০৭:৪৩ পি.এম
মুম্বাইয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৫ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী বিশাল সুধীরকুমার ঝাকে অব্যাহতি (খালাস) দিয়েছে। আদালত দাবি করেছে যে বিতর্কিত ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপ তৈরি বা এতে মুসলিম নারীদের ছবি শেয়ার করার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে বিশাল ছিলেন প্রথম। বিচারিক আদালত পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, প্রসিকিউশন পক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
‘গিটহাব’-এ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি চালু হওয়া ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটিতে সাংবাদিকসহ শতাধিক বিশিষ্ট মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং তথাকথিত অনলাইন ‘নিলামের’ আয়োজন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কীভাবে তার উত্থান: শ্রমিক থেকে চারবারের প্রেসিডেন্ট লুলা
ঘটনার পর ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি মুম্বাই পুলিশ বেঙ্গালুরুর একটি ইনস্টিটিউটের প্রকৌশল ছাত্র বিশাল ঝাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি ছিল, বিশাল ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটির ফলোয়ার ছিলেন, এটি শেয়ার করেছিলেন এবং অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আর টি ইঙ্গলে জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি যে বিশাল তার নিজস্ব 'টুইটার' (বর্তমানে এক্স) অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাপটি শেয়ার করেছিলেন।
আদালত স্পষ্ট করে বলেন, "নথিপত্র অনুযায়ী তার একমাত্র ভূমিকা ছিল যে তিনি 'বুল্লি বাই' অ্যাপটি ফলো বা অনুসরণ করেছিলেন।" ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন, কেবল কোনো অ্যাপ অনুসরণ করা তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের অধীনে কোনো অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অ্যাপটির মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্মাতা নিরজ বিষ্ণোইকে অ্যাপটি তৈরি করতে বিশাল সহায়তা করেছিলেন কিংবা মুসলিম নারীদের ছবি সরবরাহ করেছিলেন—এমন কোনো বস্তুগত প্রমাণ মেলেনি। অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য থাকলেও কেবল তার ওপর ভিত্তি করে অ্যাপ তৈরির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা প্রমাণ হয় না।
আরও পড়ুন: সিডনির নতুন বিমানবন্দর থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন
পূর্বে বিশাল ঝার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উত্যক্ত করা (স্টকিং), মানহানি, নারীর শ্লীলতাহানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অ্যাপটিতে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী ও সুশীল সমাজের মুসলিম নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভার্চুয়াল নিলামের মহড়া দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে কোনো অর্থ লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় ঘটেনি; মূলত নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করতেই এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে ‘সুল্লি ডিলস’ নামে একই ধরনের আরেকটি অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছিল।
‘বুল্লি বাই’ মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়—যার মধ্যে চারজনকে মুম্বাই পুলিশ এবং দুজনকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বিশাল ঝা অব্যাহতি পাওয়ায় বর্তমানে এই মামলায় অন্য পাঁচজন আসামি রয়েছেন, যারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত থেকে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা
উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিচারিক আদালত এই মামলার আরেক আসামি মায়াঙ্ক রাওয়াতের খালাসের আবেদন খারিজ করে দেন। মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নারীদের ছবি ডাউনলোড করে ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপে পোস্ট করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন