ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি: এ দেশের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি: এ দেশের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ শিশু অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম প্রতিরোধ এবং শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিশুদের জন্য শুধুমাত্র নীতি ও প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বরং এসব উদ্যোগকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, "ডাটা বলছে, এ দেশের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।" তিনি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ‘চাইল্ড ম্যারিজ চ্যাম্পিয়ন’ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, যারা বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে, তাদের কাজকে সমাজে মডেল হিসেবে তুলে ধরতে হবে। কারণ দেশে বাল্যবিবাহের পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মিলনায়তনে ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সম্মানিত আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ স্লোগান সামনে রেখে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে নিজ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাস মালিক নিহত

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার এখনো উদ্বেগজনক। দেশের ২৪ শতাংশ শিশু ভয়ানক অপুষ্টির শিকার। বস্তি ও উপকূলীয় এলাকার শিশুদের মধ্যে এই হার ৩৬ থেকে ৪৫ শতাংশ। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু সীসার দূষণে আক্রান্ত। কিছু শহরাঞ্চলে এ হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহারও এখনো ৩৩ শতাংশ।

শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহের চিত্র তুলে ধরে এই উন্নয়ন গবেষক বলেন, জাতীয়ভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হার ৮০ শতাংশ হলেও শহুরে বস্তিতে তা কমে ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং উপকূলীয় এলাকায় ৭৮ থেকে ৮২ শতাংশে নেমে এসেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। শহুরে বস্তি ও উপকূলীয় অঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নের হার ৩০ শতাংশের নিচে বা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

শিশুশ্রমের চিত্র তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কর্মরত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৩৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। শিশু শ্রমের হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছে। শহুরে বস্তিতে কর্মরত শিশুদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার হার ৬০ শতাংশের বেশি।

বাল্যবিবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে ৪৭ থেকে ৫০ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় এ হার ৫৮ শতাংশের বেশি। দেশের প্রতি দুটি শিশুর মধ্যে একটি বাল্যবিবাহের শিকার। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ৮৬ শতাংশ শিশু বাড়ি বা বিদ্যালয়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে নারীর কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, অতঃপর আটক সাথী আক্তার

ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে গত রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এই পরিস্থিতি বেশি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত ও ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিতে হবে। কারণ এসব সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিশুদের নিয়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫০০ অধিভুক্ত কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। এ কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যদেরও শিশু একাডেমির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের প্রথিতযশা এই শিক্ষাবিদ বলেন, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য শুধু খাবার, পোশাক ও নিরাপত্তাই যথেষ্ট নয়। তার প্রয়োজন ভালোবাসা, যত্ন, সঠিক শিক্ষা, সুস্থ বিনোদন এবং নিজের কথা বলার সুযোগ। শিশুর অধিকারকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও সমানভাবে জড়িত।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিরামপুরে ডা. নুরুল সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শ নে নবাগত ওসি মাহফুজ আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


হরিরামপুরে ডা. নুরুল সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শ নে নবাগত ওসি মাহফুজ আলম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ডা. নুরুল সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম (পিপিএম)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকারী বখাটে এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ঘোষণা দেন।
ওসি মাহফুজ আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাদক, নেশা, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াল প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েস, ডা. নুরুল সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক শহিদুল ইসলাম লিটনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তারিখটি পূর্ণাঙ্গভাবে লিখে দিন
বিদ্যালয় ও কলেজ দুটিই উল্লেখ করুন
পুলিশের বক্তব্যকে নিরপেক্ষ করুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা খানম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা খানম

ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম জানিয়েছেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সাভার উপজেলার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ফরিদা খানম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু) উপস্থিত ছিলেন। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব, সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, সাভার ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, সাভার উপজেলায় মোট ২৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি, শিমুলিয়া ইউনিয়নে ৪০টি, ধামসোনা ইউনিয়নে ১৩টি, আশুলিয়া ইউনিয়নে ১১টি, ইয়ারপুর ইউনিয়নে ১০টি, পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩০টি, বিরুলিয়া ইউনিয়নে ১৪টি, সাভার ইউনিয়নে ৩টি, বনগাঁও ইউনিয়নে ১২টি, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে ২৬টি, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে ১২টি এবং ভাকুর্তা ইউনিয়নে ২২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। আমিনবাজার ইউনিয়নে এবার কোনো মণ্ডপ নেই।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, "পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের সময় থেকে শুরু করে পূজা উদযাপন ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি, পুলিশ-আনসার-সিআরবি/এসআরবি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জেবল আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেন তিনি। জেলা প্রশাসক পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, "পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সক্রিয় রাখতে হবে।"

ফায়ার সেফটির বিষয়ে ডিসি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, চার্জার লাইট ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখা যাবে না।

তিনি পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।

প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে। আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে ডিসি ফরিদা বলেন, "কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না।" তিনি আরও বলেন, গুজবের উৎস শনাক্ত করে তা ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কেউ অপতৎপরতা চালালে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, উৎসব সবার"—এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পূজা শেষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো ধরনের মেলা, মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।

ডিসি জানান, পূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুধু পূজার দিন থেকে নয়, মহালয়া থেকেই শুরু করতে হবে। আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৫টা থেকে মহালয়া উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের পর পূজামণ্ডপ, মন্দির বা আশপাশের কোনো স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো ঘটনা ঘটার পর নয়, সম্ভাব্য কোনো সমস্যা বা ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলেই প্রশাসনকে জানাতে হবে।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতারও পরীক্ষা। ঢাকা জেলা প্রশাসন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।

তিনি সাভারের সব পূজামণ্ডপে সমন্বিত প্রস্তুতি, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতিময় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্টে ৭ ঘণ্টার জন্য জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


সুপ্রিম কোর্টে ৭ ঘণ্টার জন্য জরুরি নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আজ রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই স্ব-স্ব পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ও বিচার অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই রাতের বেলায় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশের জন্য পরিচয়পত্র বহনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে ব্যক্তিদের স্ব-স্ব পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য যদি কেউ এ সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করেন, তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট অথবা অফিসিয়াল পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুসলিম নারীদের ‘নিলাম’ অ্যাপের অভিযোগ থেকে খালাস বিশাল ঝা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


মুসলিম নারীদের ‘নিলাম’ অ্যাপের অভিযোগ থেকে খালাস বিশাল ঝা

মুম্বাইয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৫ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী বিশাল সুধীরকুমার ঝাকে অব্যাহতি (খালাস) দিয়েছে। আদালত দাবি করেছে যে বিতর্কিত ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপ তৈরি বা এতে মুসলিম নারীদের ছবি শেয়ার করার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে বিশাল ছিলেন প্রথম। বিচারিক আদালত পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, প্রসিকিউশন পক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

‘গিটহাব’-এ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি চালু হওয়া ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটিতে সাংবাদিকসহ শতাধিক বিশিষ্ট মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং তথাকথিত অনলাইন ‘নিলামের’ আয়োজন করা হয়েছিল।

ঘটনার পর ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি মুম্বাই পুলিশ বেঙ্গালুরুর একটি ইনস্টিটিউটের প্রকৌশল ছাত্র বিশাল ঝাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি ছিল, বিশাল ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটির ফলোয়ার ছিলেন, এটি শেয়ার করেছিলেন এবং অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আর টি ইঙ্গলে জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি যে বিশাল তার নিজস্ব 'টুইটার' (বর্তমানে এক্স) অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাপটি শেয়ার করেছিলেন।

আদালত স্পষ্ট করে বলেন, "নথিপত্র অনুযায়ী তার একমাত্র ভূমিকা ছিল যে তিনি 'বুল্লি বাই' অ্যাপটি ফলো বা অনুসরণ করেছিলেন।" ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন, কেবল কোনো অ্যাপ অনুসরণ করা তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের অধীনে কোনো অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অ্যাপটির মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্মাতা নিরজ বিষ্ণোইকে অ্যাপটি তৈরি করতে বিশাল সহায়তা করেছিলেন কিংবা মুসলিম নারীদের ছবি সরবরাহ করেছিলেন—এমন কোনো বস্তুগত প্রমাণ মেলেনি। অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য থাকলেও কেবল তার ওপর ভিত্তি করে অ্যাপ তৈরির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা প্রমাণ হয় না।

পূর্বে বিশাল ঝার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উত্যক্ত করা (স্টকিং), মানহানি, নারীর শ্লীলতাহানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অ্যাপটিতে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী ও সুশীল সমাজের মুসলিম নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভার্চুয়াল নিলামের মহড়া দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে কোনো অর্থ লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় ঘটেনি; মূলত নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করতেই এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে ‘সুল্লি ডিলস’ নামে একই ধরনের আরেকটি অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছিল।

‘বুল্লি বাই’ মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়—যার মধ্যে চারজনকে মুম্বাই পুলিশ এবং দুজনকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বিশাল ঝা অব্যাহতি পাওয়ায় বর্তমানে এই মামলায় অন্য পাঁচজন আসামি রয়েছেন, যারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত থেকে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিচারিক আদালত এই মামলার আরেক আসামি মায়াঙ্ক রাওয়াতের খালাসের আবেদন খারিজ করে দেন। মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নারীদের ছবি ডাউনলোড করে ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপে পোস্ট করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল আদালত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%