০৬:৩০ পি.এম
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের পাত্তানি প্রদেশে এক ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১৯তম জাতীয় আল-কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে থাই মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে রাজা এবং রানি সুথিদা স্বশরীরে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। রাজপরিবারের এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও আন্তরিক সহমর্মিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।
রাজকীয় সফরের সূচনায় একটি অসাধারণ চমক ছিল। ব্যাংককের ডন মুয়াং বিমান ঘাঁটি থেকে বিশেষ রাজকীয় বিমানটি চালিয়ে রাজা সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ককপিটে রানি সুথিদা সহ-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছালে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর রাজ দম্পতি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে পাত্তানি প্রদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন।
সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে রাজা ও রানি পাত্তানি কেন্দ্রীয় মসজিদে পৌঁছালে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রবীণ ধর্মীয় নেতা, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মানুষ রাজকীয় অতিথিদ্বয়কে সাদরে বরণ করে নেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে: ট্রাম্পের সতর্কতা
পবিত্র আল-কুরআনের গভীর ভাবগাম্ভীর্য, সঠিক উচ্চারণ এবং হেফজ চর্চাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বার্ষিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে রাজকীয় ট্রফি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন রাজা ও রানি।
প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন পাত্তানি প্রদেশের প্রতিনিধি তোয়ান মোহামিনিয়ামা। নারী বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন নাখোন নায়োক প্রদেশের প্রতিনিধি রাতানা সাহান। এছাড়াও প্রতিযোগিতার রানার্স-আপ, সম্মানসূচক পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী ও সংগঠকদের হাতে বিশেষ স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণের পর রাজা ও রানি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ও উন্নয়নমূলক প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। প্রদর্শনীতে আঞ্চলিক শিল্পকলা, ঐতিহ্যবাহী থাই সিল্ক, টেকসই সামাজিক উন্নয়ন এবং "রয়্যাল স্কলারশিপ ফাউন্ডেশন"-এর অধীনে পাত্তানির মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেওয়া শিক্ষাবৃত্তির অর্জনসমূহ তুলে ধরা হয়।
একই সাথে স্থানীয় জনগণের জীবনের মানোন্নয়নে রাজকীয় উদ্যোগ—যেমন প্রান্তিক জনগণের ঘরবাড়ি সংস্কার, বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং কোলন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচির অগ্রগতি দেখে রাজা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় আসছেন জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কফলার
মানবিক সেবার অংশ হিসেবে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে উপহার সামগ্রী তুলে দেন রাজা ও রানি।
একই সময়ে পরিচালিত হয় 'রাজকীয় মোবাইল মেডিক্যাল ক্যাম্প', যেখানে ৭৮৭ জন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীকে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্যসেবা ও দন্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে রাজকীয় রান্নাঘর থেকে সদ্য প্রস্তুত করা উন্নতমানের পুষ্টিকর ও হালাল খাবার বিতরণ করা হয়।
পাত্তানিসহ থাইল্যান্ডের সমগ্র দক্ষিণ সীমান্তে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রাজপরিবারের এই সফর ছিল একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। রাজকীয় উপস্থিতিতে আলেম-ওলামাগণ সমগ্র দেশ ও রাজপরিবারের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন। এই মানবিক ও আন্তরিক সফর থাইল্যান্ডের বহুসংস্কৃতির মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক শান্তি ও ঐক্যের বাঁধনকে আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত করেছে।
আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের নেতৃত্বে জেন-জি, কেন তারা ক্ষুব্ধ?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন