্থাপনার সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিংবা যথাযথভাবে সংরক্ষণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। জবাবে তিনি বলেন, "আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তুমি তো বলছো।" পোস্ট অফিসসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ভাঙা অংশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ও ভাঙা পড়ে আছে না? এটা ঠিক করা দরকার ছিল।"

তবে স্মৃতিস্তম্ভ সংস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মোনায়েম শরীফ বলেন, "বুদ্ধিজীবী চত্বর সংস্কার ও শহীদ মিনারের আশপাশের এলাকা সংস্কারের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। বিষয়গুলো সিরিয়ালে রয়েছে। ধাপে ধাপে এগুলো করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস আগে এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বসেছিলাম। এরপর আর বসা হয়নি।"

চাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও নিজের অবস্থান থেকে এসব স্থাপনা সংস্কারের জন্য আবারও চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশমুখ জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ‘স্মরণ চত্বর’ নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন বীর সন্তানের স্মরণে। এখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ও প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে চত্বরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তবে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী এসব বীর সন্তানের স্মরণে নির্মিত চত্বরটি প্রায়ই ঢেকে যায় খোদ চাকসুর ব্যানার ও ফেস্টুনে। বিশেষ করে ছাত্রসংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রচারণামূলক ব্যানারের কারণে শহীদদের নাম ও প্রতিকৃতি আড়াল হয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্মরণ চত্বর চাকসুর ব্যানারে ঢেকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, "স্মরণ চত্বর তো গোল। এক সাইডে ঢেকে থাকলে আরেক সাইডে দেখা যায়। সমস্যা নাই তো।" এরপর তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, "তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক হিসেবে এটা আমার ব্যর্থতা নাকি?"

তিনি আরও বলেন, "চাকসুর বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য জিরো পয়েন্টে ব্যানারগুলো দেওয়া হয়। সবাই আসে, দেখে, এ জন্য আরকি। এর আগে একটা খেলাধুলার প্রোগ্রামের কারণে সেখানে ব্যানার দেওয়া হয়েছে। এখন বিতর্ক উৎসবের জন্য ব্যানার দেওয়া হয়েছে।"

তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যানারগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন ভয়েস অব স্টুডেন্টসের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক বলেন, "কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত স্মরণ চত্বর ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ঢেকে যায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম এবং ব্যানার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলাম। এর পরপরই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুর ব্যানারও দেখা যায়। বর্তমানে চাকসুর ব্যানারগুলো এখনো ঝুলে আছে, অথচ সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে এবং চাকসুর মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "স্মরণ চত্বরটি দ্রুত ব্যানারমুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে দূর থেকেই চত্বরটি স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকে।"

বিজয় ৭১ চত্বরের ভাঙা নামফলক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে আশিকুর রহমান আশিক বলেন, "জয় বাংলা চত্বরকে অনেকেই বিজয় ৭১ চত্বর হিসেবে নামকরণ করেছেন। কিন্তু সেখানে এখনো আগের ভাঙা ফলকটি পড়ে আছে। বিজয় ৭১ নামটি শুধু দেয়ালে রং দিয়ে লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ সেখানে নতুনভাবে একটি ফলক স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল।"

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এসব স্মৃতিফলক সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা সেই উদ্যোগের প্রতিফলন দেখতে পাইনি। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু গ্রাফিতি আঁকা হলেও তা করা হয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। আমাদের মনে হয়েছে, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের পরিবর্তে সমালোচনার কারণেই এসব গ্রাফিতি করা হয়েছে।"

তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভটির বর্তমান অবস্থাও অত্যন্ত দুঃখজনক। স্তম্ভটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঘেরা, বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অথচ এটি সংস্কার ও যথাযথভাবে সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমন একটি স্থাপনার প্রতি অবহেলা সত্যিই হতাশাজনক।"

তিনি আরও বলেন, "একজন দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে তার উচিত ছিল আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। কিন্তু তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অগ্রাধিকার দিলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলে আমরা মনে করি। যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমূল্যায়নেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%