ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুসলিম নারীদের ‘নিলাম’ অ্যাপের অভিযোগ থেকে খালাস বিশাল ঝা


মুসলিম নারীদের ‘নিলাম’ অ্যাপের অভিযোগ থেকে খালাস বিশাল ঝা

মুম্বাইয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৫ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী বিশাল সুধীরকুমার ঝাকে অব্যাহতি (খালাস) দিয়েছে। আদালত দাবি করেছে যে বিতর্কিত ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপ তৈরি বা এতে মুসলিম নারীদের ছবি শেয়ার করার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে বিশাল ছিলেন প্রথম। বিচারিক আদালত পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, প্রসিকিউশন পক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

‘গিটহাব’-এ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি চালু হওয়া ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটিতে সাংবাদিকসহ শতাধিক বিশিষ্ট মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং তথাকথিত অনলাইন ‘নিলামের’ আয়োজন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কীভাবে তার উত্থান: শ্রমিক থেকে চারবারের প্রেসিডেন্ট লুলা

ঘটনার পর ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি মুম্বাই পুলিশ বেঙ্গালুরুর একটি ইনস্টিটিউটের প্রকৌশল ছাত্র বিশাল ঝাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি ছিল, বিশাল ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটির ফলোয়ার ছিলেন, এটি শেয়ার করেছিলেন এবং অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আর টি ইঙ্গলে জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি যে বিশাল তার নিজস্ব 'টুইটার' (বর্তমানে এক্স) অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাপটি শেয়ার করেছিলেন।

আদালত স্পষ্ট করে বলেন, "নথিপত্র অনুযায়ী তার একমাত্র ভূমিকা ছিল যে তিনি 'বুল্লি বাই' অ্যাপটি ফলো বা অনুসরণ করেছিলেন।" ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন, কেবল কোনো অ্যাপ অনুসরণ করা তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের অধীনে কোনো অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অ্যাপটির মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্মাতা নিরজ বিষ্ণোইকে অ্যাপটি তৈরি করতে বিশাল সহায়তা করেছিলেন কিংবা মুসলিম নারীদের ছবি সরবরাহ করেছিলেন—এমন কোনো বস্তুগত প্রমাণ মেলেনি। অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য থাকলেও কেবল তার ওপর ভিত্তি করে অ্যাপ তৈরির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা প্রমাণ হয় না।

আরও পড়ুন: সিডনির নতুন বিমানবন্দর থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন

পূর্বে বিশাল ঝার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উত্যক্ত করা (স্টকিং), মানহানি, নারীর শ্লীলতাহানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

‘বুল্লি বাই’ অ্যাপটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অ্যাপটিতে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী ও সুশীল সমাজের মুসলিম নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভার্চুয়াল নিলামের মহড়া দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে কোনো অর্থ লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় ঘটেনি; মূলত নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করতেই এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে ‘সুল্লি ডিলস’ নামে একই ধরনের আরেকটি অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছিল।

‘বুল্লি বাই’ মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়—যার মধ্যে চারজনকে মুম্বাই পুলিশ এবং দুজনকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বিশাল ঝা অব্যাহতি পাওয়ায় বর্তমানে এই মামলায় অন্য পাঁচজন আসামি রয়েছেন, যারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত থেকে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিচারিক আদালত এই মামলার আরেক আসামি মায়াঙ্ক রাওয়াতের খালাসের আবেদন খারিজ করে দেন। মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নারীদের ছবি ডাউনলোড করে ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপে পোস্ট করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল আদালত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের 'ফাতাহ-৪' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, ভারতের গভীরে আঘাতের সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


পাকিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শক্তির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে পাকিস্তান তাদের দূরপাল্লার কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সফলভাবে বর্ধিত পাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ যোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’-এর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

এই উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের সামরিক বহরে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ডিফেন্স ফোর্সের চিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, এই সাফল্যকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রকৌশলীদের।

ফাতাহ সিরিজের পূর্ববর্তী সংস্করণ ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। তবে নতুন এই সংস্করণের সুনির্দিষ্ট সীমা প্রকাশ করা না হলেও, সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সীমা ৯০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটির মূল বৈশিষ্ট্য কেবল এর দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা নয়, বরং এর নিচু দিয়ে উড়ার প্রযুক্তি। মাটি থেকে মাত্র ৫০ মিটার উপরে ভূ-প্রকৃতির ভাঁজ ধরে সাবসনিক গতিতে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতার কারণে শত্রুপক্ষের রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এটিকে সহজে শনাক্ত করতে পারে না। এর ফলে ভারতের সামরিক বিমানঘাঁটি, কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি বা রসদ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাতাহ-৪ মিসাইলে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক 'অ্যাভিওনিক্স' এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশন সহ 'ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম' (আইএনএস) ও 'ডিজিটাল সিন-ম্যাচিং' প্রযুক্তি। ফলে এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া এটি প্রায় ৩৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক পে-লোড বহন করতে পারে, যা যেকোনো শক্ত ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।

পাকিস্তানি আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি এই ধরনের উচ্চ-নির্ভুলতার কনভেনশনাল বা সনাতন মিসাইল বহরকে শক্তিশালী করছে। পূর্বে ব্যবহৃত সুপারসনিক 'ব্রাহ্মোস' মিসাইলের মতো দ্রুতগতির অস্ত্রের বিপরীতে, ফাতাহ-৪ শত্রুর রাডার ফাঁকি দেওয়ার ওপর বেশি জোর দিয়েছে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সফল পরীক্ষাই শেষ কথা নয়; যুদ্ধের ময়দানে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ভ্রাম্যমাণ লাঞ্চারগুলোর পুনর্নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশ করার বাস্তব সক্ষমতার ওপর। তা সত্ত্বেও, ফাতাহ-৪-এর এই বর্ধিত সংস্করণ যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বিদদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে, তা নিশ্চিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, যারা অপরাধ করে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তাদের দেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সাভার উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের হুমকি নেই এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তাদের পূজা উদযাপন করবে। আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সব বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটে।

সাম্প্রদায়িক বিষয়ের প্রতি নজর রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম, ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান, মো. সালাউদ্দিন বাবু, সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম, আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, সাভার হাইওয়ে থানার প্রতিনিধিসহ স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ এবং সাভার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফিরলো ‘বিরোধী-শূন্য’ ভোটের কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফিরলো ‘বিরোধী-শূন্য’ ভোটের কৌশল

রেজিনগরে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ মুসলিম ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। নিজের গ্রেপ্তারের ঠিক আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন কেন্দ্রের বাইরে অলস দাঁড়িয়ে ছিল এবং পর্যবেক্ষকদের ফোন বন্ধ ছিল, ঠিক তখন পোশাক পরা পুলিশ নিজেরাই ভোট লুটে অংশ নেয়।

নন্দীগ্রাম বিধানসভার সুভাষণী চকে গত ৬ অক্টোবর দেখা গেল এক ভিন্ন দৃশ্য। এক নারী সংবাদমাধ্যমকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, "আমার ভোটারের স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির লোকেরাই এটা করেছে, তাই আমি ভোট দিতে পারিনি।"

অন্যদিকে রেজিনগরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর দাবি, ৩১৫টি বুথের মধ্যে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টিতে তাদের এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। এ দিকে এজেইউপি প্রধান হুমায়ুন কবিরকে কার্যত টানাহেঁচড়া করে পুলিশ গাড়িতে তোলে। সন্ধ্যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। শুভঙ্করবাবু বলেন, "নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর প্রমাণ করে দিল কীভাবে দিনদুপুরে ভোট চুরি হচ্ছে। এখানকার ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন করতে হবে।"

তবে অন্যরকম পরিবেশ দেখা গেল নন্দনায়ক বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মডেল বুথে। গোলাপি ও সাদা বেলুনে সাজানো সেই বুথে ভোট দিতে আসেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘরের ভেতরের সবকটি পোলিং এজেন্টের গলায় ছিল গেরুয়া উত্তরীয়। শুভেন্দুবাবু সাংবাদিকদের বলেন, "২০১৬ সালে আমি ৮২,০০০ ভোটে জিতেছিলাম। আশা করি এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে।"

তার দল বিজেপি অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়িয়ে এক লাখ ৯ হাজারের ফাল্টা উপনির্বাচনের ব্যবধান পার করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ২,৬৬,৪১৫ জন ভোটারের মধ্যে এক লাখের ব্যবধান পেতে হলে বিজয়ী প্রার্থীকে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেতে হবে।

স্মৃতির পাতায় চোখ মেলা যাক ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ঝাড়গ্রামের এক জনসভায় শুভেন্দু নিজেই ফাঁস করেছিলেন ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের নেপথ্য কাহিনী। তিনি বলেছিলেন, "বিডিও অফিসগুলো সশস্ত্র বাহিনী ঘিরে রাখত যাতে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে না পারে। বিরোধী কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতো বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতো। রাতের অন্ধকারে পুলিশের সাহায্যে ফল বদলে দেওয়া হতো।"

সেই সময় তিনি তৃণমূলের পরিবহন মন্ত্রী এবং মুর্শিদাবাদ, মালদা ও পূর্ব মেদিনীপুরের সংগঠনের পর্যবেক্ষক ছিলেন। তবে এই ঘটনাগুলোর কয়েক দিন আগেই মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামে এক সভায় দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অভিপ্সার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, "আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করা।"

পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি

পশ্চিমবঙ্গের ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন সত্যিই এক অদ্ভুত ইতিহাস তৈরি করেছিল। মোট ৫৮,৬৯২টি পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ২০,১৫৯টিতে (প্রায় ৩৪ শতাংশ) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি এবং তার মধ্যে ২০,০৭৬টি আসনেই বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় জয়ী হয় তৃণমূল। এর আগে ২০১৩ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় জয়ের হার ছিল মাত্র ১০.৬৬ শতাংশ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, বিরোধীদের ওপর বাধার কারণে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াতে হয়েছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও একে তৃণমূল গণতন্ত্রের মারাত্মক বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছিল।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অপকর্মের কোনো প্রমাণ আদালতে মেলেনি। তবে তিনি যে রাজনৈতিক কৌশলের কথা মুখে প্রকাশ করেছিলেন এবং দায়িত্বে থাকাকালীন যা ঘটেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের প্রচারের দিকে তাকালে সেই একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি চোখে পড়ে। প্রথম দুটি ধাপ—মিথ্যা মামলা দায়ের করা এবং লড়াই শুরুর আগেই বিরোধীদের সরিয়ে দেওয়া। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী প্রচারের ১৬ দিনের মধ্যে ১১ দিনই হাজতে কাটিয়েছেন, আর তা-ও আবার ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের পুরনো পরোয়ানার ভিত্তিতে। বাম মনোনীত সিপিআই প্রার্থীকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

রেজিনগরে এজেইউপি সমর্থিত প্রার্থী গ্রেপ্তার হন এবং ভোটের দিন হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়। নিজেদের প্রতীক না পাওয়ায় আরএসপি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ায়। আবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) তাদের পূর্ববর্তী প্রতীক 'খাম' চাইলেও তাদের দেওয়া হয় 'আলমারি'। ফলাফল দাঁড়াল—দুজন গ্রেপ্তার, একজন নিগৃহীত, একজন নাম প্রত্যাহারকারী এবং দুজন দলীয় প্রতীকহীন!

তৃতীয় কৌশলটি হলো পুলিশের ব্যবহার। ৬ অক্টোবরের মূল অভিযোগ ছিল—নির্বাচনী নজরদারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কংগ্রেস ও বাম নেতাদের দাবি, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে নন্দীগ্রামে মুসলিম ভোটারদের স্লিপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। রেজিনগরে ভিডিওতে দেখা গেছে পুলিশ ভোটারদের আটকে দিচ্ছে।

চতুর্থ কৌশলটি হলো নির্বাচনের পর বিরোধী শূন্য করা। ২০১৬ সালে শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন ২০১৭ সালের মধ্যে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। ঘটেছিলও তাই; ২৫ জন জেলা পরিষদ সদস্য একে একে তৃণমূলে যোগ দেন। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের দিনেও একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটে। মালদা জেলা পরিষদে তৃণমূলের দলত্যাগীদের কাজে লাগিয়ে দখল নেয় বিজেপি।

এর পাশাপাশি এবার এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে—অনলাইন মাধ্যমের ওপর কোপ। প্রচার থেকে বঞ্চিত হয়ে যখন হুমায়ুন কবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করেছিলেন, ঠিক তখনই একাধিক ফেসবুক পেজ বন্ধ হয়ে যায়। অনুসন্ধানকারী সংস্থা 'অল্ট নিউজ' জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিধিনিষেধের দোহাই দিয়ে মুর্শিদাবাদের অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের পেজ ভারতে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির বর্তমান শক্ত অবস্থান এবং নন্দীগ্রামে তাদের বিগত ভোটের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে জয়ের বিষয়ে সংশয় ছিল না। আসল লড়াই ছিল—জয়ের মার্জিন বা ব্যবধান কত বড় হবে। শুভেন্দু অধিকারী লাখের বেশি ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন।

শুভেন্দুবাবু প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক ব্যানার্জির ৬৮.৪৮ শতাংশ ভোট পাওয়া ছিল কারচুপির ফল। কিন্তু একই যুক্তি যদি পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে দেখা যাবে যে সময় শুভেন্দুবাবু মেদিনীপুরে তৃণমূলের শক্ত কাণ্ডারি ছিলেন, তখন ২০১৪ সালের তামলুক লোকসভা আসনের নন্দীগ্রাম ব্লকে তিনি নিজেই পেয়েছিলেন ৬৮.৩৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি পান ৬৬.৭৮ শতাংশ ভোট। দুটি পরিসংখ্যানে ডায়মন্ড হারবারের ফলাফলের খুবই কাছাকাছি।

তখনকার বুথভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সালে নন্দীগ্রামের ২৪২ নম্বর বুথে ৭২১টি ভোটের মধ্যে ৭০৪টিই পেয়েছিলেন শুভেন্দু। একাধিক বুথে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল তার পক্ষে। ২০১৮ সালে ময়না বিধানসভার ১০টি টানা বুথে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯০.৮ থেকে ৯৮.৯ শতাংশ।

আজ শুভেন্দু অধিকারী যখন ১ লাখ ভোটের ব্যবধানের কথা বলেন, তখন তিনি কার্যত নিজেরই পুরোনো রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যেমনটা ২০২৪ সালে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক ব্যানার্জি করেছিলেন নিজের রেকর্ড ভেঙে ৭ লাখ ব্যবধানের লক্ষ্য রেখে। রাজনৈতিক রঙের বদল হলেও পুরোনো অভ্যাস বদলানো যে সহজ নয়, রাজ্য উপনির্বাচন আবারও তা প্রমাণ করল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষার দাবিতে কাউখালীতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষার দাবিতে কাউখালীতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রতিরোধ ও দেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে পিরোজপুরের কাউখালীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে মহিলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। "সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রতিরোধ করি, সকল নাগরিকদের মানবাধিকার নিশ্চিত করি , এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সংগঠনের সভাপতি সুনন্দা সমদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক ও কাউখালী মহিলা কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কুমকুম ভট্টাচার্য, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, কাউখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সবুজ কুমার রবি, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল হুদা বাবু, নারী নেত্রী প্রভাতী মৃধা, মৌমিতা সাহা, ছায়া সমদ্দার প্রমুখ। বক্তারা সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং মানবাধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংগঠনের সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দার বলেন, আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সর্বজনীন মানবাধিকার। কিন্তু ইদানীং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের আজকের মানববন্ধনের মূল বার্তা একটাই যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রতিরোধ করতে হবে এবং দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%