ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা খানম


দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা খানম

ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম জানিয়েছেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সাভার উপজেলার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ফরিদা খানম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু) উপস্থিত ছিলেন। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব, সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, সাভার ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, সাভার উপজেলায় মোট ২৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি, শিমুলিয়া ইউনিয়নে ৪০টি, ধামসোনা ইউনিয়নে ১৩টি, আশুলিয়া ইউনিয়নে ১১টি, ইয়ারপুর ইউনিয়নে ১০টি, পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩০টি, বিরুলিয়া ইউনিয়নে ১৪টি, সাভার ইউনিয়নে ৩টি, বনগাঁও ইউনিয়নে ১২টি, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে ২৬টি, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে ১২টি এবং ভাকুর্তা ইউনিয়নে ২২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। আমিনবাজার ইউনিয়নে এবার কোনো মণ্ডপ নেই।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, "পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের সময় থেকে শুরু করে পূজা উদযাপন ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি, পুলিশ-আনসার-সিআরবি/এসআরবি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জেবল আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেন তিনি। জেলা প্রশাসক পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, "পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সক্রিয় রাখতে হবে।"

ফায়ার সেফটির বিষয়ে ডিসি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, চার্জার লাইট ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখা যাবে না।

তিনি পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে। আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে ডিসি ফরিদা বলেন, "কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না।" তিনি আরও বলেন, গুজবের উৎস শনাক্ত করে তা ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কেউ অপতৎপরতা চালালে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, উৎসব সবার"—এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পূজা শেষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো ধরনের মেলা, মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

ডিসি জানান, পূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুধু পূজার দিন থেকে নয়, মহালয়া থেকেই শুরু করতে হবে। আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৫টা থেকে মহালয়া উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের পর পূজামণ্ডপ, মন্দির বা আশপাশের কোনো স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো ঘটনা ঘটার পর নয়, সম্ভাব্য কোনো সমস্যা বা ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলেই প্রশাসনকে জানাতে হবে।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতারও পরীক্ষা। ঢাকা জেলা প্রশাসন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।

তিনি সাভারের সব পূজামণ্ডপে সমন্বিত প্রস্তুতি, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতিময় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্টে ৭ ঘণ্টার জন্য জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


সুপ্রিম কোর্টে ৭ ঘণ্টার জন্য জরুরি নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আজ রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই স্ব-স্ব পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ও বিচার অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই রাতের বেলায় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশের জন্য পরিচয়পত্র বহনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে ব্যক্তিদের স্ব-স্ব পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য যদি কেউ এ সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করেন, তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট অথবা অফিসিয়াল পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুসলিম নারীদের ‘নিলাম’ অ্যাপের অভিযোগ থেকে খালাস বিশাল ঝা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


মুসলিম নারীদের ‘নিলাম’ অ্যাপের অভিযোগ থেকে খালাস বিশাল ঝা

মুম্বাইয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৫ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী বিশাল সুধীরকুমার ঝাকে অব্যাহতি (খালাস) দিয়েছে। আদালত দাবি করেছে যে বিতর্কিত ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপ তৈরি বা এতে মুসলিম নারীদের ছবি শেয়ার করার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে বিশাল ছিলেন প্রথম। বিচারিক আদালত পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, প্রসিকিউশন পক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

‘গিটহাব’-এ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি চালু হওয়া ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটিতে সাংবাদিকসহ শতাধিক বিশিষ্ট মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং তথাকথিত অনলাইন ‘নিলামের’ আয়োজন করা হয়েছিল।

ঘটনার পর ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি মুম্বাই পুলিশ বেঙ্গালুরুর একটি ইনস্টিটিউটের প্রকৌশল ছাত্র বিশাল ঝাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি ছিল, বিশাল ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটির ফলোয়ার ছিলেন, এটি শেয়ার করেছিলেন এবং অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আর টি ইঙ্গলে জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি যে বিশাল তার নিজস্ব 'টুইটার' (বর্তমানে এক্স) অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাপটি শেয়ার করেছিলেন।

আদালত স্পষ্ট করে বলেন, "নথিপত্র অনুযায়ী তার একমাত্র ভূমিকা ছিল যে তিনি 'বুল্লি বাই' অ্যাপটি ফলো বা অনুসরণ করেছিলেন।" ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন, কেবল কোনো অ্যাপ অনুসরণ করা তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের অধীনে কোনো অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অ্যাপটির মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্মাতা নিরজ বিষ্ণোইকে অ্যাপটি তৈরি করতে বিশাল সহায়তা করেছিলেন কিংবা মুসলিম নারীদের ছবি সরবরাহ করেছিলেন—এমন কোনো বস্তুগত প্রমাণ মেলেনি। অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য থাকলেও কেবল তার ওপর ভিত্তি করে অ্যাপ তৈরির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা প্রমাণ হয় না।

পূর্বে বিশাল ঝার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উত্যক্ত করা (স্টকিং), মানহানি, নারীর শ্লীলতাহানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অ্যাপটিতে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী ও সুশীল সমাজের মুসলিম নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভার্চুয়াল নিলামের মহড়া দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে কোনো অর্থ লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় ঘটেনি; মূলত নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করতেই এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে ‘সুল্লি ডিলস’ নামে একই ধরনের আরেকটি অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছিল।

‘বুল্লি বাই’ মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়—যার মধ্যে চারজনকে মুম্বাই পুলিশ এবং দুজনকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বিশাল ঝা অব্যাহতি পাওয়ায় বর্তমানে এই মামলায় অন্য পাঁচজন আসামি রয়েছেন, যারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত থেকে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিচারিক আদালত এই মামলার আরেক আসামি মায়াঙ্ক রাওয়াতের খালাসের আবেদন খারিজ করে দেন। মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নারীদের ছবি ডাউনলোড করে ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপে পোস্ট করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল আদালত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের 'ফাতাহ-৪' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, ভারতের গভীরে আঘাতের সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


পাকিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শক্তির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে পাকিস্তান তাদের দূরপাল্লার কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সফলভাবে বর্ধিত পাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ যোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’-এর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

এই উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের সামরিক বহরে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ডিফেন্স ফোর্সের চিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, এই সাফল্যকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রকৌশলীদের।

ফাতাহ সিরিজের পূর্ববর্তী সংস্করণ ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। তবে নতুন এই সংস্করণের সুনির্দিষ্ট সীমা প্রকাশ করা না হলেও, সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সীমা ৯০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটির মূল বৈশিষ্ট্য কেবল এর দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা নয়, বরং এর নিচু দিয়ে উড়ার প্রযুক্তি। মাটি থেকে মাত্র ৫০ মিটার উপরে ভূ-প্রকৃতির ভাঁজ ধরে সাবসনিক গতিতে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতার কারণে শত্রুপক্ষের রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এটিকে সহজে শনাক্ত করতে পারে না। এর ফলে ভারতের সামরিক বিমানঘাঁটি, কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি বা রসদ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাতাহ-৪ মিসাইলে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক 'অ্যাভিওনিক্স' এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশন সহ 'ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম' (আইএনএস) ও 'ডিজিটাল সিন-ম্যাচিং' প্রযুক্তি। ফলে এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া এটি প্রায় ৩৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক পে-লোড বহন করতে পারে, যা যেকোনো শক্ত ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।

পাকিস্তানি আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি এই ধরনের উচ্চ-নির্ভুলতার কনভেনশনাল বা সনাতন মিসাইল বহরকে শক্তিশালী করছে। পূর্বে ব্যবহৃত সুপারসনিক 'ব্রাহ্মোস' মিসাইলের মতো দ্রুতগতির অস্ত্রের বিপরীতে, ফাতাহ-৪ শত্রুর রাডার ফাঁকি দেওয়ার ওপর বেশি জোর দিয়েছে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সফল পরীক্ষাই শেষ কথা নয়; যুদ্ধের ময়দানে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ভ্রাম্যমাণ লাঞ্চারগুলোর পুনর্নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশ করার বাস্তব সক্ষমতার ওপর। তা সত্ত্বেও, ফাতাহ-৪-এর এই বর্ধিত সংস্করণ যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বিদদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে, তা নিশ্চিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, যারা অপরাধ করে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তাদের দেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সাভার উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের হুমকি নেই এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তাদের পূজা উদযাপন করবে। আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সব বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটে।

সাম্প্রদায়িক বিষয়ের প্রতি নজর রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম, ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান, মো. সালাউদ্দিন বাবু, সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম, আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, সাভার হাইওয়ে থানার প্রতিনিধিসহ স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ এবং সাভার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%