প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শক্তির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে পাকিস্তান তাদের দূরপাল্লার কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সফলভাবে বর্ধিত পাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ যোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’-এর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
এই উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের সামরিক বহরে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ডিফেন্স ফোর্সের চিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, এই সাফল্যকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রকৌশলীদের।
ফাতাহ সিরিজের পূর্ববর্তী সংস্করণ ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। তবে নতুন এই সংস্করণের সুনির্দিষ্ট সীমা প্রকাশ করা না হলেও, সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সীমা ৯০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটির মূল বৈশিষ্ট্য কেবল এর দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা নয়, বরং এর নিচু দিয়ে উড়ার প্রযুক্তি। মাটি থেকে মাত্র ৫০ মিটার উপরে ভূ-প্রকৃতির ভাঁজ ধরে সাবসনিক গতিতে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতার কারণে শত্রুপক্ষের রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এটিকে সহজে শনাক্ত করতে পারে না। এর ফলে ভারতের সামরিক বিমানঘাঁটি, কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি বা রসদ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাতাহ-৪ মিসাইলে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক 'অ্যাভিওনিক্স' এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশন সহ 'ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম' (আইএনএস) ও 'ডিজিটাল সিন-ম্যাচিং' প্রযুক্তি। ফলে এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া এটি প্রায় ৩৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক পে-লোড বহন করতে পারে, যা যেকোনো শক্ত ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
পাকিস্তানি আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি এই ধরনের উচ্চ-নির্ভুলতার কনভেনশনাল বা সনাতন মিসাইল বহরকে শক্তিশালী করছে। পূর্বে ব্যবহৃত সুপারসনিক 'ব্রাহ্মোস' মিসাইলের মতো দ্রুতগতির অস্ত্রের বিপরীতে, ফাতাহ-৪ শত্রুর রাডার ফাঁকি দেওয়ার ওপর বেশি জোর দিয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সফল পরীক্ষাই শেষ কথা নয়; যুদ্ধের ময়দানে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ভ্রাম্যমাণ লাঞ্চারগুলোর পুনর্নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশ করার বাস্তব সক্ষমতার ওপর। তা সত্ত্বেও, ফাতাহ-৪-এর এই বর্ধিত সংস্করণ যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বিদদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে, তা নিশ্চিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন